আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

কবি আল মাহমুদের সাহিত্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য করার দাবি জানিয়েছে বরিশালের লেখক সমাজ ।

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সোনালী কাবিনের কবি, সমকালীন বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের ৮৯ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে জীবনানন্দের জনপদ বরিশালে। শেকড় সাহিত্য সংসদ আয়োজিত আল মাহমুদ জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলা সাহিত্যে সমকালীন কবিদের প্রধান কবি হচ্ছেন আল মাহমুদ। তিনি এদেশের মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে সাহিত্য রচনা করেছেন, তাঁর সাহিত্যকে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে।

একই সাথে কবি আল মাহমুদের সাহিত্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাংলা বিভাগে পাঠ্যভুক্ত করে পড়াতে হবে। কবি আল মাহমুদ এর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তারা বলেন- “গাঙের ঢেউয়ের মতো বলো কন্যা কবুল কবুল” ; “আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে / হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।

-এমন অসংখ্য হৃদয়পঙক্তির উদগাতা সমসাময়িক বাংলা কবিতার রাজপুত্র কবি আল মাহমুদ।
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ যিনি ‘আল মাহমুদ’ নামে অধিক পরিচিত, ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়াংশে সক্রিয় থেকে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাক্‌ভঙ্গীতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রতিষ্ঠিত সরকার বিরোধী সংবাদপত্র দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। বাংলা কবিতার অনন্য কণ্ঠস্বর কবি আল মাহমুদের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বাবা মীর আবদুর রব। মা রওশন আরা মীর।

স্ত্রী সৈয়দা নাদিরা বেগম। পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ের জনক তিনি। কবিতা লিখে পেয়েছেন মানুষের ভালোবাসা, প্রভূত খ্যাতি ও সম্মাননা।

আধুনিক কবিতায় লোকজ উপাদান ছড়িয়ে দেওয়া কবি আল মাহমুদ পঞ্চাশের দশকের কবিতার অন্যতম প্রধান পুরুষ। তিরিশের আধুনিক কবিরা যখন পাশ্চাত্যের প্রভাবে নাগরিক, নৈর্ব্যক্তিক ও খানিক নিরাশাবাদিতার দ্বারা প্রভাবিত আল মাহমুদ তখন দেশজাত, মানবিকতা, সাম্যবাদ ও এতে লগ্ন থাকার আকুতি জানিয়েছিলেন কবিতায়। বাংলার পাঠক সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। আজ সেই কবির ৮৯ তম জন্মদিন । সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে ১৯৫৪ সালে মাহমুদ ঢাকা আগমন করেন।

 

সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র/পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলা পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন। ১৯৫৫ সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলা পত্রিকার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে তিনি ভারত গমন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। যুদ্ধের পরে দৈনিক গণকণ্ঠ নামক পত্রিকায় প্রতিষ্ঠা-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। সম্পাদক থাকাকালীন সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কারণে এক বছরের জন্য কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন। ১৯৭৫ সালে তার প্রথম ছোটগল্প গ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত প্রকাশিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি পরিচালক হন। পরিচালক পদ থেকে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে। শারীরিকভাবে তিনি নেই কিন্তু বাংলা সাহিত্যে কবি আল মাহমুদের অবস্থান চিরস্থায়ী। কবিতায় আল মাহমুদ এমন এক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন- যা কালের সাক্ষী । শুধু কবিতা নয়, সমকালীন গল্প-গদ্যের অসাধারণ রূপকার আল মাহমুদ।
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন শেকড় সাহিত্য সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, বিগত সরকারের আমলে কবি আল মাহমুদ ও তার সাহিত্যকে চরম অবহেলা করা হয়েছে। কবির মৃত্যুর পর বাংলা একাডেমিতে তাঁর জানাজা পর্যন্ত পড়তে দেয়া হয়নি। যারা এ কাজ করেছে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সম্প্রতি বরিশাল সদর রোডে দৈনিক বাংলাদেশ বাণী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শেকড় সাহিত্য সংসদের সহসভাপতি কবি আল হাফিজ। প্রধান অতিথি ছিলেন নব্বই দশকের খ্যাতিমান কবি নয়ন আহমেদ। মূখ্য আলোচক ছিলেন অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ কবি মাহবুবুল হক।

কবি আল মাহমুদের বর্ণাঢ্য কর্মময় ও সাহিত্য জীবন নিয়ে আলোচনা করেন শেকড় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক কবি ও গবেষক পথিক মোস্তফা, বরিশাল সংস্কৃতি কেন্দ্রের পরিচালক ও দৈনিক বাংলাদেশ বাণী সম্পাদক আযাদ আলাউদ্দীন, কবি খৈয়াম আজাদ, গবেষক ও কলামিস্ট মাহমুদ ইউসুফ, কবি সজীব তাওহীদ, কবি আহমেদ বেলাল, কবি সাইফুল্লাহ সাঈফ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি মৃম্ময় হাসান।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ফুটপাতে উদ্ধার নবজাতকের চিকিৎসা শেষে জিম্মায় দিল পুলিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় পরিত্যক্ত এক নবজাতককে উদ্ধার করে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে আইনি প্রক্রিয়ায় নিরাপদ জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালী থানাধীন ব্রিজঘাট সংলগ্ন এস আলম বাস কাউন্টারের বিপরীত পাশের ফুটপাতে পরিত্যক্ত অবস্থায় একদিন বয়সী একটি ছেলে নবজাতক উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটিকে গামছা ও তোয়ালে জড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দুর্বল থাকায় কোতোয়ালী থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নূরে আল মাহমুদ জানান, প্রায় ২০ দিনের চিকিৎসা শেষে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনণ্ডী ইউনিয়নের বাদামতল এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তারের জিম্মায় দেওয়া হয়। শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়মিত রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পথশিশুদের আইন দিয়ে নয় আদর দিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনুন – আমীরুল ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পথশিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের ডিসি আমীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, পথশিশুরা আমাদেরই সন্তান। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠলেও এদের মধ্যেও রয়েছে অসীম মেধা ও সম্ভাবনা। সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে “আমরা চাটগাঁবাসী” সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পথশিশু ও কিশোরদের জন্য ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং ভালোবাসা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পথশিশুদের কাছে টানতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে সমাজে অপরাধ প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবিএম ইমরানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি গোলাম মওলা মুরাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমী, পাঁচলাইশ থানার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম এবং প্রোগ্রামের স্পন্সর ওয়াহিদ ইলেক্ট্রিশিয়ান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন।

আমরা চাটগাঁবাসীর যুগ্ম সম্পাদক জানে আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাঁচলাইশ থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল আবসার, স্বর্ণলতা স্কুলের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, আরটিআর তারেক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠক তাহসান হাবিব, অধরা মেঘ কলি ও মোঃ আলীসহ অনেকে।অনুষ্ঠানে পথশিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয় এবং তাদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।অনুষ্ঠান শেষে ডিসি মহোদয় বাছাইকৃত শিশু-কিশোরদের নিজ কার্যালয়ে তুলে এনে ঈদের জামা উপহার দেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ