রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৪০০ কোটির ‘অপ্রয়োজনীয়’ কাজ বাতিল

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

 

মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের,
শুরু হয়নি এমন সাতটি উন্নয়নকাজ বাতিলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।
বাতিল করা হয়েছে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ।
বরাদ্দের ৪০০ কোটি ব্যয় হবে প্রান্তিক নগর উন্নয়নে।
বরাদ্দের এই অর্থ প্রান্তিক নগর উন্নয়নে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই মূল প্রকল্প থেকে কিছু প্রকল্প বাতিলের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে নগর সংস্থা।

আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটন ২০১৮ সালে দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরের বছর একনেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। এটিই এখন পর্যন্ত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সর্বোচ্চ বরাদ্দ।

এই ৩ হাজার কোটি টাকার ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর উন্নয়ন’ নামের এই প্রকল্পের অধীনে চলছে নানা কাজ। এর মধ্যে সাতটি উন্নয়নকাজ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রেলক্রসিংয়ের ওপর দুটি উড়ালসেতু, ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খায়রুজ্জামান লিটনের বাবা জাতীয় নেতা শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের সমাধিস্থলে স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরের হড়গ্রামে কাঁচাবাজার নির্মাণ, সিটিহাট সড়কের পাশে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকায় শেখ জামাল কনভেনশন হল নির্মাণ, চারটি ফুটওভার ব্রিজ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলের কার্যালয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পই সিটি করপোরেশন গ্রহণ করেছিল। প্রান্তিক পর্যায়ে এখনো রাস্তা ভাঙা। পাড়া-মহল্লায় সড়কবাতি নেই অনেক জায়গায়, আবার শহরে আলোর ঝলকানি। তাই অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন বন্ধ করে সুষম উন্নয়নটা খুবই জরুরি।

‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ শুরুর পর প্রশস্ত সড়ক, সবুজায়ন আর আলোকায়ন করে সারা দেশে হইচই ফেলে দেয় রাজশাহী। তবে নাগরিক সমাজে আপত্তি ওঠে প্রকল্পের অধীনে থাকা কিছু কাজ নিয়ে। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা জানিয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে রেলক্রসিংয়ের ওপর মোট কয়েকটি উড়ালসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। প্রশ্ন ওঠার কারণে দুটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দরপত্র সম্পন্ন হয়ে কাজ শুরু হওয়া অন্য চারটি উড়ালসেতুর কাজ চলমান। কাজ শুরু হয়ে যাওয়া আরেকটি উড়ালসেতুর নকশা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাসিক।

রাসিক সূত্রে জানা যায়, জনমুখী নয় বিবেচনায় বাতিল হচ্ছে নগরের কোর্ট স্টেশন রেলক্রসিংয়ের ওপর উড়ালসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা। ১১৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় এটি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। নগরের ভদ্রা এলাকায় ১১৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে আন্ডারপাস করার পরিকল্পনা করে রাসিক। প্রয়োজন নেই বিবেচনায় এই কাজও প্রকল্প থেকে বাতিলের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আর নকশা পরিবর্তন করা হবে নগরের রেলগেট থেকে নিউমার্কেট এলাকায় নির্মাণাধীন উড়ালসেতুর।

এদিকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ও নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২৮ কোটি টাকায় আরও চারটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এগুলো নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে সিটি করপোরেশন। সব মিলিয়ে ৩৯৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার কাজ বাতিল করার সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, জনমুখী নয় এমন কাজগুলো প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এখানে যে অর্থ সাশ্রয় হবে,তা দিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মালামাল উচ্ছেদ করে সড়কে ফুটপাত দখলমুক্ত করলো চসিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামী সড়কে ফুটপাত দখল করে রাখা দোকানের মালামাল উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সড়কের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।

চসিক সূত্র জানায়, বায়েজিদ বোস্তামী সড়কের ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন দোকানের মালামাল রাখা হয়েছিল। এতে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল।অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখল করে রাখা এসব মালামাল জব্দ করা হয়। পরে ফুটপাতটি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। চসিক জানিয়েছে, জনস্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ঠেকাতে জেলা পুলিশের সাইবার টিমকে বিশেষ নির্দেশনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত শনাক্ত, যাচাই ও প্রতিরোধে এ নির্দেশ দেয়া হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়’ শীর্ষক সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের (বিপিএম) সভাপতিত্বে সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশ নেন।সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য শনাক্ত, তথ্যের সত্যতা যাচাই, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের উৎস চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিশেষ করে দুর্গাপূজা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পূজামণ্ডপ ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ছড়ানো তথ্য সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা এবং ধর্মীয় উসকানি বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এমন কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় পুলিশ সুপার গুজব শনাক্তের পর দ্রুত তথ্য যাচাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য তুলে ধরে কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচারের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন।এ সময় গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ, সময়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বলা হয়, কোনো ঘটনা বা তথ্য নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট থানা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে হবে। যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে জনগণের বিভ্রান্তি দূর করতে সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তথ্য প্রচার করতে হবে।পাশাপাশি থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বা পোস্ট শেয়ার না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কোনো কনটেন্টে অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা শনাক্ত, দ্রুত সত্যতা যাচাই এবং সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ