নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগকে অপমানিত করছে বলে মন্তব্য এসেছে চট্টগ্রামের এক সমাবেশ থেকে। সমাবেশ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল পুনর্বিবেচনা করে পুনরায় প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ভর্তি পরীক্ষায় কোটা বৈষম্য নিরসনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাসেল আহমেদসহ কয়েকজন সংগঠক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ বলেন, আমরা কোটা বৈষম্য দূর করার জন্য রাজপথে নেমেছিলাম। এখনো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় কোটা আছে। আমরা মনে করছি এ ব্যবস্থার মাধ্যমে
আমাদের শহীদদের অপমান করা হচ্ছে। আমাদের সেসব শহিদের আত্মত্যাগকে অপমান করা হচ্ছে। রাজপথে যারা রক্ত ঝরিয়েছে সেসব রক্তকে অপমান করা হচ্ছে। আমরা চাই সকল ভর্তি পরীক্ষায় সবার সমান সুযোগ থাকুক।
তিনি বলেন, সে সঙ্গে অবশ্যই উপজাতি ও প্রতিবন্ধী কোটা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নূন্যতম মাত্রায় রাখতে হবে। আমরা চাই ভর্তি পরীক্ষায় সকল ধরণের কোটা নিরসন করে সবাইকে সুযোগের সমান অধিকার দিয়ে বৈষম্যহীন, সুষ্ঠু ও সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ সরকার কাজ করবে। আমাদের যেন আবারও রাজপথে এসে কোটামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আওয়াজ তুলতে না হয়। আমরা আজই আমাদের দাবির বাস্তবায়ন চাই। সরকারকে আজই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সকল ধরণের ভর্তি পরীক্ষায় কোটা তুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের সমান অধিকারের সুযোগ করে দিতে হবে।

সমাবেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক উদ্দিন মোহাম্মদ তাসকিন বলেন, গণ অভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল কোটা আন্দোলন থেকে। বিগত দিনে কোটা ব্যবস্থার নাম দিয়ে অরাজকতা ও বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে আমরা ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়েছে। আমাদের অনেক ভাই শহিদ হয়েছে। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। অন্তর্র্বতী সরকারের অধীনে কোটা ব্যবস্থায় আজ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হল। নতুন বাংলাদেশে কেন আমাদের এ ধরণের বৈষম্য দেখতে হবে।

আমরা দেখেছি ১৭৩ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পাননি। আবার ১৩০ বা ১৩২ পেয়েও কোনো কোনো শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। আমরা চাই, এ ধরণের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা আর না থাকুক। নতুন বাংলাদেশে এ ধরণের বৈষম্য প্রত্যাশা করি না। অনগ্রসর গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছুটা কোটা থাকবে। আর বাকি সকল ধরণের কোটা যে কোনো নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষা থেকে বাতিল করা হোক। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার যে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সেটাকে পুনর্বিবেচনা করে নতুন করে প্রকাশ করা হোক।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার আমলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য দুই শতাংশ কোটা রাখা হয়েছিল। এবার সেটা রাখা হয়েছে পাঁচ শতাংশ। গতবছর ১০৮ জনকে কোটার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করানো হয়েছিল। এ বছর সেটা বাড়িয়ে ২৬৯ এ নিয়ে যাওয়া হল। ফলাফলে দেখে গেছে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ১৭৩ নম্বর পেয়েও কোনো মেডিকেল কলেজে চান্স পায়নি।

সাকিব হোসেন আরো বলেন, অথচ একজন কোটাধারী শিক্ষার্থী ১৩৭ নম্বর পেয়েও সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়ে গেল। তাহলে বৈষম্য নিরসনের জন্য আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করলাম, সে নতুন বাংলাদেশে কীভাবে ১৩৭ নম্বর পেয়ে একজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পায়। আমরা মেডিকেলের যে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সেটা বাতিল করে আবার নতুন করে প্রকাশের দাবি জানাই।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি : পুলিশ সুপার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে সিভিক সেন্টারে আয়োজিত মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, উন্নত কর্মপরিবেশ, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত স্থান সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এসব জায়গায় শাকসবজি ও ফলমূল চাষের উদ্যোগ নিতে পুলিশ সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করেন।এতে অব্যবহৃত জমির সঠিক ব্যবহার, পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও স্বনির্ভরতা বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা বাড়াতে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
এ ছাড়া প্রতিটি থানায় প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহের বিষয়েও নির্দেশনা দেন।

সভায় পেশাগত দক্ষতা ও বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার, সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধী ও পলাতক আসামি গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সময় পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন পুলিশ সুপার। সেগুলো সমাধানে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ এবং পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সার্কেল অফিসার, কোর্ট ইন্সপেক্টর, টিআই (অ্যাডমিন), ডিআইও-১, আরআই, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে মো. সফি উল্যাহ চৌধুরী (৭০) নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূর নবী (৬০)। এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূর নবী ও তার ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে ১৩ নম্বর চরপার্বতী মৌজার সিএস ৯৯১ নম্বর খতিয়ানের ১২০৮ নম্বর দাগে নকশা অনুযায়ী ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির মধ্যে পাঁচ শতাংশের মালিক ও দখলদার। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া এলাকায় ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে সফি উল্যাহ চৌধুরী অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে নিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে থাকা দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পরে সেখানে মাটি ভরাট করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এতে নূর নবী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে আসেন। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দিলে মারধরের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষ ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী।

নূর নবী বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পর তাদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে সফি উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘সেটি প্রমাণের জন্য আমি আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে ওসির কাছে উপস্থাপন করব।’
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অনেক অভিযোগ জমা পড়ে। লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ