আজঃ শুক্রবার ২০ মার্চ, ২০২৬

পটিয়ায় ঝুলন্ত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রাম পটিয়ায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ঊর্মি আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।  মনসা এলাকা স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত উর্মি বোয়ালখালী উপজেলার ১০ নং করলডেঙ্গা ইউনিয়নো চেয়ারম্যান জনাব হামিদুল হক জানান ২নং ওয়ার্ডে বাড়ি অটোরিকশা চালক আমানত উল্লাহর মেয়ে। তিন বছর আগে তার বিয়ে হয় পটিয়ার মনসা এলাকার নতুন হুজুরের বাড়ি এলাকার নির্মাণ শ্রমিক মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে। নিহতের মা কুনছুমা বেগম জানান, তিন বছর আগে ইসলামী নিয়মে যৌতুক ছাড়া বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে মোজাম্মেলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পরপরই তারা আমাদেরকে চাপ দিয়ে ১০০ বরযাত্রী ও ফার্নিচার আদায় করে নেয়। এরপর থেকে নানা সময়ে নানা যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়েকে তার শাশুড়ি নির্যাতন করতো। কিছুদিন ধরে আম-কাঁঠাল দেওয়ার জন্যও চাপ দিচ্ছিল। আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নয়। নিহতের পিতা আমানত উল্লাহ বলেন, আমার মেয়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপ ছিল। স্বামী ও শাশুড়ি মিলে যৌতুক চেয়ে তাকে কষ্ট দিতো। কয়েকদিন আগে আম-কাঁঠাল চেয়েছিল। কিন্তু আমার মেয়ে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর মধ্যে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোজাম্মেল আমাকে ফোন করে জানায়, আমার মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিহতের স্বামী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিনের মতো সকালেই কাজে বের হয়ে যাই। পরে বাসা থেকে ফোনে জানানো হয়, আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার বিষয়ে পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা বলেন, আমরা খবর পেয়ে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে লা*শ উদ্ধার করি। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, গৃহবধূ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে নিজের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি এবং ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ