আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

নেত্রকোনায় নারীর নীরব বিপ্লব,সুঁই-সুতায় বদলে যাওয়া শত জীবনের গল্প।

মোঃ নূর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোনা। ‎

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 শহরের ইসলামপুর এলাকার একটি সাধারণ টিনশেড ঘর। বাইরে থেকে একেবারেই সাদামাটা মনে হলেও ভেতরে প্রতিদিন রচিত হচ্ছে শত শত নারীর নতুন জীবনের গল্প। এ ঘরটির নাম স্বপ্নবুনন সেলাই শিখন কেন্দ্র। একটি সুই,সূতা আর কাপড়ের কারুকাজে শুধু পোশাক নয়,গড়ে উঠছে নারীদের আত্মবিশ্বাস,আর্থিক স্বাবলম্বন আর সমাজে নিজস্ব অবস্থান।


‎তিনজন দিয়ে শুরু, এখন শতশত নারী ২০০৫ সালে ‘স্বপ্নবুনন’শুরু করেন উদ্যোক্তা তাহমিদা ইসলাম। শুরুতে অনেকের ঠাট্টা-বিদ্রূপ সহ্য করতে হলেও থেমে যাননি তিনি। সময়ের সাথে সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ দাঁড়িয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ নারীর জীবনের ভরসার জায়গায়। কেউ ঘরে বসেই পোশাক তৈরি করে বিক্রি করছেন,কেউ খুলেছেন নিজস্ব টেইলারিং শপ,আবার কেউ অনলাইনে চালাচ্ছেন হস্তশিল্প ব্যবসা।

‎শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও আলো স্বপ্নবুনন-এর আলো এখন ছড়িয়ে পড়েছে নেত্রকোনার প্রত্যন্ত গ্রামেও। উদ্যোক্তা তাহমিদা ইসলাম খুঁজে নিচ্ছেন গৃহবধূ, বিধবা,কিংবা স্বামী-পরিত্যক্ত নারীদের। তাঁদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন সূঁচ-সূতা,শেখাচ্ছেন ব্লাউজ, থ্রি-পিস থেকে শুরু করে শিশুদের জামা তৈরির কৌশল। শুধু সেলাই নয়,জীবনের নতুন বুনন প্রতিদিন ৫০-৬০ জন নারী নিয়মিত আসেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। তাঁদের মধ্যে কেউ স্কুলপড়ুয়া কিশোরী,কেউ সংসারের হাল ধরা নারী। সেলাই শেখার পাশাপাশি তাঁরা খুঁজে পাচ্ছেন আত্মবিশ্বাস, আয়ের পথ এবং পরিবারের ভরসা হয়ে ওঠার সুযোগ। অনেকেই আজ সংসারের প্রধান উপার্জনকারী। চালাচ্ছেন সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের খরচ ও চিকিৎসার দায়িত্ব।

‎‘স্বপ্নবুনন’এখন আর কেবল একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নয় এটি হয়ে উঠেছে নারীর ক্ষমতায়নের এক নীরব বিপ্লব। যেসব নারী একসময় নিজেকে অযোগ্য ভাবতেন,আজ তাঁরাই অন্য নারীদের অনুপ্রেরণার উৎস।

‎তাহমিদা ইসলাম বলেন,আমার স্বপ্ন এই প্রশিক্ষণ শুধু ইসলামপুরে নয়,দেশের প্রতিটি গ্রামের নারীর কাছে পৌঁছাক। স্বাবলম্বী হওয়াই নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন। যারা একসময় বলতেন এসব শিখে কী হবে, তারাই এখন বলছেন দারুণ কাজ করছেন।
‎তিনি আরও জানান, সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে এ উদ্যোগ জেলায় জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। ২০২৬ সালে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও করেছেন তিনি,যেখানে আরও বহু নারী কাজের সুযোগ পেয়ে নিজেদের জীবন বদলাতে পারবেন। স্বপ্নবুনন’তাই শুধু কাপড়ের বুনন নয়, নারীর স্বপ্ন ও জীবনের নতুন পথে হাঁটার গল্প।

০১৭১১০০১৭১৯

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

চট্টগ্রামের বাংলাবাজারে রেলের বগিতে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের মাঝিরঘাট বাংলাবাজার এলাকায় রেলের কয়েকটি বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, বারিকবিল্ডিং এলাকার পাশে এসআরবি স্টেশনে রেলের পুরাতন বগিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নির্বাপণে কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ