আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

নগরপিতা নয়, নগরসেবক হয়ে পাশে থাকতে চান চসিক’র নতুন মেয়র ডা. শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন -চট্টগ্রামের উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে। নগরীর উন্নয়নের জন্য আমি সকলের সহযোগিতা চাই। দায়িত্ব গ্রহন করেই অগ্রাধিকার দিয়ে ডেঙ্গু ও পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেয়া। মশক নিধনের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে যাবো। মশার ঔষধ পরিক্ষা করে, সে ঔষধ প্রয়োগ কববো। কোরকম হোল্ডিং ট্যাক্স না-বাড়িয়ে নগরবাসীর সেবা করবো। বিগত ১৬ বছর আমরা জিম্মি ছিলাম। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে মায়েদপর সম্মান হারিয়েছি।
লক্ষ লক্ষ মাুনষ জীবন দিয়ছে।

২০২৪ সালে ছাত্র – জনতার বিপ্লবে অনেক মানুষের জীবনের বিনিময়ে আমরা নতুন একটি দেশ পেয়েছি। এখন আমাদের এদেশ রক্ষা করতে হবে। দেশকে ভালো বাসতে হবে। এখন সবাই মিলে চট্টগ্রাম নগরীকে একটি সুন্দর শহর গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি নগরপিতা নয় নিজেকে সেবক বলে নিজের পরিচয় দেন। সেবক হয়ে কাজ করার আকাঙ্খা জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি ৭০ লক্ষ মানুষের নগরপিতা হিসেবে নয়, নগরসেবক হিসেবে আপনাদের কাছে থাকতে চাই। এই ৭০ লক্ষ মানুষের মধ্যে সকল ধর্মের, বর্ণের, ভাষার নাগরিক এই চট্টগ্রাম শহরে আছে। আমি ইনশাআল্লাহ তাদের পাশে থেকে সেবক হিসেবে কাজ করে যতে চাই। আমি আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গত ১৮টি বছর আপনারা ঘরে থাকতে পারেননি। আপনাদের পরিবারের খোঁজ নেওয়ার মানুষ ছিল না। আপনাদের পরিবারের বাজার করার টাকা ছিল না। অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটিয়েছেন। এ অসহায়ত্ব আমি দেখেছি ভাইয়েরা-বোনেরা। আপনাদের এই ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না। সারাদেশে অসংখ্য মানুষ বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। নির্যাতন-মামলার শিকার হয়েছে। চট্টগ্রামসহ সারা দেশের এক লাখ মামলায় ৬০ লাখ আসামি। কিন্তু তারপরও আপনারা আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। মেয়র শাহাদাত আরো বলেন, আমি আপনাদেরই সন্তান। এই শহরটা শুধু আমার একার শহর নয়। এই শহর আমাদের সবার। আসুন, আমরা সবাই মিলে একযোগে একটি সুন্দর শহর গড়ে তুলি। এ শহর হবে ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি ও হেলদি সিটি। আমাকে একটু সময় দিন। ইনশাআল্লাহ, অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। আপনারা সবসময় আমার হৃদয়ের গভীরে আছেন।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে সোনার বাংলা ট্রেনে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগানে স্লোগানে অভিবাদন জানিয়ে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত সংবর্ধনা মঞ্চে নিয়ে আসেন। পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনে নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে মেয়র হজরত শাহ আমানত (র.) ও বদর আউলিয়া (র.) মাজার জিয়ারত, মতবিনিময়, সংবাদ সম্মেলন এবং টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

অবৈধ স্থাপনা, খাল দখলের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিলেন চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি অবৈধ দখল ও নাগরিক অসচেতনতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সোমবার সকালে মেয়র প্রথমে বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার সংলগ্ন সড়ক পরিদর্শন করেন।

এ সময় সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত উচ্ছেদের নির্দেশ দেন মেয়র। পরে বহদ্দারহাট এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান খাল সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন এবং পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বাঁধগুলো অপসারণের নির্দেশনা দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণেরও নির্দেশ দেন মেয়র।এরপর তিনি ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের ফরিদার পাড়া এলাকায় পরিচালিত নালা ও খাল পরিষ্কার অভিযান পরিদর্শন করেন। পরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাজা রোড এলাকায় নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

চসিক সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা কমাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেললে খাল-নালা আবারও ভরাট হবে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ