আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

মহাসমাবেশ ২৫ জানুয়ারী ২১ বছর পর চট্টগ্রামে আসছেন তারেক রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ২১ বছর পর আগামী ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনি মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দলটির এ শীর্ষ নেতার উপস্থিত থাকার কথা আছে। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে একদিন আগেই তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন, এমন তথ্য দিয়েছেন দলটির নেতারা। সমাবেশের প্রস্তুতির জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নগরীর মেহেদিবাগের বাসভবনে যৌথসভা আহ্বান করেছেন।

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সভায় উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রামে এসেছিলেন ২০০৫ সালে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি প্রচারণায় এসে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে জনসভা করেছিলেন। এরপর এক-এগারো পরবর্তী জরুরি অবস্থায় তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন এবং একপর্যায়ে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। দেড় দশক পর দেশে ফিরে তিনি পিতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম শহরে আসছেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে।

নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ২৫ জানুয়ারি সকাল ১১টায় নগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিএনপির নির্বাচনি সমাবেশ হবে। সমাবেশের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ‘উনি (তারেক রহমান) ২৪ জানুয়ারি রওনা দেবেন। প্রাথমিকভাবে আমরা বার্তা পেয়েছি যে, ২৪ তারিখ উনি নোয়াখালী, ফেনী, মিরসরাই এবং ফাইনালি সীতাকুণ্ড হয়ে চট্টগ্রাম শহরে আসবেন। ২৪ তারিখ রাতে উনি এখানে একটা হোটেলে অবস্থান করবেন। পরদিন সকালেই প্রোগ্রামটা করে উনি হয়তো-বা চলে যাবেন। প্রোগ্রামটা যদিও এখনো ফাইনালি সাজানো হয়নি। উনি কি বিমানে আসবেন না-কি সড়কপথে আসবেন, সেটা এখনো ফাইনাল হয়নি। তবে উনি ২৪ তারিখ রাতে চট্টগ্রামে অবস্থান করবেন, এটা ফাইনাল হয়েছে এবং ২৫ জানুয়ারি উনি সমাবেশ করবেন ইনশল্লাহ।

নগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে এখন সমাবেশের জোর প্রস্তুতি চলছে। মাঠটিকে সংস্কারের মাধ্যমে সমাবেশের উপযোগী করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মঞ্চ স্থাপনের প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে। পলোগ্রাউন্ড ময়দানে গিয়ে মাঠের সার্বিক অবস্থা, মঞ্চ স্থাপন, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত বিষয় খতিয়ে দেখেন। একইসঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, আমরা আসলে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান এবং আনন্দিত। আমি যখন ২০১২ সালে দলের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, আমরা একটা ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ এখানে (পলোগ্রাউন্ড) করেছিলাম। এটাই ছিল আক্ষরিক অর্থে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চট্টগ্রামে শেষ সমাবেশ। এরপর আর সমাবেশ হয়নি। উনি ২০১৭ সালে আরেকবার এসেছিলেন, সেটা ছিল পথসভা, উনি সরাসরি রোহিঙ্গাদের দেখতে গিয়েছিলেন এবং দেখে চলে এসেছিলেন। পথে পথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ দেশনেত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছিল।

এর আগে, আমাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, উনি চট্টগ্রামে শেষ সমাবেশটা করেছিলেন লালদিঘীর ময়দানে ২০০৫ সালে মেয়র নির্বাচন উপলক্ষ্যে। ২১ বছর পার হয়ে গেছে। ২১ বছর পর উনি চট্টগ্রামে আসছেন। এখন চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে অনেক উন্মাদনা। এখানে শুধু আমাদের দলীয় নেতাকর্মী নয়, চট্টগ্রামের মানুষ উনাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। চট্টগ্রামবাসী উনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
চট্টগ্রামের মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ২৫ ডিসেম্বর উনি যখন ফিরলেন, তখন কিন্তু দেশের মানুষ বার্তা দিয়েছে যে উনাকে তারা কতটা ভালোবাসে। সেভাবে চট্টগ্রামের মানুষও একটা বার্তা উনাকে দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস। চট্টগ্রামবাসীও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন উনি কী বার্তা নিয়ে আসবেন। আমরা আশা করি জনসমাবেশটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

সমাবেশের সময় আমাদের ২৫ জানুয়ারি সকাল ১১টায় বলা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে ১০টায় টাইম দেওয়া হচ্ছে, বাট সকাল থেকেই সবাই চলে আসবে। উনি হয়তো সমাবেশস্থলে আসতে সকাল ১১টা নাগাদ হতে পারে। আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, শুধু নেতাকর্মীদের নয়, আমি চট্টগ্রামবাসীকে আহ্বান জানাই, অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে ফেস্টিভ মুডে উনাকে বরণ করে নেবেন। চট্টগ্রামকে নিয়ে উনার কী প্ল্যান আছে, দেশকে নিয়ে উনার কী প্ল্যান আছে অবশ্যই সেগুলো উনি বলবেন, একটা সুন্দর বার্তা চট্টগ্রামবাসীর জন্য দেবেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ