আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

গ্যাস বাবুর ফেলে দেওয়া ফোন উদ্ধার অভিযানে ঝিনাইদহে ডিবি প্রধান

রবিন মাহমুদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঝিনাইদহ- ৪ আসনের এমপি আনার হত্যা মামলার অন্যতম আসামী কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুকে নিয়ে তার ফেলে দেওয়া মোবাইলসহ আলামত উদ্ধারে ঝিনাইদহে অভিযান শেষ হয়েছে। ডিএমপি’র ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ এ অভিযান পরিচালনা করছেন। ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আযমের নেতৃত্বে জেলেদেরকে পুকুরে নামিয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালীন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঝিনাইদহ শহর কঠোর নিরাপত্তা চাদরে ঘিরে রাখেন।

বুধবার সকালে জেলা কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে আনা হয় জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুকে। শহরের পায়রা চত্বরের উত্তর পাশের একটি পুকুরে জেলে নামিয়ে ফেলে দেওয়া মোবাইল উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক অভিযান শেষে করে পরে শহরের স্টেডিয়াম এলাকায় অপর একটি পুকুরে অভিযান চালায় তারা। সেখানে অভিযানের এক পর্যায়ে ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেন।

সেসময় আনার হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ডিএমপির ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান, ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিংয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফারুক আযম, ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মীর আবিদুর রহমান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন উদ্দিনসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার(২৬ জুন) সকাল ১২ টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে আসেন তিনি।
উদ্ধার অভিযান চলকালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, এ হত্যা মামলায় মোট ৭ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৫ জনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। বাকি দুজনকে গ্রেফতারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা সাগরে বা মাটির নিচে যেখানেই থাকুক না কেন আমরা তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো। আমরা ভালো মানুষকে হয়রানি করবো না। তবে অভিযুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গ্যাস বাবুকে নিয়ে তার ফেলে দেওয়া মোবাইল ৩টি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আনার হত্যায় বেরিয়ে আসছে আ.লীগের বাঘা বাঘা নেতার নাম।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাতে ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়া এলাকা থেকে গ্যাস বাবুকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক বাবু ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শিমুল ভূঁইয়ার নিকটাত্মীয় কাজী কামাল আহম্মেদ বাবু।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি, প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে ৮টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর চেরাগি পাহাড় চত্বর এলাকায় চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন এই ধর্মঘটের আয়োজন করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী সঞ্চালনায় অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেয় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদ, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, রেজাউল করিম শিকদার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন।
অবস্থান র্ধমঘট চলাকালে বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় তিন দফা দাবি অচিরেই বাস্তবায়ন করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যম কর্ণফুলীতে সাম্পান ও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনটি দাবি হচ্ছে- মহামান্য হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষ নিয়ে জনস্বার্থ মামলার বিরোধিতাকারীদের প্রত্যাহার করতে হবে। হাইকোর্ট নির্দেশিত নদী জীবত্ব সত্ত্বা আদেশ অনুযায়ী কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত করতে হবে এবং সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী নদীর তীরে টিকে থাকা সাড়ে তিন শতাধিক দেশিয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।পাশাপাশি নদী তীরে ব্যাপকহারে গাছ লাগাতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদলে গ্রাম সরকার বা ওয়ার্ড সরকার করে তাদের সমন্বয়ে দেশ পরিচালনা না করলে এই অব্যবস্থাপনা যাবে না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কর্ণফুলীর কারণে। দুখের কথা হচ্ছে- দেশের সঞ্চালক এই নদী রক্ষার জন্য সরকার ও প্রশাসন বরাবর উদাসীন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি- আপনারা কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত করুন, না হয় জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, নতুন সরকারের নদী ও খাল রক্ষার ঘোষণায় কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়ার আশায় ছিলাম। এখন অনেকে দখলদারদের পক্ষ নিয়ে কর্ণফুলীকে চিরতরে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে, যা চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রতিহত করবে।

এসময় বক্তব্য দেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সহ-সভাপতি জানে আলম, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি কামাল পারভেজ, বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী, রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল করিম বাপ্পি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক লোকমান দয়াল, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পরিচালক আমির হোসেন, হস্তচালিত বড় সাম্পান মাঝি সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান সমিতির সাধারণ সম্পাদক কোরবান আলী, মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন রায়, সমাজসেবক আরমান হোসেন প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ