আজঃ শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ক্রান্তিলগ্নে সহিংসতা পরিহার ও শান্তিপুর্নসহবাস্থান নিশ্চিতের আহবান

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ক্রান্তিলগ্নে সহিংষতা পরিহার ও শান্তিপুর্নসহবাস্থান নিশ্চিতের আহবান জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রেসিডিন্ট আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি চৌধুরী কেএনএম রিয়াদ, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ।
বিবৃতিতে নেতৃবন্দ বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ এর সাথে লক্ষ্য করছি, সদ্য পদত্যাগী প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলা, লুটাপাট, অগ্নিসংযোগ, সংখ্যালগু সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর হামলা, বিভিন্ন কলকারখানা, অফিস, আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বাসাবাড়ীতে হামলা, মন্দির, উপাষনালয়ে ভাঙ্গচুর করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ইতিমধ্যেই মহামান্য রাস্ট্রপতি, সেনা প্রধান ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কগনসহ অনেক রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজ এর প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই শান্তিপুর্নসহবাস্থান নিশ্চিত, শান্তি শৃংখলা রক্ষা ও সহিংষতা পরিহারের আহবান জানিয়েছেন। নতুন অর্ন্তবর্তী সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের পেশাদার আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীকে অমস্ত অরাজকতা ও দৃস্কৃতকারীদের নৈরাজ্য ও লুটপাট থেকে শান্তিপ্রিয় জনগনের জানমাল রক্ষা করার জন্য আহবান জানাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থায় নিত্যপণ্যের দাম ও খাদ্য মূল্যস্ফীতির আরও আরও বাড়বে। এবং সার্বিক অর্থনীতি আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে যা এদেশের জনগনের জন্য কখনও কাম্য নয়।
এভাবে নৈরাজ্য, অরাজকতা ও বিশৃংখলা চলতে থাকলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অহিংষ আন্দোলনের মাধ্যমে বিগত ১৬ বছরের যে একানায়কতন্ত্রের অবসান হয়েছে, তা ম্লান হয়ে যাবে এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিকভাবে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হবে। এবং এ সুযোগে তৃতীয় কোন শক্তি উত্থানের মাধ্যমে ছাত্র জনতার এই রক্ষক্ষয়ী অর্জন ধুলিস্যাত হয়ে যাবে। আমরা এটা কখনো হতে দিতে পারি না।
এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছে তাদের সকলের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করছি। একই সাথে এই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে থাকার জন্য সকলকে উদাত্ত আহবান জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অসহায় প্রবাসী পরিবারের পাশে ইউএই হাটহাজারী সমিতি, অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে সালাউদ্দীন আলী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) হাটহাজারী সমিতির উদ্যোগে দুই প্রবাসী মরহুমের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদান তুলে দেওয়া হয় শোকসন্তপ্ত দুই পরিবারের হাতে।২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) হাটহাজারীর একটি স্থানীয় হোটেলে অনুষ্ঠিত এ মানবিক সহায়তা অনুষ্ঠানে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন তালুকদার, সিআইপি সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গভর্নিং বডির সদস্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হাটহাজারী সমিতির অন্যতম সদস্য লায়ন সালাউদ্দীন আলী। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পূর্বকোণের হাটহাজারী প্রতিনিধি খোরশেদ উল আলম শিমুল, সমিতির অন্যতম সহ-সভাপতি এনামুল হক ফোরকান, মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম, মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মাওলানা নাছির উদ্দিন, দিদার আলম দিদার, মাহাবুব আলম মাহাবুব, মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন খোকন, নিজাম উদ্দিন, তৌহিদুল আলম, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ রেজাউল আমিন, বাদশা মিয়া, মাওলানা শোয়াইব, মাওলানা হাফেজ মাসুদ, মোহাম্মদ জালাল, মোহাম্মদ আনিছসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে গুমানমর্দন এলাকার মরহুম হোসেনের পরিবারের হাতে ১ লাখ টাকা এবং মেখল ইউনিয়নের মরহুম খোরশেদ আলমের পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন সালাউদ্দীন আলী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবিকার সন্ধানে বিদেশে অবস্থানরত অনেক প্রবাসী নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করেন। তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে পরিবারগুলো প্রায়ই কঠিন আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়ে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ইউএই হাটহাজারী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে।

তিনি বলেন, “মানবসেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সমাজের যেসব প্রবাসী পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাদের সহযোগিতায় আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকব। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। তাই তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।সালাউদ্দীন আলী আরও বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের উচিত অসহায় ও শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। পারস্পরিক সহযোগিতা, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

সভায় বক্তারা প্রবাসী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তারা প্রবাসী কল্যাণে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এতে উপস্থিত অতিথি, সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগকে এলাকাবাসী প্রশংসার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।

আল্লাহর ঘরে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক- সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাদ্রাসায় ও মসজিদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মিটিং নিষিদ্ধ করতে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। বাজেট আলোচনায় সংসদে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি তোলেন।

সোমবার ২২ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ এ কথা বলেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ