কয়রায় আশ্রয়ণ প্রক‌ল্পের ঘর নির্মাণে নানা অনিয়ম

আতাউর রহমান তুহিন , কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনার কয়রা উপজেলায় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ৪৯টি ঘর নির্মাণে ব‌্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মনী‌তির তোয়াক্কা না ক‌রে বে‌শি দ‌রে জ‌মি ক্রয়, অ‌বৈধভা‌বে বালু উত্তোলন ও নিচু ক‌রে ভরাট, বেস ঢালাই না দেয়া, ম‌রিচা যুক্ত রড ও নিম্নমা‌নের সামগ্রী ব‌্যবহারসহ বি‌ভিন্ন অ‌নিয়মের অ‌ভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে।
এদিকে, অনিয়মের অভিযোগে ওই প্রকল্পের কাজ ক‌য়েকবার বন্ধ হওয়ায় নির্ধা‌রিত সম‌য়ে উপকার‌ভোগী‌দের কা‌ছে হস্তান্ত‌র ক‌রা সম্ভব হয়‌নি। একপর্যা‌য়ে ২৯ টি ঘর ভে‌ঙে নতুন করে তৈ‌রির নি‌র্দেশনা দেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষ। পুনরায় ঘর নির্মাণ শুরু হ‌লেও যথাযথ নি‌র্দেশনা পালন ক‌রা হ‌চ্ছে না ব‌লে অ‌ভি‌যোগ উঠে‌ছে।

স‌রজ‌মি‌নে ও খোঁজ নি‌য়ে জানা যায়, পূ‌র্বের ম‌রিচা ধরা রড, মেয়াদ উত্তীর্ণ সিমেন্ট, লোনা পানি মিশ্রিত বালি ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার ক‌রে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। অনিয়মে তৈরীকৃত ২৯টি ঘর ভেঙ্গে নতুন তৈরীর কথা থাকলে তা যথাযথ পালন করা হ‌চ্ছে না। আগের নির্মাণকৃত ঘ‌রের ভিত ভে‌ঙে নতুন করে বেস ঢালাই দিয়ে তৈরির কথা থাক‌লেও তা করা হ‌চ্ছে না। ক‌য়েক‌টি ঘ‌র নামমাত্র ভে‌ঙে পুরাতন ভিত এর উপ‌রেই ইটের গাঁথু‌নি দেয়া হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া এখনও ১৩টি ঘর ভাঙা হয়নি। ইট, বালু ও খোয়ার মান খারাপ হওয়ায় ঘরের স্থায়িত্ব নি‌য়ে প্রশ্ন দেখা দি‌য়ে‌ছে। ঘরের ভিত তিন ফুট উচু করার কথা থাকলেও মাত্র দেড় ফুট বালুর উপরে ঘর তৈরি করা হচ্ছে। বন‌্যার পা‌নির লে‌বে‌লের নী‌চে ঘরের মেঝে নির্মাণ করায় সামান‌্য বৃ‌ষ্টি‌তে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

আরও জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির অন্য সদস্যদের অবহিত না করে সভাপতি নিজের পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। একই সাথে প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রীও তিনি নিজের ইচ্ছামত ক্রয় করছেন। কামরুল ইসলাম নামে যে ঠিকাদারকে দিয়ে ঘর নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে এর আগে বীর নিবাস প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ করেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ক‌পোতাক্ষ নদ থে‌কে অ‌বৈধভা‌বে বালু উত্তোলন ক‌রে প্রক‌ল্পের স্থান ভরাট করা হয়। অ‌বৈধ বালু ব‌্যবহা‌রে বরা‌দ্দের অ‌র্ধেক লোপাট হ‌য়ে‌ছে। নোনা পা‌নি ঢুকায় ফসলসহ কৃ‌ষি জ‌মির ক্ষ‌তি হ‌য়। স্থানীয়‌দের বাঁধার মু‌খে বালু ভরাট দীর্ঘ‌দিন বন্ধ থা‌কে। একপর্যা‌য়ে ফের ক‌পোতা‌ক্ষের বালু দি‌য়েই ভরাট করা হয়। অন্যদিকে ঘরগুলো নীচু জায়গায় স্থাপন করায় সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আরো জানা গেছে, ২০২৩ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোমিনুর রহমান আশ্রয় প্রকল্পের জমিটি রেজিস্ট্রেশন করেন। জ‌মি রে‌জি‌স্ট্রেশ‌নের সময় প্রকৃত মূ‌ল্যের অ‌নেক বে‌শি দে‌খি‌য়ে দ‌লিল করার অ‌ভি‌যোগ ওঠে। এছাড়া ক‌পোতাক্ষ‌ ন‌দ থে‌কে অ‌বৈধভা‌বে বালু উত্তোলন ক‌রে ভরাট কর‌তে চাইলে স্থানীয়‌দের বাঁধার মু‌খে প‌ড়েন। এ বিষ‌য়ে ওই সময় প‌ত্রিকায় প্রতি‌বেদন প্রকাশ পায়। একপর্যা‌য়ে তি‌নি বদলী হওয়ার পরে উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা‌ হি‌সে‌বে মোঃ কামাল হো‌সেন যোগদান ক‌রে ফের ঘর নির্মাণ কাজ শুরু ক‌রেন। তখন ত‌লে ঢালাই না দি‌য়ে এবং নিম্নমা‌নের ইট দি‌য়ে ঘর তৈ‌রি করার ব‌্যাপক অ‌ভি‌যোগ ও‌ঠে। জাতীয় নির্বাচ‌নের প‌রে তি‌নি বদলী হওয়ায় কয়রা উপ‌জেলার সহকারী ক‌মিশনার (ভূ‌মি) মোঃ তা‌রিক উজ-জামান ভারপ্রাপ্ত উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দা‌য়িত্ব পান। পদা‌ধিকার ব‌লে তি‌নি প্রক‌ল্পের সভাপ‌তির দা‌য়িত্বপ্রাপ্ত হ‌য়ে ফের কাজ শুরু ক‌রেন। উর্ধতন কর্তৃপ‌ক্ষের ঘর ভে‌ঙে তৈ‌রি করার নির্দেশন যথাযথ পালন না করেই পূ‌র্বের ম‌রিচা ধরা রড দি‌য়ে কাজ করেন তি‌নি। এরপ‌রে সম্প্রতি নতুন উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হি‌সে‌বে রুলী বিশ্বাস যোগদান করেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় প্রকল্পের সদস্য সচিব পিআইও মামুনার রশিদ, সদস্য- উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ দারুল হুদা, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস, এম, বাহারুল ইসলামদের সাথে। তারা তিন জনই এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে মত প্রকাশ করেন। আরও অ‌ভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৪৯টি ঘর নির্মা‌ণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ক‌মি‌টির সদস্য সচিব ও সদস্যদের অজান্তে নিজের খেয়াল খুশি মত বিল ভাউচার তৈরী করছেন সভাপ‌তি।

এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলা সুজনের সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের দেয়া ৪৯টি ঘর নির্মানের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে ঘর গুলো হওয়ার কথা। কিন্তু ঘর নির্মা‌ণের বিষ‌য়ে সাধারণ সদস‌্যরা কিছুই না জা‌নার বিষয়‌টি অত‌্যন্ত দুঃখজনক। তি‌নি আরও ব‌লেন, পূ‌র্বের ম‌রিচা ধরা রড, মেয়াদ উত্তীর্ণ সিমেন্ট, লোনা পানি মিশ্রিত বালি ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে নামমাত্র কয়েকটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্বে ব্যাপক অনিয়মে তৈরীকৃত ২৯টি ঘর ভেঙ্গে নতুন করে তৈরী করার কথা থাকলে তা এখনও বহাল আছে। এছাড়া মাটি ছাড়া ৩ ফুট বালু দিয়ে ঘরের ভিত উচু করার কথা থাকলেও মাত্র দেড় ফুট বালির উপরে ঘর তৈরি করা হয়েছে যা হুমকির মু‌খে।

জানতে চাইলে নির্মাণ কাজের ঠিকাদার কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ঘর নির্মাণ কাজের জন্য মালামাল বাদে আমাকে ৩৯ হাজার টাকায় চুক্তি করে দেওয়া হয়েছে। ঘরের নির্মাণ সামগ্রী প্রকল্পের সভাপতি ইউএনও স‌্যার কিনে দিচ্ছেন এবং নিজেই কাজের তদারকি করছেন। তাছাড়া ঘর নির্মাণে প্রকল্পের নক্সা ও প্রাক্কলন অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে কাজের মান খারাপ হওয়ায় কিছু নেই।

এ বিষ‌য়ে সদ‌্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবিএম তারিক উজ-জামান বলেন, আমি প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণের আগে কিছু অনিয়ম হয়েছিল। ‌ঘর নির্মা‌ণে ত‌লে(ভি‌ট) ঢালাই না দেওয়ায় ২৯‌টি ঘরের ভিট ও ওয়াল ভে‌ঙে নতুন ক‌রে তৈ‌রির নি‌র্দেশনা দেয়া হয়। ১৬ টি ঘর ভে‌ঙে ফের তৈ‌রি করা হ‌য়ে‌ছে। বাকী ১৩‌টি ঘরও ভে‌ঙে নক্সা অনুযা‌য়ি তৈ‌রি করা হ‌বে।

নবগত কয়রা উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুলী বিশ্বাস ব‌লেন, আমি নতুন যোগদান ক‌রে‌ছি। এ বিষ‌য়ে আমার জানা নেই। বিষয়‌টি খ‌তি‌য়ে দে‌খ‌বো।

প্রসঙ্গত, আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের গৃহ প্রদানের জন্য উপজেলা সদরের দক্ষিণ মদিনাবাদ গ্রামে সাড়ে ৪ একর জমি কিনে সেখানে ৪৯টি সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুম থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিমন্ত্রী, বৃক্ষ রেপন ও স্টেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেল ও সড়ক পথের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ হাবিব আকস্মিক সফরে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্টেশন এলাকার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
স্টেশনে পৌঁছালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. মমিনুল ইসলাম মামুন মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব লুৎফুর রহমান কাজল, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব), প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) এবং রেলওয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।সফরকালে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের পরিবেশ, অবকাঠামো এবং চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে দেখা যাচ্ছেনা ৩৬ ট্রাফিক সহায়ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ (ট্যাগ)-এর কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। যার ফলে নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন করে আবারো চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অর্থ সংকটের কারণে ট্রাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ (ট্যাগ)-এর এমন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যার ফলে নগরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন না ৩৬ জন ট্যাগ সদস্য। তবে ট্রাফিক পুলিশ বলছেন, এই পরিস্থিতিতে সিএমপির নিজস্ব জনবল দিয়েই চলবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহায়ক সদস্যদের সম্পৃক্ততা ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছিল। তাদের কার্যক্রম সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু বাজেট সংকটের কারণে তাদের কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশকে যানজট নিরসনে বেগ পেতে হবে।

এদিকে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পরপরই সেবা পুনরায় চালুর দাবিতে সরকারের উচ্চপর্যায়, পুলিশ সদর দপ্তর ও সিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ট্যাগ সদস্যরা। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, সংকটময় সময়ে পুলিশের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নগরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে কার্যক্রম পুনর্বহাল এবং সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে যখন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ সংকটে পড়ে, তখন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ট্রাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ মাঠে নামে। এরপর থেকে ট্রাফিক কনস্টেবল, সার্জেন্ট, ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ট্রাফিক সহায়তাকারীদের দাবি, আয়তনের তুলনায় চট্টগ্রাম নগরে প্রয়োজনীয় সড়ক না থাকায় প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বন্দর নগরীর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করে যানজট নিয়ন্ত্রণ, পথচারী ও চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেছেন তারা।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তারা প্রায় ১৭ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠাতে ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তা করেছেন। এছাড়া ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে ৭ হাজারের বেশি যানবাহন আটক এবং ৯ হাজারেরও বেশি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। একই সময়ে বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ১৫০ জনের বেশি মোবাইল চোর ও ছিনতাইকারীকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া অন্তত আটটি হত্যা মামলার সাক্ষী হিসেবে ট্যাগ সদস্যরা আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। ফলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ সদস্যদের দাবি, তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮-এর ১০ ধারা অনুযায়ী সহায়ক পুলিশ হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি প্রস্তাব পাঠান। ওই আবেদনের সঙ্গে ৩৬ জন সদস্যের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিষয়টি প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ট্যাগ সদস্যদের পক্ষে ইনচার্জ মো. আজিম উদ্দিন ছিদ্দিকী বলেন, আমরা শুরু থেকেই জনস্বার্থে পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, অপরাধী ধরতেও সহযোগিতা করেছি। আজ অর্থ সংকটের কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু এতে শুধু আমরা নই, নগরবাসীও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তিনি বলেন, আমরা সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী। এখানে যে সম্মানী পেতাম, তা দিয়েই পড়াশোনার খরচ ও পরিবারকে সহায়তা করতাম। এখন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়বেন। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করা হোক।

অন্যদিকে লিখিত আবেদনে ট্যাগ সদস্যরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- মামলার সাক্ষী হওয়ায় সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্রাফিক সহায়তাকারী কার্যক্রম পুনরায় চালু রাখা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও নগরবাসীর সেবার স্বার্থে প্রকল্প অব্যাহত রাখা, আর্থিক সংকটে শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা এবং নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আগের মতো দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, ট্রাফিক সহযোগী সদস্যরা মূলত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তাদের সম্মানী, ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় জড়িত রয়েছে। এ কারণে আপাতত ট্যাগ সদস্যদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এখন সিএমপির নিজস্ব জনবল দিয়েই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হবে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ