সাইফ পাওয়ারটেক থেকে মুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিচালনা করবে কর্তৃপক্ষ নিজেই প্রতি মাসে ব্যয় নির্ধারণ সাত কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবশেষে প্রায় দুই দশক ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘রাজত্ব’ চালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাধর বহুল আলোচিত চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল(এনসিটি) বসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের কাছ থেকে মুক্ত হচ্ছে। আপাদত এনসিটি বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এনসিটি পরিচালনার ভার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আলোচনা নিয়ে নানামুখী বাদ-প্রতিবাদের মধ্যে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই এনসিটি পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে সাত কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণও করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দরে মোট চারটি কনটেইনার টার্মিনাল আছে। সেগুলো হল- চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (কনটেইনার ও বাল্ক-জিসিবি) এবং পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল (পিসিটি)। এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথম নির্মিত ও সবচেয়ে বড় টার্মিনাল, যাতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য কী গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ আরও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে হ্যান্ডলিং হওয়া ৩২ লাখ টিইইউস কনটেইনারের মধ্যে ৪৪ শতাংশ এককভাবে পরিচালনা হয়েছে এনসিটি থেকেই।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো এনসিটিসহ যেকোনো স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতারাও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বরাবরের মতো সরব বামপন্থী দলগুলো দেশি কিংবা বিদেশি অপারেটর বাদ দিয়ে বন্দরকে নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে এরই মধ্যে আন্দোলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে।

তবে এনসিটি বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়ে বন্দরের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে এনসিটি পরিচালনা নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। মূল কাজের বাইরে অতিরিক্ত অপারেশনাল কাজ করতে গিয়ে বন্দরের সক্ষমতা কমে যাবে। দ্রুততার সঙ্গে দেশি কিংবা বিদেশি অপারেটরদের হাতে অপারেশনাল কার্যক্রমের দায়িত্ব হস্তান্তর করা উচিত বলে তাদের অভিমত।

জানা গেছে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে সাত কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এনসিটিতে স্থাপিত কী গ্যান্ট্রি ক্রেন, রাবার টায়ারড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা (আইটি) পদ্ধতিসহ আনুষাঙ্গিক মিলিয়ে এ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ছয় মাস পরিচালনার জন্য প্রতিমাসে সাত কোটি টাকা হারে মোট ৪২ কোটি টাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে এ ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেতে গত ১৯ জুন বন্দর চেয়ারম্যান নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন।

তবে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পাঁচ কোটি টাকার বেশি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কিছু বলতে রাজি হননি। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয় জেনেছেন বন্দর ব্যবহারকারীসহ শ্রমিক-কর্মচারীরা।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে আমি এখনো বিস্তারিত কিছু জানি না। ফলে এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য আপাতত নেই। দুয়েকদিনের মধ্যে আশা করি বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ এক হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের এনসিটি টার্মিনালটি নির্মাণ করে। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে। শুরু থেকেই বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি ছিল, এনসিটি বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করার। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এনসিটি পরিচালনার ভার তুলে দেয় বেসরকারি সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের হাতে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার রুহুল আমিন তরফদার আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর মন্ত্রী-এমপিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে শুধুমাত্র এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েই তরফদার চট্টগ্রাম বন্দরে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলেও অভিযোগ আছে।

সূত্র জানায়, গত ১৫ বছর ধরে দফায় দফায় চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পর সাইফ পাওয়ারটেকের সময় শেষ হচ্ছে আগামী ৬ জুলাই। এমতাবস্থায় গত ১৮ জুন এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাইফ পাওয়ারটেকের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়িয়ে আপাতত ছয় মাস বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোহাম্মদ জাফর আলম বলেন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা, এটা বন্দরের জন্য একেবারে নতুন বিষয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ আগে কখনোই এমন কাজ করেনি। ২০০৭ সালের আগে সেটা লেবার বোর্ড করতো। ২০০৭ সালে প্রণীত শ্রম আইন অনুযায়ী লেবার বোর্ড বিলুপ্ত করা হয়। সুতরাং একেবারে নতুন এ কাজ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চাপে পড়তে হবে। তাদের জন্য কিছুটা ঝুঁকিও তৈরি হল, সক্ষমতা কমে যাবার ঝুঁকি। এখন দেখা যাক, তারা কীভাবে এই চ্যালেঞ্জটা মোকাবিলা করে।

তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাজ নয়। পৃথিবীর কোনো বন্দর কর্তৃপক্ষ এ কাজ নিজেরা করে না, দুয়েকটি পোর্টে হয়তো করে। আমার মতামত হচ্ছে, ছয় মাস বন্দর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করুক, এরপর যেন স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেটা পরিচালনার ভার বেসরকারি অপারেটরকে দেওয়া হয়। দেশি হোক কিংবা বিদেশি অপারেটর হোক, প্রক্রিয়াটা খুবই স্বচ্ছ হতে হবে এবং অংশীজনদের মতামত নিয়ে করতে হবে।

তবে অর্ন্তবর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে এনসিটি সাইফ পাওয়ারটেকের হাত থেকে মুক্ত হলেও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার ভার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখনো তাদের হাতেই থাকছে।
সূত্রমতে, সাইফ পাওয়ারটেকের মেয়াদ শেষের পর এনসিটি পরিচালনার ভার দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়ার জন্য প্রাকপ্রক্রিয়া শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় তার সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যেতে পারেনি।

এর পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। গত ১৪ মে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে এসে বন্দর ব্যবস্থাপনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদেশি সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার অভিমত জানান। তিনি বক্তব্যে বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় পৃথিবীর সেরা যারা তাদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে, যেভাবেই হোক। মানুষ রাজি না থাকলে তাদের রাজি করাতে হবে। মানুষকে গররাজি করিয়ে করার দরকার নেই, রাজি করিয়েই করতে হবে।

অন্তবর্তী সরকারের মতামত প্রকাশ্য হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা এর বিরোধিতা শুরু করেন। বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহযোগী শ্রমিক সংগঠনগুলো গত একমাস ধরে বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে মিছিল-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। বামপন্থী রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠগুলোও রাজপথে নেমেছে।

‘সাম্রাজবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ’ নামে বামপন্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে আগামী ২৭ ও ২৮ জুন দু’দিনের রোডমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এছাড়া, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আগামী ৩০ জুন চট্টগ্রাম বন্দর গেইটে বৃহত্তর শ্রমিক সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

রোডমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি, চট্টগ্রামের সংগঠক ও জেলা সিপিবির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘অন্তর্র্বতী সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদের ওপর বিদেশি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। বিদেশিদের নিয়োগের ফলে দেশীয় কর্মসংস্থান কমবে, শ্রমিকরা বেকার হবে। এ প্রেক্ষাপটে রোডমার্চ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

তবে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ নিয়ে এসব আশঙ্কাকে অমূলক আখ্যায়িত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোহাম্মদ জাফর আলম আরো বলেন, একটা টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং মানে কুলিগিরির কাজ, সেটা দেশি প্রতিষ্ঠানকে দিলেই কী আর বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিলেই কী ! এতে নিরাপত্তাহীনতার কী হল বুঝতে পারলাম না। এগুলো যারা বলেন, তাদের কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থে করেন আর কেউ কেউ অহেতুক ভয় বা আশঙ্কা থেকে করেন বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে মো. সফি উল্যাহ চৌধুরী (৭০) নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূর নবী (৬০)। এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূর নবী ও তার ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে ১৩ নম্বর চরপার্বতী মৌজার সিএস ৯৯১ নম্বর খতিয়ানের ১২০৮ নম্বর দাগে নকশা অনুযায়ী ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির মধ্যে পাঁচ শতাংশের মালিক ও দখলদার। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া এলাকায় ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে সফি উল্যাহ চৌধুরী অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে নিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে থাকা দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পরে সেখানে মাটি ভরাট করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এতে নূর নবী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে আসেন। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দিলে মারধরের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষ ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী।

নূর নবী বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পর তাদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে সফি উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘সেটি প্রমাণের জন্য আমি আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে ওসির কাছে উপস্থাপন করব।’
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অনেক অভিযোগ জমা পড়ে। লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের যোগসাশসে ইটভাটার জন্য প্রবাসীর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটার জন্য এক দুবাই প্রবাসীর বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদীয়া ব্রিকফিল্ডের মালিক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও শ্যালককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার তিন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধেও ইটভাটার মালিকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জমি বন্ধক দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী বিলকায়েছ আরা বেগম ও শ্যালক নূর হোসেন মানিক।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল গোফরানের কেনা বসতভিটার জমিতে ইটভাটা সম্প্রসারণ করতে চান জাকির হোসেন। এ জন্য জমির সীমানায় থাকা টিনের বেড়া ভেঙে দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। জমি বিক্রি কিংবা তার কাছে বন্ধক না দিলে পরিবারটিকে এলাকায় বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জাকিরের লোকজন গোফরানের জমির দক্ষিণ পাশের টিনের বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গোফরানের স্ত্রী বিলকিস আরা বেগম থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।

তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে এসআই নজরুল প্রবাসীর স্ত্রী ও তার বড় ভাইকে থানায় ডেকে নেন। সেখানে জাকিরের কাছে জমিটি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তারা তাতে রাজি হননি। এর চার দিন পর, ১৬ অক্টোবর স্বামীর কেনা জমিতে ২১ ফুট বাই ১৬ ফুট আয়তনের টিন ও কাঠ দিয়ে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ শুরু করেন বিলকায়েছ আরা বেগম। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই নজরুল, এসআই সুমন ও এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একই সঙ্গে জাকিরের সঙ্গে সমঝোতা করে জমিটি তার কাছে বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। অন্যথায় তাদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।

পরিবারটির ভাষ্য, পুলিশের কথায় রাজি না হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই জাকিরের লোকজন নির্মাণাধীন দোচালা ঘর ও টিনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৬ অক্টোবর দুবাই দূতাবাসের মাধ্যমে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল গোফরান। অভিযোগটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে জাকিরের লোকজন আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেঙে ফেলা ঘর ও সীমানাপ্রাচীরের কাঠ ও টিন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

পরিবারটির আরও অভিযোগ, জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও বিধিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে শ্রমিক পরিচয়ে লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটার ভেতরে প্রবাসীর ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর আমার মাটির স্তূপ রয়েছে। আমি তাদের বকেয়া টাকা থাকলে নিয়ে যেতে এবং জমিটি বিক্রি করে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। পরে তাদের জায়গায় রাখা আমার মাটি ও ইটের খোয়া দিয়ে দিতে বললে তারা বাধা দেন। এরপর তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই সুমন ও আনোয়ারও সেখানে যান। উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ইটভাটার লোকজন বাধা দেন। পরে প্রবাসীর পরিবারসহ দুই পক্ষ বিষয়টি বর্তমান ওসিকে অবহিত করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ