আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

বন্যায় মাছ চাষীদের মাথায় হাত চট্টগ্রামে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অতিবৃষ্টি, ভারতে পানি ও পাহাড়ী চলে চট্টগ্রামের মাছ চাষীরা চরম ক্ষতির সন্মুখীন হয়েছে। পানির স্রোতে ভেসে গেছে তাদের কোটি কোটি টাকার মাছ। গত কয়েকদিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য চাষের পুকুর, দিঘি ও মৎস্য হ্যাচারির মাছ ভেসে গেছে। এর মধ্যে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরসরাই উপজেলায়। বিশেষ করে এসব এলাকায় বন্যার পানিতে প্রায় ২৭৭ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরসরাই মুহূরী মৎস্য প্রজেক্টের চাষীরা। এ প্রজেক্টের ৬ হাজার একরে চাষকৃত মাছ বন্যার পানির সাথে একাকার হয়ে গেছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক মৎস্য ক্ষেত্র হালদা নদীর বড় আকারের রুই জাতীয় মাছ বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসার শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ দৈনিক বলেন, গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিতে ভেসে গেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য চাষের পুকুর, দিঘি, মৎস্য হ্যাচারির মাছ। এতে মৎস্য বিভাগের তাৎক্ষণিক হিসেবে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৭৭ কোটি টাকা। তাছাড়া বৃষ্টির পানিতে হালদা নদী বেশি প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থায় নদীর অন্যান্য মাছ ছাড়াও রুই জাতীয় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন কি এসব মাছ খাল-বিল হয়ে বিভিন্ন উপজেলাও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে মনে হচ্ছে মিরসরাই উপজেলায় মানুষের জালে ধরা পড়া ২০ কেজি ওজনের কাতলা মাছটি হালদা নদীর। এ কারণে হালদার রুই জাতীয় মাছের বিশুদ্ধতা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ৬ হাজার একর আয়তনের মুহূরী মৎস্য প্রজেক্টের সবগুলো মাছ পানিতে ভেসে গেছে। স্থানীয় চাষীরা জানান, তাদের প্রতি একরে গড়ে ১০ লাখ টাকার মাছ থাকে। সে হিসেবে তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার মাছ। তবে তাৎক্ষণিক ক্ষতি নিরুপণে মৎস্য বিভাগ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলা মৎস্য অফিসের হিসাবে মিরসরাই উপজেলায় মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা। এ উপজেলার ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের আবদুল টেন্ডাল বাড়ির জনৈক বাবরের জালে বৃষ্টির পানিতে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ। জেলা মৎস্য অফিসের ধারণা বানের পানিতে ভেসে মাছটি হালদা নদীর সংযুক্ত খাল-বিল হয়ে ওই এলাকায় গেছে।
এদিকে বৃষ্টি ও বানের পানিতে মিরসরাইয়ের পর বেশি ক্ষতি হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়। এ উপজেলার বেশিভাগ ইউনিয়নের পুকুর, দিঘি ও মৎস্য প্রজেক্ট বানের পানিতে ভেসে গেছে। তাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ১০ লাখ টাকা। বানের পানিতে একই অবস্থা হয়েছে হাটহাজারী উপজেলাও। এ উপজেলায় বানের পানিতে ভেসে গেছে ১২ কোটি টাকার মাছ। বানের পানি থেকে রেহায় পায়নি রাউজানের পুকুর, দিঘি ও মৎস্য হ্যাচারিগুলো। এ উপজেলায় মৎস্য বিভাগের তাৎক্ষণিক হিসেবে ক্ষতি নিরুপণ করা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তাছাড়া বৃষ্টি ও বানের পানিতে ক্ষতি হয়েছে সীতাকুণ্ড ও রাঙ্গুনিয়ার পুকুর, দিঘি ও মৎস্য হ্যাচারিগুলোও।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে ইইউ,র ১৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান ঘোষণা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অতিরিক্ত ১৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে অংশীদারত্বের মেয়াদ নবায়নের মাধ্যমে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে, যা জরুরি মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।

আজ ১৮ জুন ইইউ ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই অর্থায়নের আওতায় কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এবং প্রায় ৭০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দা উপকৃত হবেন। বিশেষভাবে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিয়েছে। তাই শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জীবিকা অর্জনের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন ইইউর ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন- বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এমন সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০ জুন উপলক্ষে এই সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অপতথ্য ও গুজবের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা নিতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, গুজব ও অপতথ্য মোকাবেলায় সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।তিনি সোমবার ১৫ জুন ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত
১৩-১৫ জুন তিন দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

অপতথ্য ও গুজব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যক্তিগতভাবে অপতথ্যের শিকার হয়েছি। এখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুজব ও অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এটি মোকাবেলায় সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়িয়ে সাংবাদিকদের দক্ষ করে তুলতে সারা দেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেওয়া হবে। সমাজে নানান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

নান্দাইল উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেক ও এআই বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন (জুম মাধ্যমে) পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এবং নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত। প্রশিক্ষণটি সমন্বয় ও সভা সঞ্চালনা করেন পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল এবং প্রেসক্লাব নান্দাইলের সভাপতি হান্নান মাহমুদ। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নান্দাইল উপজেলার ৩৫ জন সাংবাদিকের হাতে আনুষ্ঠানিক সনদপত্র তুলে দেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ