আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

গাজীপুরে এক কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ; থমথমে অবস্থা শিল্প-নগরীতে

সুরুজ্জামান রাসেল গাজীপুর প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর মোগরখাল এলাকায় অবস্থিত টি এন জেট অ্যাপারেলস এর পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে টি এন জেট অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের কারখানাটির সামনে এই বিক্ষোভ করেন তাঁরা। এ সময় হামলা–ভাঙ্গচুরের আশঙ্কায় পাশের ‘ইকো কুটিউর লিমিটেড’ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, টি এন জেট অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের গত আগস্ট মাসের বেতন প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে মালিকপক্ষ। এ নিয়ে কিছুদিন দিন ধরে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বারবার বেতনের দাবি জানালেও পরিশোধ করছিলেন না। এর মধ্যে আজ সকালে সেখানে কাজে যোগ দিতে গিয়ে কারখানা বন্ধ পান শ্রমিকেরা। পরে বিক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। আরও শ্রমিক জড়ো করতে একপর্যায়ে পাশের ইকো কুটিউর লিমিটেড কারখানায় ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী গত ৭  আগস্ট বেতন পরিশোধের তারিখ ছিল। মালিকপক্ষের সাথে সমঝোতা হওয়ার পর আজ বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেয়। কিন্তু আজ সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে গিয়ে কারখানাটি বন্ধ পায়। তাই তাঁরা বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন।

শ্রমিকরা বলেন, ‘প্রতি মাসেই স্যাররা নির্ধারিত সময় আমাদের বেতন দিতে পারেন না। প্রতিমাসেই কোনো না কোনো অজুহাতে বেতন দিতে দেরি করে। আইজকে মাসের ১৪ তারিখ। এখনো বেতন পাই নাই। ঘর ভাড়া-সংসার খরচ সব আটকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামছি।’

গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, টিএনজেড এপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকদের বেতন নিয়ে সমস্যার সমাধান হয়নি আলোচনা চলছে। মালিক পক্ষ ঝামেলা করছে বেতন দিতে পারে না। এই ফ্যাক্টরীর কারণে পাশের ফ্যাক্টরীগুলোর সমস্যা হচ্ছে। 

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের তথ্যমতে, পুরো জেলায় সব মিলিয়ে নিবন্ধিত কারখানা রয়েছে ২ হাজার ৬৩৩টি। এর বাইরে অনিবন্ধিত কারখানা আছে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি। এসব কারখানায় শ্রমিক কাজ করেন প্রায় ২২ লাখ। গত সপ্তাহে গাজীপুরের বেশ কিছু কারখানায় বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ চলে। এতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে শিল্প-নগরীতে। চলে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। এতে বেশ কিছু কারখানা সাধারণ ছুটি ও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে কারখানার নিরাপত্তা রক্ষায় নিজস্ব কর্মী ছাড়াও শিল্প পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে সেনা সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স এর এক্সক্লুসিভ শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স এর এক্সক্লুসিভ শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন হয়েছে।
আজ ২৭ এপ্রিল সোমবার দুপুরে সঞ্চিতা ইলেকট্রনিক্স এর স্বত্বাধিকারী সংগীত কুমার পালের সভাপতিত্বে যমুনা ইলেকট্রনিকস এর হেড অব সেলস মাকসুদুর রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এই শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভাঙ্গুড়া বণিক সমিতির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুজ্জামান তরুন, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আজাদ খান প্রমূখ।
যমুনা ইলেকট্রনিকস এর প্রতিটি পন্য কোয়ালিটিতে ওয়ান নম্বার এবং বিশ্ব মানের বলে দিন দিন মার্কেটে ভোক্তাদের কাছে যমুনা ইলেকট্রনিকস এর সকল পন্য সামগ্রিই ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে।

এছাড়াও দেশব্যাপি যমুনা ইলেকট্রনিকস এর সকল পার্টনারসবৃন্দ যমুনার পন্য বিক্রি করে অনেক বেশি মুনাফা হচ্ছে বলে তারা অনেক খুশি। শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ভাঙ্গুড়া বাজারের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শো-রুম এর অফিসে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন রকমের সাধারণ জনগণ,সাধারণ ব্যবসায়ী,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পাবনা জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হচ্ছে ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার পাম ওয়েল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারীদের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম ওয়েল এবং মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র পদ্ধতিতে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম ওয়েল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি থেকে এই তেল কিনতে ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

একই বৈঠকে জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে মসুর ডাল ক্রয়েরও প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮ হাজার টন ডাল সংগ্রহ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ২ হাজার টন ডাল কেনা হবে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ঢাকার গুলশানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইজ সার্ভিসেস লিমিটেড এই ডাল সরবরাহ করবে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ