আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

দারুননাজাতের তরুণ শিক্ষাবিদের আল-আজহারে প্রথম স্থান অর্জন।

লেখক ও কলামিস্ট, শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের আকাশে সাফল্যের যে নক্ষত্রেরা ঝলমল করে, তাঁদের কাতারে যুক্ত হলো আরেক উজ্জ্বল নাম—মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দীন আজহারী। মেধা, শ্রম ও অদম্য স্বপ্নের সমন্বয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কায়রোর প্রাচীনতম ও বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের হাদিস বিভাগ থেকে পিএইচডি তামহীদিতে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি শুধু নিজেকে নয়, সমগ্র জাতিকে করেছেন গর্বিত।

শিহাব উদ্দীনের শিক্ষাযাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের মাটিতে, যেখানে শৈশব থেকেই তিনি মেধা ও নিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০১২ সালের দাখিল ও ২০১৪ সালের আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন তিনি। পরে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাযিল এবং বাংলাদেশ আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কামিল সম্পন্ন করে ইসলামী জ্ঞানের ভাণ্ডারে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। প্রতিটি ধাপে ছিল তাঁর সাফল্যের পদচিহ্ন, প্রতিটি স্তরে ছিল বিশ্বমঞ্চে নিজেকে গড়ে তোলার প্রস্তুতি।

২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত স্কলারশিপ নিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয় আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভাষা শিক্ষা কোর্স শেষে ২০১৭ সালে তিনি ভর্তি হন উসুলুদ্দীন অনুষদে। শুরু হয় দীর্ঘ সাধনা আর কঠোর পরিশ্রমের অধ্যায়। ২০২১ সালে সফলভাবে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর ২০২১/২২ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৮৩ শতাংশ নম্বর অর্জন করেন, যা এ প্লাসের সমতুল্য। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তাঁর এমফিল থিসিস সম্পন্ন করে তিনি পান সর্বোচ্চ গ্রেড মুমতাজ বা এক্সেলেন্ট। আর সর্বশেষ ২০২৫ সালে তাঁর অধ্যবসায়ের শীর্ষ ফসল মিলল—৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ফলাফলে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগে পিএইচডি তামহীদির ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি ৮৫.২২ শতাংশ নম্বর (A+) পেয়ে ডিপার্টমেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

শিহাব উদ্দীনের কৃতিত্ব কেবল পাঠ্যপুস্তক ও পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্যও হয়ে উঠেছেন এক নির্ভরতার ঠিকানা। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা হিসেবে টানা তিন বছর দায়িত্ব পালন করে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও দায়বদ্ধতা দিয়ে একটি প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়া যায়। তাঁর দিকনির্দেশনায় সংগঠনটি হয়ে উঠেছে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের ঐক্য, সহযোগিতা ও আত্মপ্রত্যয়ের উজ্জ্বল প্রতীক।

এছাড়া ২০২০ সালের জুন মাসে তাঁর হাতেই প্রতিষ্ঠিত হয় মারকায সওতুল ইসলাম, যা আজ বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টা ও অদম্য সাধনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৭ জন শিক্ষার্থী আল-আজহার, মদিনা, কিং আব্দুল আজিজ, তাবুক, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ, আল-কাসিমিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও ইরাকের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আল-মদিনা অ্যাপ্লিকেশনস-এর মতো সহযোগী প্রতিষ্ঠানও তিনি গড়ে তুলেছেন, যা দিন দিন হয়ে উঠছে আগ্রহী তরুণদের আশার আলো।

মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দীনের এই সাফল্য নিছক ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য এক বিরল গৌরব। তিনি প্রমাণ করেছেন—অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর নৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে একজন তরুণ শুধু বিশ্বমানের শিক্ষাঙ্গনে আলো ছড়াতে পারে না, বরং প্রজন্মের জন্য প্রেরণার আলোকবর্তিকাও হয়ে উঠতে পারে। তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের নামকে যেমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল করেছে, তেমনি নতুন প্রজন্মকে দেখিয়েছে স্বপ্ন দেখার নতুন দিগন্ত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব র‍্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যাফেল ড্র–এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, পাঠাগার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আব্দুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বিজয়ী মোট ৩০ জন সদস্যের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করেছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সদস্যগণ পেশাগত জীবনে র‍্যাফেল ড্র’তে পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে তাদের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

সিভাসু’তে ‘দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে শীর্ষক ১০ দিনের প্রশিক্ষণ ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ‘দ্গ্ধুজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক দশ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সিভাসু’র পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি) এবং ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পিআরটিসি’র বোর্ড মিটিং কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নিবন্ধক মো. ইসমাইল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, ঢাকার যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সুব্রত কুমার সিকদার। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ এবং বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সিভাসু’র সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন পিআরটিসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

দশ দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দুধ থেকে দই, মিষ্টি, মাখন, ঘি, পনির, ছানা, লাবাং, বোরহানি, মাঠা ইত্যাদি তৈরির বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সিভাসু’র ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ, প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রফেসর ড. মো: সাইফুল বারী ও ডা. উম্মে সালমা আমিন,

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ, সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, চট্টগ্রামের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওমর ফারুক, বিএসটিআই চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার (সার্টিফিকেশন মার্কস উইং) প্রকৌ. মো: মাহফুজুর রহমান এবং ট্রেড গ্লোবাল লিমিটেড, ঢাকার সিনিয়র সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মো: শরিফ হোসেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্রাহ্মনবাড়িয়া, কুতুবদিয়া ও চকরিয়া অঞ্চলের দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের ২৫ জন সমবায় সমিতির সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ