আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগর

২ লক্ষ ১০ হাজার ৯৮৪টি হোল্ডিং থেকে লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ শতাংশ পৌরকর আদায়

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এর নিজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান খাত পৌরকর আদায়। আপিলে হোল্ডিং ট্যাক্স ‘সহনীয়’ করাসহ নানা উদ্যোগ নেয়ায় এবার চসিকে সর্বোচ্চে পৌরকর আদায় হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ উন্নয়ন কাজে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ম্যাচিং ফান্ডের যোগান দিতে হয় চসিককে। এই অর্থের সংস্থানে রাজস্ব আদায়ের উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে পৌরকর আদায়ে বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে চসিক।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরে বর্তমানে ২ লক্ষ ১০ হাজার ৯৮৪টি সরকারি–বেসরকারি হোল্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫১৬টি সরকারি এবং ২ লক্ষ ৯ হাজার ৪৬৮টি বেসরকারি হোল্ডিং রয়েছে। এসব হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ৩৮৪ কোটি ৭৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ টাকা পৌরকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। বিপরীতে ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৮০৫ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ১১৫ কোটি ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ২১টা পৌরকর এসে বেসরাকরি হোল্ডিংয়ে বিপরীতে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ শতাংশ। সরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে আদায় হয় ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৮৪ টাকা।
এর আগের অর্থবছরের (২০২২–২০২৩) লক্ষ্যমাত্রার ৪৭ শতাংশ পূরণ হয়। অর্থবছরটিতে ৩৯৭ কোটি ৫০ লাখ ৭৪ হাজার ৯৪২ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ১৮৬ কোটি ৯৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৩ টাকা। ওই হিসেবে পূর্বের অর্থবছরের চেয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ২১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৫ হাজার ২৩২ টাকা বেশি পৌরকর আদায় হয়েছে।
চসিকের প্রধান রজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সহনীয় পর্যায়ে আপিল নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি নিয়মিত টাস্কফোর্স পরিচালনা, করদাতাদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কঠোর মনিটরিংসহ নানা উদ্যোগ নেয়ায় গত ২৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পৌরকর আদায় হয়েছে।
জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশন অ্যাক্ট ২০০৯ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে চসিক পৌরকর আদায় করে। বর্তমানে ২৫টি ওয়ার্ড থেকে ১৭ শতাংশ এবং ১৬টি ওয়ার্ড থেকে ১৪ শতাংশ পৌরকর আদায় করে চসিক। ১৭ শতাংশ পৌরকরের মধ্যে ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাঙ (গৃহকর), ৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন রেইট এবং ৭ শতাংশ আর্বজনা অপসারণ রেইট রয়েছে। যেসব ওয়ার্ড থেকে ১৪ শতাংশ পৌরকর আদায় করা হয় ওসব ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ রেইট নেয়া হয় ৩ শতাংশ।
এদিকে পৌরকরের বাইরে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ ৯২ হাজার ৭০৩ টাকা ট্রেড লাইসেন্স ফি, ৮৫ কোটি ৬৬ হাজার ৭৮১ টাকা ভূমি হস্তান্তর কর, ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬০ টাকা বিজ্ঞাপন কর, ৫ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার ১১৪ টাকা সপসাইন ফি, ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৪ টাকা প্রমোদকর ফি, ৫ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ টাকা যান্ত্রিক যানবাহন ফি ও ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৪ টাকা অযান্ত্রিক ফি আদায় করে বিদায়ী অর্থবছরে। এছাড়া এস্টেট শাখা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৪ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার ৬১১ টাকা। সবমিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ৩৭২ কোটি ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৬ টাকা রাজস্ব আদায় করে চসিক। যা পূর্বের ২০২২–২০২৩ অর্থবছরের চেয়ে ১৬ কোটি ১৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বেশি। পূর্বের অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৫৫ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার ২৬৯ টাকা।
চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় করার জন্য আমি যে পন্থার ঘোষণা দিয়েছিলাম সেটা অবলম্বন করেছি। আপিলে করদাতাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহনীয় করে দিয়েছি। এতে করদাতারা সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে উৎসাহী হন। আমি হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি না করে আওতা বৃদ্ধির পক্ষে। তাই মানুষের উপর হোল্ডিং ট্যাক্সের চাপ কমেছে। তিনি বলেন, করদাতাদের পৌরকর আপিল নিষ্পত্তিকরণের লক্ষ্যে ৬টি রিভিউ বোর্ড গঠন করা হয়। উক্ত রিভিউ বোর্ডে আমি নিজে উপস্থিত থেকে গণশুনানির মাধ্যমে করদাতাদের চাহিদামতো সহনীয় পর্যায়ে কর মূল্যায়ন করায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে করদাতারা আগ্রহ নিয়ে আপিল শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বকেয়া কর পরিশোধের সুবিধার্থে সারচার্জ মওকুফের সুবিধা দেওয়া হয়েছে বিধায় করদাতারা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করছেন। নগরবাসীর গৃহকর নিয়ে যে অসন্তোষ ছিল তা প্রশমিত হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ