আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

একহাতি বাইক রাইডার জাবেদের তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল মোটরবাইক নিয়ে সারাদেশ ভ্রমণ করবেন। ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ডান হাত হারিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে যায় বাইক বিলাস। চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে ভেঙ্গে যায় মনের গভীরে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। পারিবারিক বিধি নিষেধের জালে আটকে বন্ধ হয়ে যায় তার বাইক চালানো। লালিত স্বপ্ন ঝরা ফুলের মত খসে পড়লেও থেমে যায়নি জাবেদ জাহাঙ্গির রিপনের উদ্যোম।

শুরু করেন একহাতে মোটরবাইক চালানোর কৌশল রপ্ত করার প্রাণপন চেষ্টা। একসময় পুরোপুরি করায়াত্ত হয় একহাতে বাইক চালানোর কৌশল। এখন তিনি একহাতি বাইক রাইডার।

বলছিলাম সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের জাবেদ জাহাঙ্গীর ওরফে রিপনের কথা। যিনি এলাকায় ওয়ান হ্যান্ডেড বাইক রাইডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

একহাতে মোটরবাইক চালিয়ে দেশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে ভ্রমন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তেঁতুলিয়া থেকে রওনা হয়ে একহাতি বাইক রাইডার জাবেদ ২৩ ঘন্টায় টেকনাফ পৌঁছে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।

জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন জানান, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণের জন্য প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাইক চালিয়ে যাত্রা শুরু করেন। সেখান থেকে তিনি রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা হয়ে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় গিয়ে পৌঁছান। অতপর তেঁতুলিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ২৩ ঘন্টা একহাতে বাইক চালিয়ে দীর্ঘ ৯শ’ ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি টেকনাফ জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছান।

জানা যায়, ২০১৬ সালে জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে বাসযোগে যাত্রা করেন। তিনি বাসের ডান পাশের সিটে জানালা দিয়ে ডান হাত বের করে বসেছিলেন। তাদের বাসটি কেরানিহাট ষ্টেশন পার হয়ে সাতকানিয়া রাস্তার মাথায় গিয়ে পৌঁছালে চট্টগ্রামগামী একটি বাসের ধাক্কায় তার ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন। এরপর ২ বছর বিরতি দিয়ে ২০১৮ সালে এক হাতে মোটরবাইক চালনো রপ্ত করেন। তখন থেকে বাইক চালিয়ে বিভিন্ন জেলা ভ্রমণ শুরু করে অদ্যাবধি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত তিনি একহাতে মোটরবাইক চালিয়ে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, ঢাকা, গাজীপুর , নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও পঞ্চগড়সহ ৫৯টি জেলা ভ্রমণ করেছেন। একযোগে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণের পাশাপাশি বিশ্ব ভ্রমণের স্বপ্ন দেখছেন একহাতি বাইক রাইডার জাবেদ জাহাঙ্গির ওরফে রিপন।

তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণের সময় জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপনের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তারই বন্ধু মো. কায়েস উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি মোটরবাইক চালাতে পারি না। সড়ক দুর্ঘটনার কথা মাথায় আসলে বাইকে চড়তেও আমার ভয় হয়। বন্ধু জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপনের অনুরোধ রক্ষার্থে তার মোটরবাইকের পেছনে বসে সফরসঙ্গী হিসেবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণ করেছি ৷ বন্ধু জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন একহাতে মোটরবাইক চালিয়ে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পৌঁছানো অসম্ভবই মনে করেছিলাম। পরে বুঝলাম আমার ধারণা ভুল ছিল। আমি তার এ বিরল ঘটনার সাক্ষী। আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন বলেন, আমি যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তখন থেকে মোটরবাইক চালানো শুরু করি। তখন থেকেই মোটরবাইকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব ভ্রমণ করার স্বপ্ন লালন করছি। তবে ২০১৬ সালে বাস দুর্ঘটনায় আমার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আমার মন থেকে স্বপ্ন বিচ্ছিন্ন হয়নি। যারফলে আজকের এ বাইক ভ্রমন সম্ভব হয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার ডান হাত না থাকায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আমাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরবাইকের রেজিষ্ট্রেশন ইস্যু করছে না। এতে বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে আমাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বর্তমানে আমি আমার মোটরবাইকটি আমার বাবার নামে রেজিস্ট্রেশন করে ব্যবহার করছি। আমি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি আমাকে যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও আমার নামে মোটরবাইক রেজিস্ট্রেশন ইস্যু করা হয় আমি একদিন বিশ্ব জয় করে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করতে পারব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন প্রশাসনের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সবাই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই পদোন্নতির তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতির আদেশে উল্লিখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর বা কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে তাকে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। জনপ্রশাসন সচিবের কাছে সরাসরি বা ইমেইলে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে।

পদোন্নতি পাওয়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো বিরূপ বা ভিন্নরূপ তথ্য পেলে তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বাতিল করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে বড় পরিবর্তনবর্তমানে ২৮৫ জন অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন। নতুন ১১৮ জনকে নিয়ে অতিরিক্ত সচিবরে সংখ্যা হয়েছে ৪০৩ জন। অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা ২১২ জন হওয়ায় পদোন্নতি পাওয়া বেশির ভাগ কর্মকর্তাকে আগের পদেই (ইনসিটু) কাজ করতে হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা আবারও বাদ পড়েছেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ এই তালিকায় জায়গা পাননি বলে জানা গেছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ