চট্টগ্রামে ভোটার বেড়েছে সাড়ে তিন লাখ, কমছে ৬৪টি ভোটকেন্দ্র ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

৮৬টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে আপত্তি নিস্পত্তিতে শুনানি ৯ অক্টোবর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ভোটার বাড়লেও বাড়েনি ভোট কেন্দ্র। উল্টো ৬৪টি ভোটকেন্দ্র ও ১০৭৬টি ভোটকক্ষ কমছে। ভোটার বাড়লেও সেই তুলনায় ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ বাড়েনি। বরং কমেছে। এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮৬টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। আপত্তি নিষ্পত্তিতে শুনানির তারিখও নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৩ জন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৭ জন। দুই বছরের কাছাকাছি সময়ে ভোটার সংখ্যা বাড়ছে তিন লাখ ৫৪ হাজারের বেশি।

এর আগে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ)। এর পরবর্তী সময়ে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে। ২০১৪ সালে দশম, ২০১৮ সালে একাদশ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কোনটি একতরফা,

দিনের ভোট রাতে ও সর্বশেষ আমি আর ডামি নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পায়। দেশ-বিদেশে এসব নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কার ও বাংলাদেশের ইতিহাসে মডেল নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনটি নির্বাচন ছিল আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন। এসব নির্বাচনে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ভোটবিমুখ হয়ে পড়েন। আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে ভোটপ্রদানের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

অন্যদিকে ভোটকেন্দ্র কমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমদ বলেন, গত সরকার আমলে দলীয় প্রার্থীদের চাপে-মতামতের ভিত্তিতে কিছু ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এমনকি তাদের বাড়ির আশপাশেও ভোটকেন্দ্র বসানো হয়েছে। আমরা সরেজমিন তদন্ত করে দেখেছি, এসব ভোটকেন্দ্র রাখার প্রয়োজন নেই। তাই এসব অবাঞ্চিত কেন্দ্র বাদ দিয়ে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভোটারের মধ্যে তিন লাখের বেশি তরুণ ভোটার। আগামী নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন এসব ভোটাররা।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমদ বলেন, ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়া তালিকার কয়েকটিতে আপত্তি পড়েছে। ৯ অক্টোবর আপত্তি-শুনানি শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন তালিকায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৫৯টি। ভোটকক্ষের সংখ্যা ১২ হাজার ৬৫৬টি। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে ভোটকেন্দ্র ৬৪টি ও ভোটকক্ষ ১০৭৬টি কম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমদ আরো বলেন, নতুন নীতিমালায় ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য একটি ও ৫০০ জন মহিলা ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ স্থাপন করতে হবে। সেই অনুযায়ী ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে,।

জানা গেছে,মোট কেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে আপত্তি তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবরে আপত্তি দাখিল করেছেন। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন এবং চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতাকনিয়া আংশিক) নিয়ে কোনো আপত্তি না আসলেও অন্যান্য আসনগুলো নিয়ে আপত্তি আসে।

সূত্র জানায়, সবচেয়ে বেশি আপত্তি জমা পড়েছে চট্টগ্রাম-১২(পটিয়া) আসনে ১৮টি। এরপর চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর-পাহাড়তলী-খুলশী) আসনের আপত্তি জমা পড়েছে ১০টি। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও) আসনের আপত্তি জমা পড়েছে ১০টি। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও চসিকের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) এবং চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের আপত্তি জমা পড়েছে ১টি করে। আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ন্যাম ভবনের ৫নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনও জানা যায়নি।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, রুমের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তবে কখন, কীভাবে কেন এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের দেয়া তথ্যে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ফরেনসিকের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। এরপর তারা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আলাদা আলাদা রুমে যান। পরে ৫টার পরে ছোট স্ত্রী মরিয়মকে ডাকতে গেলে দরজা বন্ধ পান। পরে জানালা দিয়ে দেখেন আলোচিত দ্বিতীয় স্ত্রী ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। পরে তিনি থানা পুলিশকে জানান। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয় বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন ফকিরাবাদে বকশিপাড়ায় স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে। তমা খাতুনের স্বামী বক্কর হোসেন এখন ভেড়ামারা থানা পুলিশ হেফাজতে। তমা খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান। নিহত তমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ