নোয়াখালী:

মাদ্রাসা সুপারের দুর্নীতি ১০ বছর বয়সে দাখিল পাস: জাল জালিয়াতির মহা কারখানা

রিপন মজুমদার স্টাফ রিপোর্টার:

সেনবাগ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর সেনবাগে জাল জালিয়াতির মহা কারখানা হিসেবে চিহ্নিত কাদরা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সুপার মাও. আবদুল কুদ্দুছ।

এরকম চাঞ্চল্যকর তথ্য উপাত্ত জানতে ও অনুসন্ধান করতে গিয়ে থমকে যায় সাংবাদিক ! কেঁচো খুড়তে বেরিয়ে এলো অজগর সাপ। ইসলামের লেবাসধারী এই মাও. আবদুল কুদ্দুছের জন্ম তারিখ ০১/০৩ /১৯৬৪ ইং সালে তিনি দাখিল পরীক্ষা পাস করেছেন ১৯৭৪ সালে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে নাকি এ সনদ দেয়া হয়েছে। এলাকাবাসী ও অভিভাবক সহ সকলের দৃষ্টি ঐ মাদ্রাসার সাবেক সুপার মাও. আবদুল কুদ্দুছের উপর। তাঁরা জানতে চায় কী ভাবে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ১০ বছর বয়সের একজন ছাত্র দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ? মাদ্রাসা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছে সেনবাগের কাদরা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার অভিভাবক সহ আমজনতা! শুধু এরকম সনদ দিয়ে মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দীর্ঘদিন জাল জালিয়াতির মহা কারখানায় নামে বেনামে বিভিন্ন রেজুলেশন, প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজের নাম দিয়ে রেজুলেশন লিখা এবং মাদ্রাসায় ঢুকতে দেয়ালের উপরে লিখা প্রতিষ্ঠাতা: মাও. আবদুল কুদ্দুছ এর সাইনবোর্ড সকলের নজরে পড়ে। এরকম বিভিন্ন অনিয়ম কে নিয়ম করে নিজের ইচ্ছে মতো মাদ্রাসা পরিচালনা করে গত ২৯/০২/২০২৪ ইং তারিখে অবসরে যান। এক শিক্ষকের আবেদনে প্রতিষ্ঠাতার বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোস্তফা হোসেন গত ০২/০৭/২০২৪ইং তারিখে ১২টি রেজুলেশন পর্যালোচনায় মাও. আবদুল কুদ্দুছ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ার প্রমান না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্পষ্টভাবে পত্র দিয়ে জানিয়ে দেন ঐ সুপার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নয়। সুপার জালিয়াতি করে ম্যানেজিং কমিটির অগোচরে রেজুলেশন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা সাজিয়ে এ মাদ্রাসা কে লুটেপুটে খাওয়ার পায়তারা করছেন। এটা তার বড় ধরনের অপরাধ নয় কী ? এরকম জালিয়াতকারী শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে? শিখবে জালিয়াতির ফাঁকফুকুর! তারপরও দীর্ঘদিন মাদ্রাসার সুপার পদে দায়িত্ব পালন করার সময় কালে সুপারের নিজ হাতের লেখা একখানা রেজুলেশন, পত্র বা নোটিস মাদ্রাসার রেকর্ডে নেই। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সুপার পদে থাকা অবস্থায় কখনো চক, বোর্ড ব্যবহার করেন নি। সিনিয়র শিক্ষক সহ অন্যান্য শিক্ষকের বর্ণনামতে। এতে বুঝা যায় যে তিনি কামিল পর্যন্ত লেখা পড়া করেছেন কী না? নাকি অন্যের দ্বারা ফক্সি দিয়ে অর্জিত সার্টিফিকেট ? এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে।

আরো বেরিয়ে এলো বর্তমানে স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর মোঃ আইয়ুব আলী মিয়াজী’র বিরুদ্ধে বিগত ০১/০৩/২০১০ইং তারিখে মিথ্যা বানোয়াট মূলক রেজুলেশন করে, কিন্তু এসম্পর্কে ঐ সময়ে মোঃ আইয়ুব আলী কিছুই জানেন না। পরে কাউন্সিলর মোঃ আইয়ুব আলী মিয়াজী জানতে পেরে গত ২৪/০৬/২০২৪ ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট মানহানীর সুবিচারের জন্য আবেদন করেন। এভাবে নীল নক্সা করে রেখেছে ঐ সুপার, যেন ভবিষ্যতে প্রভাবশালী কেউই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হতে না পারে!
এব্যাপারে কাউন্সিলর মোঃ আইয়ুব আলী মিয়াজী কে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন – আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট, বিভ্রান্তিমূলক ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে মাও. আবদুল কুদ্দুছ রেজুলেশন করেছে কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যদের কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা আপনার সম্পর্কে এমন কোন রেজুলেশন করিনি। এব্যাপারে আইয়ুব আলী মিয়াজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট, বিভ্রান্তিমূলক ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে রেজুলেশন করায় মাও. আবদুল কুদ্দুছ এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি আরো বলেন, এ মাদ্রাসাটির জায়গা দিয়েছেন কাদরার আবু তাহের ভূঁঞার ভাই রফিক ভূঁঞা, তারপরও এলাকার বিভিন্ন দানবীর ব্যক্তিদের দান-অনুদানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি কীভাবে প্রতিষ্ঠাতা হন? সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এরকম দূর্নীতিবাজ ও জাল জালিয়াতকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

বিগত ২৩/১১/২০০৬ ইং সালে ঐ সুপারের ছেলে রিয়াদ – কাদরা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ সানা উল্যাহ বিএসসি কে প্রাণ নাশের হুমকি ও অশোভন আচরণের কারণে সুপার নিজে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষকগণের উপস্থিতিতে ছেলের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে লিখিত মুচলেকা দেন, মাদ্রাসার ব্যাপার তার ছেলে রিয়াদ ভবিষ্যতে কোন শিক্ষকের সাথে এমন আচরণ আর করবে না। এরপরও কীভাবে ১৫/০৬/২০২২ তারিখে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে ঐ সুপারের ছেলে মোঃ আবদুল্লাহিল মাসুম প্রকাশ রিয়াদ কে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে দাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়?

জালিয়াতির মহাকান্ডে আরো বেরিয়ে এলো সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা থেকে ফক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেয়ার সময় ঐ সুপারকে ২০১২ সালের ১৪/০২/২০১২ ইং তারিখে দাখিল পরীক্ষায় ( নুর নাহার এর পরিবর্তে আছমা আক্তার কে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দেয়ায় ) সেনবাগ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সহ হাতে নাতে ধরে সেনবাগ থানায় ১৬/০২/২০১২ ইং তারিখে ১৭ নং মামলায় ধারা ৪২০,৪৬৫,৪৬৭,৪৬৮,৪৭১ ও ১৯৭ দঃবিঃ তৎসহ ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৬,১২ ও ১৩ ধারায় মামলা দেয়া হয়। মামলার বাদী ছিলেন, তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুর রহিম।

অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে দেখা গেলো নিজ মেয়ে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর তার মেয়ের হাজিরা খাতায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ০৭ তারিখ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত জাল স্বাক্ষর দিয়ে উপস্থিত দেখিয়ে এমপিও’র সরকারি বেতন গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষককে তিনি রীতিমতো বি়ভিন্ন হুমকি দমকীর মাধ্যমে
কোণঠাসা করতে গিয়ে তার মেয়ে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা রজু করবে। ঐ শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে আবেদন করার পরও তাঁকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে জেলের ঘানি টানাবে বলে এখনো হুমকি দমকী দিয়ে যাচ্ছে ঐ সুপারের ছেলে রিয়াদ। অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরকেও দেখে নেয়ার হুমকি ও মামলা হামলা করবে বলে রিপোর্ট প্রকাশে বাধাগ্রস্হ করে যাচ্ছে এবং ঐ সুপারের জামাতা জাকির হোসেন, এনটিভির অনলাইন ডেক্সে ঢাকায় কর্মরত কিন্তু জাকির হোসেন অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদককেও মামলা হামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন পূর্বক জাল জালিয়াতির অনুসন্ধানে বাধাগ্রস্থ করছে।

গত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সেনবাগ পৌরসভার মেয়র আবু নাছের ভিপি দুলাল বলেন, সাংবাদিক বন্ধুরা আপনার অবগত আছেন য়ে – আমি শিক্ষা বান্ধব ব্যক্তি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএমসির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালনের ফলশ্রুতিতে কয়েকবার জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত সহ চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ সভাপতির পুরষ্কার প্রাপ্ত হই। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আমার পৌরসভায় কাদরা বালিকা দাখিল মাদ্রাসাটির অবহেলিত অবস্থা দেখে মাদ্রাসাটির উন্নয়নকল্পে সভাপতি হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করলে মাদ্রাসার সুপার মাও. আবদুল কুদ্দুছ আমাকে সভাপতি হিসেবে মেনে নিতে গড়িমসি করার পর স্হানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার প্রেরণের কারণে সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনোনয়ন দেন। সভাপতির দায়িত্ব পালন কালে মাদ্রাসার সুপার মাও. আবদুল কুদ্দুছ ম্যানেজিং কমিটির সভা সহ বিভিন্ন কাগজ পত্রে আমি স্বাক্ষর করি। আমি যখন ব্যস্ত থাকি, ঠিক সে সময়ে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য নিয়ে আসে,অনেক সময় পড়ে দেখার সময় থাকে না। বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে দেই। ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ নির্বাচনের জন্য মাদ্রাসার ভোটার তালিকা প্রণয়ন কালে মাও. আবদুল কুদ্দুছ নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা ভোটার দাবি করলে, এক শিক্ষকের আবেদনে আপনারা সাংবাদিক মহল সকল বিষয়ে অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে উনার লেবাসধারীর আড়ালে জাল জালিয়াতির ফাঁকফুকুর। আমার মতে এই মাও. আবদুল কুদ্দুছ দূর্নীতি ও জাল জালিয়াতির রোল মডেল। যেহেতু সুপার মাদ্রাসা কাগজপত্র স্বাক্ষরের জন্য নিয়ে আসে,ঐ সকল কাগজপত্রের মাঝে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রেজুলেশনে মাও. আবদুল কুদ্দুছ নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে,যা আমি ইতোপূর্বে জানি নাই। সাংবাদিক ভাইদের নিকট থেকে ও রেজুলেশনে কপি দেখে আমি রীতিমতো বিশ্বাস করতে পারছি না- ইসলামের এই লেবাসধারী মাও. আবদুল কুদ্দুছ আসলে একজন দূর্নীতি ও জাল জালিয়াতকারী ব্যক্তি। আপনারা জানেন আমি কাদরা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি হওয়ার পূর্বে ২০১২ সালে ফক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেয়ার প্রাক্কালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার পাশা ( বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার) হাতেনাতে মাও. আবদুল কুদ্দুছ কে ধরে- তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুর রহিম বাদী হয়ে মাও.আবদুল কুদ্দুছের বিরুদ্ধে মামলা দেন।
আমি সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দূর্নীতি ও জাল জালিয়াতকারী মাও. আবদুল কুদ্দুছ এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

এ প্রতিবেদক মাও. আবদুল কুদ্দুছ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে অভিযানে মিলল সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ইয়াবা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম রেলওয়ে রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ডের ব্যাগ থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। মঙ্গলবার র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আটক মাহাবুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নেয় র‌্যাবের একটি দল। তাদের কাছে তথ্য ছিল, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ড ইয়াবার একটি চালান বহন করছেন। বিকেল ৪টা ২ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে ‘জ’ বগি থেকে নামার সময় স্টুয়ার্ড মো. মাহাবুর রহমান (২০) র‌্যাব সদস্যদের দেখে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করা হয়। তিনি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নলছিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

পরে তার সঙ্গে থাকা একটি কালো কাঁধের ব্যাগ তল্লাশি করে কালো পলিথিনে মোড়ানো ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাহসী মানুষদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তাই এই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহতদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী সেনা কল্যাণ কনভেনশন সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। সঞ্চালনা করেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ এর যুগ্ম সম্পাদক আহমদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রদের সামনের সারিতে রেখে আমরা পেছন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। শেখ হাসিনা যাতে আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক দলের নামে আখ্যায়িত করতে না পারে, সে কারণেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে আমরা রাজপথে ছিলাম এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছি।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধদের দেখতে এবং শহীদদের মরদেহের খোঁজ নিতে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গিয়েছি। সেই সময় চিকিৎসকরাও অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

মেয়র বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত, পঙ্গু ও দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের সম্মান, পুনর্বাসন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মতোই জাতির সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত থাকুক।তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল করি বলে সব কৃতিত্ব আমাদের, এমন দাবি করি না। জুলাই আন্দোলন ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। এই ঐক্যের শক্তিই স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এখন প্রয়োজন নতুন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা।

নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিথ্যা ও অপপ্রচারের রাজনীতি নয়, বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নই এখন সময়ের দাবি।চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে।তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতি অম্লান রাখতেই এ আয়োজন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীরা অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারা রাজপথ ছেড়ে যাননি। সেই দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।অনুষ্ঠানে ১২ জন শহিদ পরিবার এবং ১১০ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শহিদ ফয়সাল শান্তের বাবা, আমরা জুলাই যোদ্ধা চট্টগ্রামের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম আবির, স্মৃতিচারণ করেন আহত জুলাই যোদ্ধা গাজী রাসেল, ওসমান কাশেমী, মো. লিটন, সোলাইমান স্বপন। আয়োজক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন শহিদুল ইসলাম সজীব।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ