আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদকে আইকনিক মসজিদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : ধর্ম উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার এবং মুসল্লিদের সহায়তায় চট্টগ্রামের প্রাচীনতম মসজিদ আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদকে দৃষ্টিনন্দন এবং আইকনিক মসজিদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেই লক্ষ্যে আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। উপদেষ্টা রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ এর পুনঃনির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। ওই টাকার উপর নির্ভর করে চট্টগ্রামের সকল গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিদের থেকে ফান্ড সংগ্রহের মাধ্যমে এই আইকনিক মসজিদ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। চট্টগ্রামের মানুষের মন অনেক বড়, আশা করি সকলের সহযোগিতায় আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদকে আইকনিক মসজিদে রুপান্তরিত করতে কষ্ট হবে না। মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে মসজিদ নির্মাণে যতটুকু সহায়তা প্রয়োজন তা সাধ্যমত করা হবে।

উপদেষ্টা আরো বলেন, এই মসজিদে আমি ছোটকাল থেকে নামাজ পড়ি। তাই এই মসজিদের প্রতি আমার আলাদা একটা টান আছে। আমরা যদি আমাদের ওআইসি ভুক্ত মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন সংস্থা এবং দেশকে এই প্রজেক্টটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারি আমরা আশা করি তাদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাব। সেজন্য ধর্ম মন্ত্রনালয়ের পক্ষ্য থেকে যথাসাধ্য সহায়তা করা হবে।

মসজিদের ডিজাইন দৃষ্টিন্দন হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, নির্মিত মসজিদে একসাথে ১৪০০০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবে।প্রতিবন্ধীদের জন্য নামাজ আদায়ের আলাদা ব্যবস্থা থাকবে, মার্কেট থাকবে, অডিটোরিয়াম থাকবে, খাদেম-মুয়াজ্জিনদের জন্য আবাসন সুবিধাসহ নানা সুবিধা বিদ্যমান থাকবে। তিনি বলেন, এখানে দুটি সমস্যা আছে। মসজিদের জায়গা বেদখল এবং এটিকে সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের আওতাভুক্ত করেছে। কিন্তু অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে আমরা এটিকে বাইরে থেকে দেখতে পাইনা।তাই এ মসজিদের কাঠামো বিদ্যামান রেখে আমাদের নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করতে হবে। এই মসজিদ যদি নামাজ পড়ার অনুপযুক্তও হয়ে যায় বাঁশ দিয়ে হলেও এটিকে রক্ষা করতে হবে। কোনমতেইএটি ভেঙ্গে ফেলা যাবে না। এটাকে অক্ষুন্ন রেখে যাতে মুসল্লিরা ইমাম সাহেবকে দেখে নামাজ আদায় করতে পারে সেভাবে মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এতে করে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ ও রক্ষা পাবে মসজিদের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস সালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মসজিদ মুসল্লি কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা.শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল্লাহ নুরী, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব আল্লামা সাইয়েদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল মাদানী, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক ও মসজিদ মুসল্লি কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ সালাউদ্দিন কাশেম খান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফের ব্যবস্থাপনায় শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১০ জুন ২০২৬খ্রি. বুধবার বাদ মাগরিব গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফ এর ব্যবস্থাপনায় ৫ দিন ব্যাপী শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল-২০২৬ উপলক্ষে ২য় প্রস্তুতি সভা কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল মাহফিল এর অতিথি ও বক্তা নির্ধারণ, অনুষ্ঠানের দাওয়াত ও প্রচার, সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে, বিবিধ। এসময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ছালেহ সুফিয়ান, কাজী হাবিবুল হোসাইন, মো.ফজলুল হক, মো. শওকত হোসাইন, মো. খোরশেদ আলম, মো.রুকুনুজ্জামান টুটুল, আবদুল মান্নান, মাওলানা মুজিবুল হক, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, এসএম জাবেদ হোসাইন, হারুনুর রশিদ, কাজী আশরাফ হোছাইন, মো. জিয়াউল হাসান সাইফ, মো. শাহীন মুরাদ রাজা, সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিব, মো. আকতার মিঞা সমন্বয়কারী, মোহাম্মদ আব্দুর রব, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম রিমন, দিদারুল আলম লোকমান, মো. মুজিবুর রহমান রাসেল, লায়ন ডা.বরুণ কুমার আচার্য বলাই, বাবু প্রবোধপাল, দেবরাজ পাল, সৈযদ আবু আহমদ, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, মো. নুরমিয়া, মো. রানা সরকার, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মো. কামাল উদ্দীন, মো. শাহজাহান মনজু, মো. ইদ্রিস আলী, মুহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, মু. আমান উল্লা খান চৌধুরী লিটন প্রমূখ।

চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ্ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতের নামাজ আদায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ্ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতের নামাজ আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি। আজ বৃহস্পতিবার ২৮ মে সকাল ৭টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা আলহাজ সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। নামাজ শেষে তিনি ঈদের খুতবা প্রদান করেন এবং কোরবানির তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা ও মাংস বণ্টনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান তুলে ধরেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঈদের প্রধান জামাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়ামান আলম শেঠসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করেন।একই স্থানে সকাল ৮টায় দ্বিতীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।
এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি দেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ