চট্টগ্রামের জেএমসেন হলে দুর্গাপূজার মঞ্চে ইসলামী সংগীত পরিবেশনের ঘটনায় মামলা : আটক -২

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরে প্রাণকেন্দ্র ঐতিহাসিক জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপের অনুষ্ঠানের মঞ্চে ইসলামি সংগীত পরিবেশনের ঘটনায় সারাদেশ জুড়ে আলোচিত হওয়ায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রক্ষিতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গতকাল ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন শহিদুল করিম ও নুরুল ইসলাম। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানায়নি পুলিশ।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী তারেক আজিজ আজ শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, পূজামণ্ডপের অনুষ্ঠান মঞ্চে ইসলামি সংগীত পরিবেশনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আজ বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসে নগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
কাজী তারেক আজিজ আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে, নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান মঞ্চে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের ছয় সদস্য এই দুর্গাপূজার মঞ্চে দুটি গান পরিবেশন করেন। এর মধ্যে একটি গান ছিল ‘শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম’। সংগঠনটি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বলে সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম গতকাল রাতেই ওই পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। এখন দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানাল পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় তিন মিনিটের একটি ভিডিওটিতে দেখা যায়, ছয়জন তরুণ মঞ্চে গান পরিবেশন করছেন। আশপাশে উপস্থিত কয়েকজনকে সেটি মুঠোফোনে ধারণ করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির সভাপতি সেলিম জামান বলেন, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের আমন্ত্রণেই সেখানে সংগীত পরিবেশন করতে গেছেন তাঁরা। সেখানে দুটি গান পরিবেশন করা হয়েছে, দুটিই সম্প্রীতির সংগীত। কেউ কেউ ভিডিও এডিট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও যাচাই করে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, গানের ভিডিওটি আসল, এডিটেড নয়।
চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর (উত্তর) ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, এটি ছাত্রশিবিরের কোনো সংগঠন নয়। তবে জামায়েতে ইসলামীর একজন নেতা নিশ্চিত করেছেন, চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন।
পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্র বলছে, গতকাল সন্ধ্যায় মঞ্চে নাচের অনুষ্ঠান হচ্ছিল। এ সময় কয়েকজন তরুণ এসে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করবেন বলে মঞ্চে ওঠেন। তাঁরা দুটি গান পরিবেশন করেন। পরে তাঁরা ‘ধন্যবাদ’ দিয়ে নেমে চলে যান। তাঁরা গান গাওয়ার সময় কেউ তাঁদের নামায়নি বা প্রতিবাদ করেনি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন বলেন, পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তকে ওই তরুণেরা এসে বলেছেন, তাঁরা মঞ্চে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করবেন। পরে তাঁরা উঠে ইসলামি গান শুরু করেন। গান করা শেষে তাঁরা চলে যান। এ বিষয়ে জানতে গতকাল রাতে সজল দত্তের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয় নিয়ে পূজা পরিষদের একাধিক নেতা ও বিশিষ্টজন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জাল দলিলে সরকারি জমি আত্মসাতের চেষ্টায় যুবকের কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে জাল দলিল তৈরি করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার মামলায় এক যুবককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত কোতোয়ালী থানার জাল দলিল তৈরি করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার মামলায় এ রায় দেন। দন্ডিত যুবক হলেন, মো. সাদেক খান (৪৩)। সে নগরের কোতোয়ালী থানার লালখান বাজার এলাকার মৃত এম এ সোবহানের ছেলে।রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা মূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নগরের লালখানবাজার মৌজায় সরকারের অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি করেন সাদেক খান। জমিটি মূলত টার্নার মরিসান কোম্পানি লিমিটেডের নামে নথিভুক্ত ছিল।পরে তা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। সাদেক খান ১৯৬৮ সালের ২২ মে তারিখের ২৬৩১ নম্বর একটি দলিলের মাধ্যমে জমিটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। ওই দলিলের ফটোকপি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অর্পিত সম্পত্তি শাখা এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন তিনি। তবে চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড যাচাই করে দুদক জানতে পারে, ২৬৩১ নম্বর দলিলটি লালখানবাজারের জমিসংক্রান্ত নয়।

এটি আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়ন হাই স্কুলের সেক্রেটারির নামে করা একটি দানপত্র দলিল। লালখানবাজার মৌজার নির্ধারিত সূচিপত্রেও ওই দলিলের কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি।দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালী থানায় সাদেক খানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা করা হয়। মামলা তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিলে ২০২৫ সালের ১৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রেজাউল করিম রনি বলেন, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে জাল দলিল তৈরি করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. সাদেক খানকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হরমুঝ প্রণালীর প্রবেশপথের কাছে মাইনের আ/ঘা/তে একটি তেলবাহী জাহাজে আ/গু/ন ধরেছে বলে দাবি করেছে ইরানের নৌবাহিনী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হরমুঝ প্রণালীর প্রবেশপথের কাছে মাইনের আ/ঘা/তে একটি তেলবাহী জাহাজে আ/গু/ন ধরেছে বলে দাবি করেছে ইরানের নৌবাহিনী।

সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এ/জে/ন্সি এ তথ্য জানায়। নৌবাহিনীর দা/বি, ইরানের অনুমতি ছাড়া অনিরাপদ নৌ/প/থ দিয়ে চলাচলের চে/ষ্টা করছিল জাহাজটি। এর আগে গত নয় দিনে হ/র/মু/জ প্র/ণা/লি/র ভেতরে বা আশপাশে ১১টি জাহাজে আ/গু/ন লাগার দা/বি করে ইরান।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ