আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে জোয়ারের সময় বিপদসীমা কাছাকাছি পানি

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সকাল থেকে ভারী বর্ষণে ভোগান্তিতে নগরবাসী। সাগরের নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলেও চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আরও দুই-তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। রবিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় আপাতত সংকেত নামিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে নিম্নচাপের প্রভাবে ও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে আগামী দুই-তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পাহাড়ধসের সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিকে রবিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১০৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

টানা ভারী বর্ষণের কারণে বিপাকে পড়েন স্কুল, অফিসগামী, শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দিনভর সড়কে যান চলাচল তুলনামূলক কম দেখা গেছে। বিশেষ করে সড়কে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল কম। এ কারণে এসব যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

এদিকে অমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুইদিন ধরে নগরের বিভিন্ন খালের পানি উপচে পড়ছে। এ কারণে নগরের মোহরা ও আগ্রাবাদের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। রবিবার সকালেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। এসব এলাকার স্থানীয় বসতবাড়ি, দোকানপাট ও রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে আছে। এ কারণে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও দোকানের ভেতর থেকে পানি সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

বাংলা বাজার এলাকার বাসিন্দা মো সালাউদ্দিন বলেন, আমার বাসার নিচতলা জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে। পার্কিং এ থাকা গাড়ির চাকা ডুবে গেছে। আর একটু পানি বাড়লে গাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে যাবে। বাসার সামনে কয়েকটি মুদি দোকান আছে, সেগুলোতেও পানি প্রবেশ করেছে।

কালুরঘাট এলাকার ইয়াসিন বলেন, একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে জোয়ারের পানির চাপ। আমার বাসার ভেতরে পানি ঢুকেছে। ইটের উপর ফার্নিচার বসিয়ে কোনোরাকমে রক্ষা করেছি। রান্নাসহ ঘরের আনুষঙ্গিক কাজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। পরে মটরের সাহায্যে পানির পরিমাণ কিছুটা কমিয়েছি।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, কর্ণফুলী নদীতে ৪ দশমিক ১৫ মিলিমিটার জোয়ারের উচ্চতাকে বিপৎসীমা হিসেবে ধরা হয়। সেখানে ২৭ জুলাই  বিকাল ৩টার দিকে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার।

সে হিসেবে পানি বিপৎসীমার মাত্র আধা মিলিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে হালদা নদীতে ৮ দশমিক ৪২ মিলিমিটার জোয়ারের উচ্চতাকে বিপৎসীমা হিসেবে ধরা হয়। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাঁচপুকুরিয়া এলাকায় হালদা নদীতে বিকাল ৩টায় জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৪ দশমিক ৭৮ মিলিমিটার। যা বিপৎসীমা থেকে ৪ মিলিমিটার নিচে আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার জানান, কর্ণফুলী নদীর পানি জোয়ারের সময় একেবারে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে জোয়ারের সময় কিছু কিছু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার গুঁড়া দুধ আমদানি করে : প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসি)-এর গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, লাল গরুর দেশ চট্টগ্রাম। দুধ হয়তো কিছুটা কম দেয়, কিন্তু মাংসের দিক থেকে এবং জাতগত বৈশিষ্ট্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের তুলনা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। উপদেষ্টা বুধবার সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি হাব সংলগ্ন মাঠে “চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়” -শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপষ্টো বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়া দুধ আমদানি করে। এই টাকা যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। গুঁড়া দুধ তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তাই আমাদের শপথ নিতে আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপষ্টো বলেন, ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্প খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। তিনি খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্প ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে ডেইরি কার্যক্রম। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন, লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও এটি এখন তাদের জীবনের অংশ। এর মানে ভবিষ্যতে এখান থেকেই তারা টেকসইভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
নারীরে উদ্দেশে তিনি বলেন, দুধ শুধু উৎপানের পরিসংখ্যান নয়-মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক।

এলডিডিপি’র মাধ্যমে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্র ও শহুরে শিশুদের জন্য যা কার্যকর উদ্যোগ। তিনি বলেন, বাংলাশে তরুণদের দেশ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। আমরা সংগ্রামী জাতি-দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাশে ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মোঃ শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ বয়জার রহমান। এছাড়া এলডিডিপিথর আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রম: বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা শীর্ষক উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের ঘাঁটিতে ‘পুরোনোর’ সাথে ‘নতুন’র লড়াই।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে আসনটিতে জামায়াত-বিএনপি প্রার্থী বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।এই আসনে জামায়াত এবার প্রার্থী করেছে দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য পোড়খাওয়া রাজনীতিক শাহজাহান চৌধুরীকে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন প্রথমবারের মতো নির্বাচনি লড়াইয়ে আসা নাজমুল মোস্তফা আমিন।
ভোটের মাঠের ‘পুরনো খেলোয়াড়’ শাহাজাহান চৌধুরীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক আর নবাগত নাজমুল মোস্তফা আমিনের ধানের শীষের প্রচার চলছে সমানতালে।

প্রথমবার খেলতে নেমে তরুণ নাজমুল বাজিমাত করবেন না-কি বয়সে প্রবীণ শাহজাহানের শিরোপা অক্ষুন্ন থাকবে- লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আপামর জনসাধারণ।
এদিকে প্রচারে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের কাছে সেই নির্যাতনের কাহিনি তুলে কাতর কণ্ঠে ভোট প্রার্থনা করছেন শাহজাহান চৌধুরী। বিভিন্ন গণসংযোগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি শাহজাহান চৌধুরী, আমি বড় মজলুম, নির্যাতিত। সময়ে সময়ে নয়টি বছর আমি কারাগারে কাটিয়েছি। আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমার মা আমাকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমি বড় ছেলে হিসেবে নিজের মাকে কবরে দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আমাদের নেতারা ফাঁসির কাষ্ঠে গিয়েছেন।

আল্লামা সাঈদীকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি রাজপথে রক্ত দিয়েছি। আমি আপনাদের দুয়ারে এসেছি। আপনারা আমাকে ফেরত দেবেন না। অতীতে যেভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করেছিলেন, আমি আবারও আপনাদের কাছে একটি ভোট ভিক্ষা চাই। আগামীদিনে আমি নিরাপদ, শান্তির সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ে তুলব। ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট- আপনাদের যা যা প্রয়োজন, আমি আপনাদের পাশে থাকব।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিনও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ভোটারদের নিজের দিকে টানার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি সন্ত্রাসমুক্ত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে উভয় প্রার্থীই বিরত আছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ১৬ বছর আমি রাজপথে ছিলাম।

আওয়ামী লীগ আমার ওপর অনেক জুলুম করেছে। আমি ঘরে থাকতে পারিনি। রাজনীতিতে আমার ত্যাগের জন্য দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে এ আসনে প্রার্থী করেছেন। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়াবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা গত ৩৬ বছরে এখানে বিভিন্ন প্রতীকের অনেক প্রার্থীকে দেখেছেন। এবার ধানের শীষে আপনাদের ভোট চাই। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আমি সন্ত্রাসের কবর রচনা করব। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে, কথা দিচ্ছি। উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক এলাকা গড়ার জন্য আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন।

ভোটের মাঠের কী অবস্থা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধানের শীষ জনগণের প্রতীক। ধানের শীষ মানেই জোয়ার, ধানের শীষ মানেই ঘূর্ণিঝড়। ইনশাল্লাহ, আমি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সর্বস্তরের জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছি। ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে আমি আশাবাদী। তবে এখানে সন্ত্রাসীদের দাপট দেখতে পাচ্ছি। তারা কিছু একটা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন ভোটের দিনের আগেই অবৈধ অস্ত্র, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, পুরো লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৪ জন। নির্বাচনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী ও বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিনের সঙ্গে প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী।

তিনবার নির্বাচন করে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও গেল ২৫ বছরে চারটি সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের আলোচিত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থায় এবং আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের অধিকাংশ সময়ই তাকে জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। কারাগারের বাইরে থাকলেও দিন কাটাতে হয়েছে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে।

এছাড়া শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে তরুণ বয়সে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হেভিওয়েট নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও বিএনপির প্রার্থী অলি আহমদের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট থেকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল শাহজাহান চৌধুরীকে। কিন্তু অলি আহমদ ওই আসনে নির্বাচন করতে অনড় অবস্থান নেন। ফলে জোট থেকে আসনটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

অলি আহমদ ধানের শীষে এবং শাহজাহান চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। নির্বাচনে তিনি অলি আহমদকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন।কিন্তু ২০০৭ সালে এক-এগারো প্রেক্ষাপট পরবর্তী জরুরি অবস্থায় শাহজাহান চৌধুরী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় সাজা হলে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। পরে অবশ্য ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে সাজা বাতিল হয়। ওই নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আরেক জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

২০১৪ সালে ‘একতরফাভাবে’ অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নিয়ে প্রার্থী করে আ ন ম শামসুল ইসলামকে। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। এর ফলে ২৫ বছর পর জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে আবারও ভোটের মাঠে এসেছেন শাহজাহান চৌধুরী।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি দক্ষিণের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৬ বছরে দলের কঠিন দুঃসময়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিয়ে ও মামলা মোকাবিলায় সহযোগিতা করে তিনি দলের ভেতর গ্রহণযোগ্যতা পান বলে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
নাজমুল মোস্তফা আমিন ছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আরও তিনজন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

এরা হলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. মহিউদ্দিন, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন ও মুজিবুর রহমান। নাজমুলকে প্রার্থী করা হলে তিনজন ও তাদের অনুসারীরা বিদ্রোহ করেছিলেন। কিন্তু হাইকমান্ডের নির্দেশে পরবর্তী সময়ে তিনজনই নাজমুলের পক্ষে কাজ করতে সম্মত হন। বর্তমানে আসনটিতে ধানের শীষের জয়ের জন্য নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ