আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রাম:

মিথ্যার উপরই সাবেক এমপি চাঁদাবাজ মোস্তাফিজের জম্ম বাঁশখালী আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক গফুর

চট্টগ্রাম অফিস:

বাঁশখালী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাবেক সাংসদ ও বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর।

শনিবার (২৯ জুন) বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়েজিত দলের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে এই অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর।

সমাবেশে অধ্যাপক আবদুল গফুর বলেন, সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বুঝাতে চেষ্টা করেছেন নিজের বাড়ি না করে তিনি দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করেছেন। অথচ এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভণ্ডামি।’

মিথ্যার উপরই সাবেক এমপির জন্ম আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক আবদুল গফুর আরো বলেন, ‘দলীয় কার্যালয় নির্মাণে সাবেক এমপি ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছেন। খানখানাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা, সাবেক চেয়ারম্যান বদরুদ্দীন চৌধুরীর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা, কাথরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইবনে আমিনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, পুকুরিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা মাহবু্ব আলীর কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মদ গালীব সাদলীর কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে অফিস সংলগ্ন ছড়ায় গাইড ওয়াল নির্মাণ করেন মোস্তাফিজ। এভাবে আরও বহু মানুষের কাছে টাকা নিয়েছেন সাবেক এমপি মোস্তাফিজ।’

সাবেক এমপি বিগত দিনে আওয়ামী লীগকে নিজের আখের গোছানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীতে উপজেলা আওয়ামী লীগকে নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। বিগত দিনে টিআর কাবিখাসহ সরকারি টাকা লুটপাট ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে কমিশন আদায়, চাকরি দেয়ার নামে টাকা আদায়, এমনকি সাবেক এমপি ও তার অনুগতদের কারণে বাড়ির বউ-ঝি পর্যন্ত নিরাপদ ছিল না।’

সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা শ্যামল দাশ বলেন, ‘যারা মুলধারার নামে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ডেকে বিগত দিনে বক্তব্য রেখেছেন গলাবাজি করেছেন তারা ভিলেন। এই ভিলেনদের আগামী দিনে প্রতিহত করা হবে।’

শীলকূপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কায়েস সরওয়ার সুমন বলেন, ‘বর্তমান এমপির বাইরে কোন মুলধারা নেই। এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন ও স্নেহধন্য। তার নেতৃত্বেই বাঁশখালী আওয়ামী লীগ চলবে।’

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবু সৈয়দ, দক্ষিণ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার (অর্থ) আবদুর রাজ্জাক, সাবেক পৌর মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী, মাস্টার শামসুল আলম, শীলকূপ ইউপি চেয়ারম্যান কায়েস সরওয়ার সুমন, বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস, কাথরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইবনে আমিন, আওয়ামী লীগ নেতা শ্যামল দাশ, সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সিকদার, সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, আইন কলেজের সাবেক ভিপি রায়হানুল হক প্রমুখ।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাঁশখালী আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় করার জন্য কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি। আমি নিজের টাকা দিয়েই করেছি। যদি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকি, তাহলে গফুরকে প্রমাণ দিতে বলুন। সে এতোদিন পর কেন এসব বলতেছে? জাতীয় নির্বাচনের সময় আমার সাথে ছিল। তখন আমার কাছ থেকে অনেক টাকা মেরে দিয়েছে। আমি কেন্দ্র খরচ দিয়েছিলাম তার হাতে। টাকাগুলো কেন্দ্রে না দিয়ে নিজেই মেরে দিয়েছিল। সে নির্বাচনের সময় মূলত আমার তথ্য পাচার করার জন্য এসেছিল বর্তমান এমপির সাথে আঁতাত করে। আমি কী করতেছি না করতেছি সব পাচার করতো বর্তমান এমপিকে। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন : জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, প্রবাসীরা অকুতোভয় যোদ্ধার মতো পরিবার থেকে দূরে থেকে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান। তাঁদের পাঠানো অর্থেই দেশের অর্ধেকের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো হয়।তাঁদের এই ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানাতেই আমরা এই গণশুনানির আয়োজন করেছি।বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উদ্যোগ ‘প্রবাসীদের জন্য অনলাইন গণশুনানি’ আয়োজন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।গণশুনানিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

এতে বিদেশে অবস্থানরত ১১ জন প্রবাসী সরাসরি অংশ নিয়ে জমিজমা বিরোধ, অর্থ আত্মসাৎ, পারিবারিক জটিলতা, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।

অভিযোগ শোনার পরপরই জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। যেসব বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন, সেগুলোতে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তিনটি খাত-গার্মেন্টস, প্রবাসী আয় ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে বসবাসরত দেড় কোটির মতো প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন।গণশুনানিতে কাতারপ্রবাসী রাঙ্গুনিয়ার রানা সুশীল আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের আবেদন জানান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের পরও অনেক প্রবাসী পরিবার ও সম্পত্তি–সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এসব সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, প্রবাসীদের লিখিত অভিযোগ আগেই সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

শুধু অভিযোগ শোনা নয়, দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে প্রবাসীরা দূরে থেকেও আমাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারছেন। আমরা তাঁদের জানাতে চাই—তাঁরা দূরে নন, আমরা তাঁদের পাশেই আছি।
প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতি বুধবার নিয়মিত গণশুনানির পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হবে।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত। অনেক প্রবাসী দেশে থাকা সম্পত্তি দখল ও হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ওমানপ্রবাসী নুর মোহাম্মদ সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ আনোয়ার নিজস্ব সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির কথা জানান। সৌদি আরব, দুবাই ও আবুধাবিপ্রবাসী আরও কয়েকজন একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন।এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাঁদের সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এ সময় উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের সাথে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতের চট্টগ্রামস্থ সহকারী হাইকমিশনের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন আজ বুধবার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দীর্ঘ চার বছর বাংলাদেশে কর্মরত থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ডা. রাজীব রঞ্জনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় মেয়র বলেন, “বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি। ভারতের এক একটি রাজ্য থেকে আরেকটি রাজ্যের পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ভিন্নতা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশকে ঐক্যবদ্ধ করে চলতে পারার কারণেই ভারত বিশ্বের বুকে একটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমি ব্যক্তি জীবনে অনেকবার ভারতে গিয়েছি, এমনকি পড়াশোনার জন্যও গিয়েছি।তিনি আরও বলেন – বাংলাদেশের অনেক মানুষ ধর্মীয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে যান। তাদের ভিসা প্রসেসিং সহজ হলে এবং ভিসা প্রদানের গতি বাড়লে উভয় দেশের মানুষই উপকৃত হবে।”

বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, “চট্টগ্রাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি নগরী। কারণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখনো অনেকটাই সংরক্ষিত আছে। বিশেষ করে ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা ও ফয়’স লেক এলাকা অত্যন্ত নয়নাভিরাম। চট্টগ্রাম শহরের পাহাড় এবং নদীও অপূর্ব সুন্দর। পর্যটনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ যদি এই সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সার্বিক সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও মেয়র মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান।সাক্ষাৎকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মেয়র মহোদয় বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনারকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ