আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

আড়াই মাস ধরে অধ্যক্ষ কলেজে অনুপস্থিত: কলেজের সকল প্রকার কার্যক্রম স্থবির

বদিউজ্জামান রাজাবাবু চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের পাদপিঠে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক .বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমাজের আন্দোলন এর ভয়ে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে অদ্যবধি কলেজে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি কলেজ প্রাঙ্গণে লাইভ এর মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
এই লাইভে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক আড়াই মাসের অধিক সময় থেকে কলেজে অনুপস্থিত থাকায় অফিস-আদালতের চিঠিপত্র, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যয়নসহ বিভিন্ন কাগজ-পত্র, শিক্ষকদের বিভিন্ন কাগজ-পত্র স্বাক্ষরকারী ব্যক্তি হওয়ায় এবং এ বিষয়ে কাউকে লিখিত দায়িত্ব না দেয়ায় কলেজের সকল প্রকার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে একটি বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কলেজের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর সাথে যোগ-সাজস করে অধ্যক্ষ আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেই সেই একইভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের ধারাবাহিককতায় গোপনে কিছু কাগজ-পত্রে স্বাক্ষর করছেন, যা প্রতিষ্ঠান ও চাকরীবিধির পরিপন্থি কাজ। এতে করে নাম মাত্র কয়েকজন সুবিধাবাদী সুযোগ নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে কাগজপত্র আদান-প্রদান করে কলেজের মধ্যে বিশৃংখলার সৃষ্টি করে চলেছেন। অধ্যক্ষের এত দীর্ঘ দিনের অনুপস্থিতি বর্তমান সরকারের জেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গূলী প্রদর্শনের সামিল এবং কলেজে উপস্থিত না হয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দায়িত্ব পালন প্রমাণ করে যে, তিনি বরাবরই একজন স্বৈরাচারী, স্বেচ্ছাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান। এ কারণে কলেজে যে কোন সময় ঘটতে পারে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা, যার দায় অধ্যক্ষ ও জেলা প্রশাসনকেও বহন করতে হতে পারে।
এ অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষের অনুপস্থিতি এবং কলেজের সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনীর অধিনায়ককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। সরাসরি তাদের বিশেষ সহযোগিতা পাওয়ার আশাবাদী এই কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অপসারণের জন্য বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা সৃষ্টির প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দীন আহম্মদ দেশের সকল জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে একটি নির্দেশনা জারি করাকে কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। এ সাথে তারা বলেছেন, আওয়ামীলীগের আমলে অবৈধভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্বেচ্ছাচারিতায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা নির্যাতিত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, অত্যাচারিত হয়েছেন, যা চরম অমানবিক আর দৃশ্যমান বে-আইনী। আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারকে ব্যবহার করে কিছু চাটুকার ও দুনীতি পরায়ণ শিক্ষক রাজনীতির অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদ দখল করে সহকর্মী শিক্ষকদের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার চালিয়েছিলেন বলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। তবে তাদের বিশ্বাস এর কথা জানান যে, বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। কারণ সে সব প্রতিষ্ঠানে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, সাহসী ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান রয়েছেন। লাইভে জানা গেছে, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক বুলির অপকর্মের চিত্র শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্রকে হার মানাবে। তার অপরাধের বিষয়গুলো আওয়ামী সরকারের আমল থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় যেমন ঃ দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক সমকাল, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক যায়যায় দিন. দৈনিক আমাদের বার্তা, দৈনিক চাঁপাই চিত্র, দৈনিক শিক্ষাডটতম, দৈনিক চাঁপাই দর্পণ, দৈনিক চাঁপাই কণ্ঠ, দৈনিক প্রকাশ, দৈনিক আজকের শিরোনাম. দৈনিক বিডিসি ক্রাইম বার্তা, দৈনিক অগ্নিশিখা, দৈনিক নিরপেক্ষ, দৈনিক স্বাধীন দেশ, দি ডেইলি স্টেটসহ আরো কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
লাইভ পরিচালনাকারী প্রভাষক মোহাঃ জোনাব আলী তাদের কয়েকজন সহকর্মীর উপর অধ্যক্ষের ইভটিজিং, বেতন বন্ধ, শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষককে মারধর, মহিলা শিক্ষকদের অতিরিক্ত সময় কলেজে বসিয়ে রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন দপ্তরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগের ফলাফল বর্ণনা করেন।
এই লাইভে বলা হয়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমাজ এর আন্দোলন এবং শিক্ষকদের আবেদন এর প্রেক্ষিতে সেই সময়ের জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন গত ২২ আগস্ট ২০২৪ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর একটি ফরোয়ার্ডিং পাঠিয়েছেন অধক্ষের বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। সে ফরোয়ার্ডিং বিষয়ে খুব দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তাদের বিশ্বাস।
এদিকে অধ্যক্ষ কলেজে অনুপস্থিত থাকায় কলেজের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিছু শর্তের কথা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রায় আড়াই মাসের অধিক অনুপস্থিতিকাল সময়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে অফিসের বাইরে গোপনে করা তার সকল স্বাক্ষর বাতিল করা হোক এবং এ স্বাক্ষর প্রক্রিয়াকে অবৈধ, বে-আইনী, অপরাধমূলক, রাষ্ট্র পরিপন্থি আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এই কলেজ এখন অভিভাবকহীন হওয়ায় জরুরী ভিত্তিতে একজন বিসিএস ক্যাডার অধ্যক্ষ পদায়ন করা হোক বা একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা হোক।
তার অপরাধের অনেক প্রমাণ সংরক্ষণে আছে এবং জেলা প্রশাসক, মাউশির মহাপরিচালক, তদন্ত টিম এর কাছে জমা আছে, যার আলোকে তাকে প্রয়োজনে যে কোন পন্থায় কলেজে উপস্থিত করা হোক। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তার ঘরের তালা খুলে দিয়ে তাকে তার পদে অধিষ্ঠিত করা হোক আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অপসারণ বা বরখাস্ত করা হোক।
জরুরী ভিত্তিতে কলেজে একটি অর্থনেতিক অর্ডিট করে আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ করা হোক।
অধ্যক্ষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে ফল পেতে প্রশাসনিক কাজের কারণে বিলম্ব সৃষ্টিতে কলেজের ক্ষতি হওয়ায়, কলেজের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়টি কলেজের অভিভাবক, শিক্ষা বিভাগ ও জেলা প্রশাসন এবং জনগণকে অবহিত করা প্রয়োজন ও জরুরী মনে করায় এই লাইভ কর্মসূচী করতে তারা বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ অনুষ্ঠানে প্রভাষক শাহিনা নার্গিস, মোঃ শাহজালাল উদ্দীনসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ায় ন্যায্য মূল্যে কৃষকের ধান সংগ্রহের সময় শেষ, সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়ে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে খাদ্য বিভাগ।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্য থেকে আগে আসলে আগে বিক্রয় ভিত্তিতে ধান ক্রয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি বিভাগের নিবন্ধিত কৃষকরা কৃষি কার্ড ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান। সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের পর মূল্য সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমেছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন।
উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নিবন্ধিত কৃষকের কৃষি কার্ড ও কৃষক হিসাব রয়েছে। ধান বিক্রি করা অনেক কৃষক জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। কৃষকদের পরিচয়, কৃষি কার্ড এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই ধান গ্রহণ করা হয়েছে। সব অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে।ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে ধান গ্রহণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের নিজস্ব হিসাবেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সরকার চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে গত ৩ মে থেকে সারাদেশে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্ধারিত ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বর্ম্মন বলেন, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কৃষি কার্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই বিল অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশা, আগামী মৌসুমেও সরকার একইভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এতে কৃষকরা উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ