মশা নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা চসিক মেয়রের

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ডেঙ্গু ও কিউলেক্স থেকে জনগণকে বাঁচাতে মশা নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রয়োজনে মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন ঔষুধ ও কৌশল খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার টাইগারপাস¯’ চসিক কার্যালয়ে পরি”ছন্ন বিভাগের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ শাখার সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মশার ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। মশার ব্যাপারে যেভাবে হোক আমাদেরকে একটা জায়গায় আসতে হবে। জনগণ যাতে উপকৃত হয়। জনগণ যাতে মশার কামড় খেয়ে হসপিটালে আসতে না হয় কিংবা মৃত্যুবরণ না করে কিংবা তারা কোন ডিস্টার্ব ফিল না করে।
মেয়র ওয়ার্ড সুপারভাইজারদের উদ্দেশ্যে বলেন, যে সমস্ত পরিচ্ছন্ন কর্মী মশার স্প্রে করার ক্ষেত্রে গাফিলতি করছে তাদের নামগুলো আমাকে দেন। তাদেরকে অবশ্যই পানিশমেন্টের আওতায় আনব। আমি যারা সুপারভাইজার আছেন প্রত্যেকটা ওয়ার্ডের আপনাদেরকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই কেউ ফাঁকিবাজি করলে এটার দায়-দায়িত্ব আপনাদেরকে নিতে হবে। যদি আপনারা লুকাতে চান আমরা আল্টিমেটলি খবর পেয়ে যাব। প্রতিটি এলাকায় আমাদের লোকজন আছে। কাজেই আপনাদেরকে আমি স্পষ্ট বলতে চাই আপনারা কেউ গাফিলতি করলে, কেউ ফাঁকিবাজি করলে, কেউ কাজ না করলে লুকানোর চেষ্টা করবেন না বরঞ্চ এটা আমাদেরকে ইনফর্ম করেন। আমরা দরকার হলে নতুন লোক দিয়ে কাজ করাবো। আমি চাই কাজ হোক। কাজ হতে হবে না হয় জনগণ দুর্ভোগে পড়বে। জনগণ দুর্ভোগে পড়লে আল্টিমেটলি গিয়ে এটার দায়-দায়িত্ব আমাদেরকে নিতেই হবে।
মশা নিয়ন্ত্রণের ঔষুধ সম্পর্কে মেয়র বলেন, মশার ঔষুধের যাতে কোনভাবেই ঘাটতি না পড়ে। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মশায় নিয়ন্ত্রণে যেসব ওষুধ ব্যবহার করছে তার মান যদি ভাল না হয়ে থাকে তাহলে আপনারা নতুন ওষুধের সন্ধান করুন। আমরা সেনা কল্যাণ সংস্থার কাছ থেকে মেডিসিন কিনছি। নৌবাহিনীরও মশা নিয়ন্ত্রণে একটি ওষুধ আছে বা আরো কোন কোম্পানি যদি ভালো ঔষুধের সন্ধান দিতে পারে সেগুলো আমরা সংগ্রহ করবো। এ ব্যাপারে আমরা কোন কম্প্রমাইজ করতে চাই না। মশা নিয়ন্ত্রণে কিছু বিকল্পের কথা ভাবছি আমরা। মশার লার্ভা খেয়ে ফেলে এমন মাছ, কীটপতঙ্গ ব্যবহার করা যেতে পারে।
জনসচেতনতার উপর জোর দিয়ে মেয়র বলেন, আপনারা জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবেন। আমিও চেষ্টা করছি। বিভিন্ন জায়গায় নালা, ঝোপ-ঝাড় এগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডেঙ্গুর ব্যাপারে আমরা লিফলেট বিতরণ করছি এটা আরো বাড়াতে হবে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা জিরোতে নিয়ে আসতে হবে। জণসচেতনতা আমরা যদি বৃদ্ধি করতে না পারি তাহলে আল্টিমেটলি গিয়ে জনগণের আমরা কোন উপকারে আসতে পারবো না। এই ডেঙ্গু মশার জন্য আমরা বারবার বলছি যে কোন জায়গায় ডাবের খোসা তারপর কোন বালতি কোন নির্মাণ সামগ্রী যাতে উন্মুক্ত যাতে না রাখা হয়। কারণ সেখানে যদি পানি জমা থাকে তাহলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিবে। বাসায় দুই-তিন দিনের জন্য বালতিতে পানি জমিয়ে রাখবেন না এবং টবের মধ্যে পানি জমিয়ে রাখবেন না এবং খোলা জায়গায় টব রেখে সেখানে পানি জমা করবেন না কারণ ওখানে পানি জমে গেলেই এডিস মশার লার্ভা জন্মাবে।
মেয়র চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম মাহির কাছে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে তিনি জানান, মশার নিয়ন্ত্রণে ৯১ জনের একটি বিশেষ টিম গঠন করে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অভিযান চালানো হ”েছ। এছাড়া ৪১ টি ওয়ার্ডেই মশা নিয়ন্ত্রণের নিয়মিত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বড় ওয়ার্ড গুলোতে ৫-৬ জন এবং ছোট ওয়ার্ডগুলোতে ৪ জন রুটিন ওয়ার্ক এর জন্য নির্ধারণ করে দেয়া আছে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার লতিফুল হক কাজমি, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মো. ইমাম হোসেন রানা, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, উপ-প্রধান পরি”ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ) সহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম রেঞ্জে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক-২১৪

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন ১১ জেলায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনভর পরিচালিত এ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিশোর গ্যাংবিরোধী এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রেঞ্জ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ৫৭ জন, কক্সবাজারে ৪৪ জন, কুমিল্লায় ৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৪ জন, চাঁদপুরে ১৮ জন, নোয়াখালীতে ৬৮ জন, ফেনীতে ৪ জন, লক্ষ্মীপুরে ২ জন এবং রাঙ্গামাটিতে ৪ জন রয়েছেন। আটক ২১৪ জনের মধ্যে ১৮৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবক বা স্বজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের গোলপাহাড় মোড় থেকে জিইসি মোড়ের ফুটপাত দখলমুক্ত করল চসিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের গোলপাহাড় মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। অভিযানে ফুটপাতের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের সতর্ক করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নগরের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে অভিযান পরিচালনা করেন মেয়র নিজেই। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা কিংবা পণ্যসামগ্রী রেখে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে চসিকের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত জায়গার বাইরে মালামাল না রাখা এবং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা না করার আহ্বান জানান। নগরের সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা মেনে চলারও আহ্বান জানান মেয়র।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে : মেয়র শাহাদাত ছবি-৫ চট্টগ্রাম ব্যুরো: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘী এলাকায় বিশেষ মশকনিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় লালদিঘী ও আশপাশের এলাকায় মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা নিধন, মশকনিধন ওষুধ প্রয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মসূচি পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।তিনি বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণ করতে হবে। মেয়র আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিক নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিধন, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের মাঠকর্মীদের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। নগরবাসী নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজের ঘর-আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, জমে থাকা পানি অপসারণ করুন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করুন। চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে

সর্বশেষ