চট্টগ্রাম মহানগর

২ লক্ষ ১০ হাজার ৯৮৪টি হোল্ডিং থেকে লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ শতাংশ পৌরকর আদায়

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এর নিজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান খাত পৌরকর আদায়। আপিলে হোল্ডিং ট্যাক্স ‘সহনীয়’ করাসহ নানা উদ্যোগ নেয়ায় এবার চসিকে সর্বোচ্চে পৌরকর আদায় হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ উন্নয়ন কাজে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ম্যাচিং ফান্ডের যোগান দিতে হয় চসিককে। এই অর্থের সংস্থানে রাজস্ব আদায়ের উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে পৌরকর আদায়ে বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে চসিক।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরে বর্তমানে ২ লক্ষ ১০ হাজার ৯৮৪টি সরকারি–বেসরকারি হোল্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫১৬টি সরকারি এবং ২ লক্ষ ৯ হাজার ৪৬৮টি বেসরকারি হোল্ডিং রয়েছে। এসব হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ৩৮৪ কোটি ৭৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ টাকা পৌরকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। বিপরীতে ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৮০৫ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ১১৫ কোটি ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ২১টা পৌরকর এসে বেসরাকরি হোল্ডিংয়ে বিপরীতে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ শতাংশ। সরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে আদায় হয় ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৮৪ টাকা।
এর আগের অর্থবছরের (২০২২–২০২৩) লক্ষ্যমাত্রার ৪৭ শতাংশ পূরণ হয়। অর্থবছরটিতে ৩৯৭ কোটি ৫০ লাখ ৭৪ হাজার ৯৪২ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ১৮৬ কোটি ৯৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৩ টাকা। ওই হিসেবে পূর্বের অর্থবছরের চেয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ২১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৫ হাজার ২৩২ টাকা বেশি পৌরকর আদায় হয়েছে।
চসিকের প্রধান রজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সহনীয় পর্যায়ে আপিল নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি নিয়মিত টাস্কফোর্স পরিচালনা, করদাতাদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কঠোর মনিটরিংসহ নানা উদ্যোগ নেয়ায় গত ২৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পৌরকর আদায় হয়েছে।
জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশন অ্যাক্ট ২০০৯ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে চসিক পৌরকর আদায় করে। বর্তমানে ২৫টি ওয়ার্ড থেকে ১৭ শতাংশ এবং ১৬টি ওয়ার্ড থেকে ১৪ শতাংশ পৌরকর আদায় করে চসিক। ১৭ শতাংশ পৌরকরের মধ্যে ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাঙ (গৃহকর), ৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন রেইট এবং ৭ শতাংশ আর্বজনা অপসারণ রেইট রয়েছে। যেসব ওয়ার্ড থেকে ১৪ শতাংশ পৌরকর আদায় করা হয় ওসব ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ রেইট নেয়া হয় ৩ শতাংশ।
এদিকে পৌরকরের বাইরে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ ৯২ হাজার ৭০৩ টাকা ট্রেড লাইসেন্স ফি, ৮৫ কোটি ৬৬ হাজার ৭৮১ টাকা ভূমি হস্তান্তর কর, ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬০ টাকা বিজ্ঞাপন কর, ৫ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার ১১৪ টাকা সপসাইন ফি, ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৪ টাকা প্রমোদকর ফি, ৫ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ টাকা যান্ত্রিক যানবাহন ফি ও ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৪ টাকা অযান্ত্রিক ফি আদায় করে বিদায়ী অর্থবছরে। এছাড়া এস্টেট শাখা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৪ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার ৬১১ টাকা। সবমিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ৩৭২ কোটি ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৬ টাকা রাজস্ব আদায় করে চসিক। যা পূর্বের ২০২২–২০২৩ অর্থবছরের চেয়ে ১৬ কোটি ১৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বেশি। পূর্বের অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৫৫ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার ২৬৯ টাকা।
চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় করার জন্য আমি যে পন্থার ঘোষণা দিয়েছিলাম সেটা অবলম্বন করেছি। আপিলে করদাতাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহনীয় করে দিয়েছি। এতে করদাতারা সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে উৎসাহী হন। আমি হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি না করে আওতা বৃদ্ধির পক্ষে। তাই মানুষের উপর হোল্ডিং ট্যাক্সের চাপ কমেছে। তিনি বলেন, করদাতাদের পৌরকর আপিল নিষ্পত্তিকরণের লক্ষ্যে ৬টি রিভিউ বোর্ড গঠন করা হয়। উক্ত রিভিউ বোর্ডে আমি নিজে উপস্থিত থেকে গণশুনানির মাধ্যমে করদাতাদের চাহিদামতো সহনীয় পর্যায়ে কর মূল্যায়ন করায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে করদাতারা আগ্রহ নিয়ে আপিল শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বকেয়া কর পরিশোধের সুবিধার্থে সারচার্জ মওকুফের সুবিধা দেওয়া হয়েছে বিধায় করদাতারা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করছেন। নগরবাসীর গৃহকর নিয়ে যে অসন্তোষ ছিল তা প্রশমিত হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাহসী মানুষদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তাই এই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহতদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী সেনা কল্যাণ কনভেনশন সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। সঞ্চালনা করেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ এর যুগ্ম সম্পাদক আহমদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রদের সামনের সারিতে রেখে আমরা পেছন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। শেখ হাসিনা যাতে আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক দলের নামে আখ্যায়িত করতে না পারে, সে কারণেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে আমরা রাজপথে ছিলাম এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছি।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধদের দেখতে এবং শহীদদের মরদেহের খোঁজ নিতে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গিয়েছি। সেই সময় চিকিৎসকরাও অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

মেয়র বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত, পঙ্গু ও দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের সম্মান, পুনর্বাসন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মতোই জাতির সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত থাকুক।তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল করি বলে সব কৃতিত্ব আমাদের, এমন দাবি করি না। জুলাই আন্দোলন ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। এই ঐক্যের শক্তিই স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এখন প্রয়োজন নতুন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা।

নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিথ্যা ও অপপ্রচারের রাজনীতি নয়, বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নই এখন সময়ের দাবি।চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে।তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতি অম্লান রাখতেই এ আয়োজন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীরা অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারা রাজপথ ছেড়ে যাননি। সেই দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।অনুষ্ঠানে ১২ জন শহিদ পরিবার এবং ১১০ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শহিদ ফয়সাল শান্তের বাবা, আমরা জুলাই যোদ্ধা চট্টগ্রামের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম আবির, স্মৃতিচারণ করেন আহত জুলাই যোদ্ধা গাজী রাসেল, ওসমান কাশেমী, মো. লিটন, সোলাইমান স্বপন। আয়োজক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন শহিদুল ইসলাম সজীব।

বোয়ালখালী পৌরসভার আমান আলী ও নজু মিয়া ফকির সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বহদ্দারপাড়া এলাকার আমান আলী ও নজু মিয়া ফকির সড়কের উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে বহদ্দারপাড়া এলাকার আমান আলী ও নজু মিয়া ফকির সড়কের উন্নয়ন কাজের

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো.শওকত আলম। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়ন কাজের সূচনা করেন বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজি আবু আকতার ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম,পৌরসভা বিএনপি নেতা ও কাস্তুরী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক মো.লোকমান, বিএনপি নেতা বশির আহমদ, মো. সেলিম, যুবদল নেতা একরামুল হক জিকু, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, খোরশেদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিএনপি ও
অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ,দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মো. শওকত আলম, বোয়ালখালী পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতিমা এবং হাজি আবু আকতারের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সড়ক গুলোর উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে।

এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।তারা আরও বলেন, সড়ক গুলোর উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় জনগণের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ