আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

কয়রায় আশ্রয়ণ প্রক‌ল্পের ঘর নির্মাণে নানা অনিয়ম

আতাউর রহমান তুহিন , কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনার কয়রা উপজেলায় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ৪৯টি ঘর নির্মাণে ব‌্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মনী‌তির তোয়াক্কা না ক‌রে বে‌শি দ‌রে জ‌মি ক্রয়, অ‌বৈধভা‌বে বালু উত্তোলন ও নিচু ক‌রে ভরাট, বেস ঢালাই না দেয়া, ম‌রিচা যুক্ত রড ও নিম্নমা‌নের সামগ্রী ব‌্যবহারসহ বি‌ভিন্ন অ‌নিয়মের অ‌ভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে।
এদিকে, অনিয়মের অভিযোগে ওই প্রকল্পের কাজ ক‌য়েকবার বন্ধ হওয়ায় নির্ধা‌রিত সম‌য়ে উপকার‌ভোগী‌দের কা‌ছে হস্তান্ত‌র ক‌রা সম্ভব হয়‌নি। একপর্যা‌য়ে ২৯ টি ঘর ভে‌ঙে নতুন করে তৈ‌রির নি‌র্দেশনা দেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষ। পুনরায় ঘর নির্মাণ শুরু হ‌লেও যথাযথ নি‌র্দেশনা পালন ক‌রা হ‌চ্ছে না ব‌লে অ‌ভি‌যোগ উঠে‌ছে।

স‌রজ‌মি‌নে ও খোঁজ নি‌য়ে জানা যায়, পূ‌র্বের ম‌রিচা ধরা রড, মেয়াদ উত্তীর্ণ সিমেন্ট, লোনা পানি মিশ্রিত বালি ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার ক‌রে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। অনিয়মে তৈরীকৃত ২৯টি ঘর ভেঙ্গে নতুন তৈরীর কথা থাকলে তা যথাযথ পালন করা হ‌চ্ছে না। আগের নির্মাণকৃত ঘ‌রের ভিত ভে‌ঙে নতুন করে বেস ঢালাই দিয়ে তৈরির কথা থাক‌লেও তা করা হ‌চ্ছে না। ক‌য়েক‌টি ঘ‌র নামমাত্র ভে‌ঙে পুরাতন ভিত এর উপ‌রেই ইটের গাঁথু‌নি দেয়া হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া এখনও ১৩টি ঘর ভাঙা হয়নি। ইট, বালু ও খোয়ার মান খারাপ হওয়ায় ঘরের স্থায়িত্ব নি‌য়ে প্রশ্ন দেখা দি‌য়ে‌ছে। ঘরের ভিত তিন ফুট উচু করার কথা থাকলেও মাত্র দেড় ফুট বালুর উপরে ঘর তৈরি করা হচ্ছে। বন‌্যার পা‌নির লে‌বে‌লের নী‌চে ঘরের মেঝে নির্মাণ করায় সামান‌্য বৃ‌ষ্টি‌তে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

আরও জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির অন্য সদস্যদের অবহিত না করে সভাপতি নিজের পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। একই সাথে প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রীও তিনি নিজের ইচ্ছামত ক্রয় করছেন। কামরুল ইসলাম নামে যে ঠিকাদারকে দিয়ে ঘর নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে এর আগে বীর নিবাস প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ করেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ক‌পোতাক্ষ নদ থে‌কে অ‌বৈধভা‌বে বালু উত্তোলন ক‌রে প্রক‌ল্পের স্থান ভরাট করা হয়। অ‌বৈধ বালু ব‌্যবহা‌রে বরা‌দ্দের অ‌র্ধেক লোপাট হ‌য়ে‌ছে। নোনা পা‌নি ঢুকায় ফসলসহ কৃ‌ষি জ‌মির ক্ষ‌তি হ‌য়। স্থানীয়‌দের বাঁধার মু‌খে বালু ভরাট দীর্ঘ‌দিন বন্ধ থা‌কে। একপর্যা‌য়ে ফের ক‌পোতা‌ক্ষের বালু দি‌য়েই ভরাট করা হয়। অন্যদিকে ঘরগুলো নীচু জায়গায় স্থাপন করায় সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আরো জানা গেছে, ২০২৩ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোমিনুর রহমান আশ্রয় প্রকল্পের জমিটি রেজিস্ট্রেশন করেন। জ‌মি রে‌জি‌স্ট্রেশ‌নের সময় প্রকৃত মূ‌ল্যের অ‌নেক বে‌শি দে‌খি‌য়ে দ‌লিল করার অ‌ভি‌যোগ ওঠে। এছাড়া ক‌পোতাক্ষ‌ ন‌দ থে‌কে অ‌বৈধভা‌বে বালু উত্তোলন ক‌রে ভরাট কর‌তে চাইলে স্থানীয়‌দের বাঁধার মু‌খে প‌ড়েন। এ বিষ‌য়ে ওই সময় প‌ত্রিকায় প্রতি‌বেদন প্রকাশ পায়। একপর্যা‌য়ে তি‌নি বদলী হওয়ার পরে উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা‌ হি‌সে‌বে মোঃ কামাল হো‌সেন যোগদান ক‌রে ফের ঘর নির্মাণ কাজ শুরু ক‌রেন। তখন ত‌লে ঢালাই না দি‌য়ে এবং নিম্নমা‌নের ইট দি‌য়ে ঘর তৈ‌রি করার ব‌্যাপক অ‌ভি‌যোগ ও‌ঠে। জাতীয় নির্বাচ‌নের প‌রে তি‌নি বদলী হওয়ায় কয়রা উপ‌জেলার সহকারী ক‌মিশনার (ভূ‌মি) মোঃ তা‌রিক উজ-জামান ভারপ্রাপ্ত উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দা‌য়িত্ব পান। পদা‌ধিকার ব‌লে তি‌নি প্রক‌ল্পের সভাপ‌তির দা‌য়িত্বপ্রাপ্ত হ‌য়ে ফের কাজ শুরু ক‌রেন। উর্ধতন কর্তৃপ‌ক্ষের ঘর ভে‌ঙে তৈ‌রি করার নির্দেশন যথাযথ পালন না করেই পূ‌র্বের ম‌রিচা ধরা রড দি‌য়ে কাজ করেন তি‌নি। এরপ‌রে সম্প্রতি নতুন উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হি‌সে‌বে রুলী বিশ্বাস যোগদান করেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় প্রকল্পের সদস্য সচিব পিআইও মামুনার রশিদ, সদস্য- উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ দারুল হুদা, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস, এম, বাহারুল ইসলামদের সাথে। তারা তিন জনই এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে মত প্রকাশ করেন। আরও অ‌ভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৪৯টি ঘর নির্মা‌ণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ক‌মি‌টির সদস্য সচিব ও সদস্যদের অজান্তে নিজের খেয়াল খুশি মত বিল ভাউচার তৈরী করছেন সভাপ‌তি।

এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলা সুজনের সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের দেয়া ৪৯টি ঘর নির্মানের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে ঘর গুলো হওয়ার কথা। কিন্তু ঘর নির্মা‌ণের বিষ‌য়ে সাধারণ সদস‌্যরা কিছুই না জা‌নার বিষয়‌টি অত‌্যন্ত দুঃখজনক। তি‌নি আরও ব‌লেন, পূ‌র্বের ম‌রিচা ধরা রড, মেয়াদ উত্তীর্ণ সিমেন্ট, লোনা পানি মিশ্রিত বালি ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে নামমাত্র কয়েকটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্বে ব্যাপক অনিয়মে তৈরীকৃত ২৯টি ঘর ভেঙ্গে নতুন করে তৈরী করার কথা থাকলে তা এখনও বহাল আছে। এছাড়া মাটি ছাড়া ৩ ফুট বালু দিয়ে ঘরের ভিত উচু করার কথা থাকলেও মাত্র দেড় ফুট বালির উপরে ঘর তৈরি করা হয়েছে যা হুমকির মু‌খে।

জানতে চাইলে নির্মাণ কাজের ঠিকাদার কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ঘর নির্মাণ কাজের জন্য মালামাল বাদে আমাকে ৩৯ হাজার টাকায় চুক্তি করে দেওয়া হয়েছে। ঘরের নির্মাণ সামগ্রী প্রকল্পের সভাপতি ইউএনও স‌্যার কিনে দিচ্ছেন এবং নিজেই কাজের তদারকি করছেন। তাছাড়া ঘর নির্মাণে প্রকল্পের নক্সা ও প্রাক্কলন অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে কাজের মান খারাপ হওয়ায় কিছু নেই।

এ বিষ‌য়ে সদ‌্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবিএম তারিক উজ-জামান বলেন, আমি প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণের আগে কিছু অনিয়ম হয়েছিল। ‌ঘর নির্মা‌ণে ত‌লে(ভি‌ট) ঢালাই না দেওয়ায় ২৯‌টি ঘরের ভিট ও ওয়াল ভে‌ঙে নতুন ক‌রে তৈ‌রির নি‌র্দেশনা দেয়া হয়। ১৬ টি ঘর ভে‌ঙে ফের তৈ‌রি করা হ‌য়ে‌ছে। বাকী ১৩‌টি ঘরও ভে‌ঙে নক্সা অনুযা‌য়ি তৈ‌রি করা হ‌বে।

নবগত কয়রা উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুলী বিশ্বাস ব‌লেন, আমি নতুন যোগদান ক‌রে‌ছি। এ বিষ‌য়ে আমার জানা নেই। বিষয়‌টি খ‌তি‌য়ে দে‌খ‌বো।

প্রসঙ্গত, আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের গৃহ প্রদানের জন্য উপজেলা সদরের দক্ষিণ মদিনাবাদ গ্রামে সাড়ে ৪ একর জমি কিনে সেখানে ৪৯টি সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুম থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হালদা নদীর চার জায়গায় কার্প-জাতীয় রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ প্রজনন মৌসুমের প্রথম দফায় নমুনা ডিম ছেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ও দুপুরে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র এই হালদা নদীর গড়দুয়ারা, আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও কাগতিয়া এলাকাসহ কয়েকটি অংশ থেকে নমুনা ডিম সংগ্রহ করেন সংগ্রহকারীরা।ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম করে ডিম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আবার দুপুরে এক থেকে দেড় কেজি ডিম পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।

হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই এই চার মাস হালদায় কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এই মৌসুমের যেদিন বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নামে, সেদিন ডিম ছাড়ে মা মাছ। প্রজনন মৌসুমে মা মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকেন ৫০০ থেকে ৭০০ জন সংগ্রহকারী। তবে গত কয়েকবছর ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ডিম সংগ্রহকারীর সংখ্যা কমে এসেছে।

হালদা-গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়ার আগে অল্প পরিমাণ ডিম ছাড়ে। এর কারণ ডিমভর্তি মা মাছেরা বজ্রপাতের কারণে বা জোয়ার–ভাটার পানির চাপে কিছু কিছু ডিম ছেড়ে দেয়। এগুলোকে নমুনা ডিম বলি আমরা। নমুনা ডিম পাওয়া গেলে বোঝা যায় পুরোদমে ডিম ছাড়ার সময় আসন্ন।
মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে, এই নদী থেকে গত বছর ১৪ হাজার কেজি মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে আহরণকারীরা। এর আগে ২০২০ সালে রেকর্ডসংখ্যক ২৫ হাজার কেজি ডিম পাওয়া যায়।

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ