আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হলেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রাকা আলম।

কে এম রাজীব, চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চলচ্চিত্র, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকান্ডে বিশেষ অবদান রাখায় স্বীকৃতি স্বরুপ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন সুন্দরী মিস বাংলাদেশ-১৯৯৫ খ্যাত চলচ্চিত্র নায়িকা, কক্সবাজার ওমেন্স চেম্বার অব কমার্স এর পরিচালক মাসুকা নাসরিন রাকা। গত ২৬ জুলাই ঢাকার বাংলা মোটরস্থ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে স্টার বাংলাদেশ মিডিয়া ও জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত মিডিয়া অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিয়ার আইকনিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ উপলক্ষে ” উদ্যােক্তার সফলতার পেছনের কথা ও মিডিয়ার ভূমিকা ” শীর্ষক আলোচনা সভা ও ই-ক্রয় প্রেজেন্ট’স অনুষ্ঠানে মাসুকা নাসরিন রাকা’কে এ আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই সাথে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোঃ জয়নুল আবেদীনকে।
বিশিষ্ট অভিনেত্রী মাসুকা নাসরিন রাকা বাংলাদেশ মার্শাল আর্টের জনক প্রজোযক, পরিচালক ও নায়ক ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম এর সহধর্মিণী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে শোবিজ, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক, আইসিটি ও আইটি, রিয়েল এস্টেট, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং নারী উদ্যােক্তা সহ দেশ বরেণ্য মানবিক কাজে যারা দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন তাদের মধ্যে বিভিন্ন কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ৩০ জনকে মিডিয়া অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিয়ার আইকনিক অ্যাওয়ার্ড সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির চেয়ারম্যান, স্টার বাংলাদেশ মিডিয়া ও জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন, ডিএমপি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শাহজাহান সাজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শাহিন হোসেন, আশিক আহমেদ, ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, এ কে এম মুশফিকুল আলম। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এসময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার ছিলেন এটিএন বাংলা।

উল্লেখ, অভিনেত্রী মাসুকা নাসরিন রাকা ১১ই নভেম্বর কুমিল্লা জেলার চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর বেড়ে উঠা ঢাকা শহরে। তাঁর পিতা আব্দুল মান্নান ও মাতা কামরুন নাহার মন্নান। তিনি ছোট বেলা থেকেই সাংস্কৃতিমনা ছিলেন। কবিতা আবৃত্তি, অভিনয়ে ছিলেন বেশ মনোযোগী। তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় ঢাকা আজিমপুর থেকে। তিনি আজিমপুর গার্লস হাই স্কুল থেকে এস এস সি, বদরুন্নেসা কলেজ থেকে এইচ এস সি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওনার্স মাস্টার্স পাশ করেন। পরবর্তীতে স্টামফোর্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার উপর পড়াশোনা করে মাস্টার্স পাশ করে ডাবল এম এ উন্নীত হন।

তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনে ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় শুরু করেন। তাঁর ধারাবাহিক উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে, তথাপি, মাটির মায়, আপন নিবাস ও অতন্ত্র প্রহর। এছাড়া তিনি বেশ কিছু খন্ড একক নাটকে অভিনয় করেন।যার মধ্যে কোথায় ও ক্ষরন, সোনার বলয়, ভালোবাসবে না কেন মন, মন বলে তুমি, আমার দুটি ভাই, ঢাকা চাঁদনি গড়ের কয়েকদিন ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইত্যাদি। এছাড়া তিনি যুক্ত হন লেখালেখি, সাংবাদিকতা, গল্প কবিতার বই লিখাতেও অবদান রাখেন। ১৯৯৩ সালের বই মেলাতে তাঁর প্রথম আবৃত্তির ক্যাসেট প্রকাশ পায়। সেখানে তিনি বেস্ট আবৃত্তিকার হিসেবে বিবেচিত হন এবং
তিনি একমাত্র অভিনেত্রী যিনি বিদেশের মাটিতে মূকাভিনেত্রী হিসেবে অভিনয় করেন।

মাসুকা নাসরিন রাকা’র ১৯৯৭ সালে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম এর হাত ধরে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ” সুন্দরী মিস বাংলাদেশ “। এ ছবি ব্যবসা সফল হওয়ায় তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, একের পর এক ২৫টি ছবিতে কাজ করেন তিনি। তাঁর উল্লেখ যোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে, সুন্দরী মিস বাংলাদেশ, কুংফু নায়ক, পেশাদার খুনি, বিদ্রোহী মাস্তান, ওস্তাদের ওস্তাদ, ডাইরেক্ট এ্যাকশান, লোহার শিকল, মরণ নিশান, লাল চোখ, জলন্ত বিস্ফোরণ, ক্যাপ্টেন মারুফ, পিতা পুত্রের গল্প, নীল নকশা, তুষের আগুন ও আমি নারী ইত্যাদি। ব্যক্তি জীবনে রাকা ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির ঘরে তাজওয়ার আলম ও রেজওয়ার আলম নামের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ শিক্ষিত এই নায়িকা বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকান্ড এবং রিসোর্ট ব্যবসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ