২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চলিতি বছরে উম্মুক্ত হচ্ছে চউক’র ৪ লেন সড়কে যান চলাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যান চলাচলে গতিশীলতা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তপক্ষ (চউক) এর ৯ কিলোমিটার ৪ লেন সড়কের কাজ দ্রুত গতিতে শেষ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত কাজ অব্যহত থাকলে চলতি বছরই এ সড়কে যান চলাচল করতে পারবে বলে জানা গেছে। চউকের ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশেষ এই মেগা প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় আউটার রিং রোড প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শহরের যান চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমনটি মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

চউক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির মাত্র ৬শ’ মিটার রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় নতুন করে ছয় মাস সময় চাওয়া হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কালুরঘাট থেকে মাত্র ১০ মিনিটে নগরীর কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুসহ সন্নিহিত এলাকায় পৌঁছে যাওয়ার লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। নগরীর বিস্তৃত এলাকার জীবনমান এবং আবাসনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি শহর রক্ষা বাঁধ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যেই বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিতে পর্যটন এবং নগরবাসীর প্রাত্যহিক বিনোদনের জন্যও ব্যাপক আয়োজন রয়েছে। সাত কিলোমিটারের ওয়াকওয়েসহ নদীর পাড়ে মানুষের ‘শ্বাস ফেলার’ জায়গা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে নানা ধরনের সংকটের মাঝে পড়ে। এরমধ্যে কোভিড পরিস্থিতিতে দুই বছর প্রকল্পের কাজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নানামুখী সংকটের মোকাবেলা করতে হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের নানা সীমাবদ্ধতায় প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে ৯ কিলোমিটার ৪ লেন সড়কের প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটারের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। বর্তমানে কালুরঘাট অংশে আধা কিলোমিটার এবং কর্ণফুলী সেতু এলাকায় ১শ’ মিটারের মতো সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে।

প্রকল্প পরিচালক চউক’র প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের রাস্তার প্রায় পুরো কাজই শেষ হয়েছে। শুধু কালুরঘাট অংশে আধা কিলোমিটার এবং কর্ণফুলী সেতু প্রান্তে একশ’ মিটার রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। এই অংশের কাজও শেষ পর্যায়ে। অচিরেই আমরা সড়কের এই অংশের কাজও সম্পন্ন করবো। তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণ এবং স্লুইচ গেট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। একটি মাত্র ছোট্ট স্লুইচগেটের কাজ বাকি রয়েছে। সেটির কাজও শেষ পর্যায়ে। এটিতে কোন রেগুলেটর বা পাম্প নেই। ছোট্ট স্লুইচগেট, মাস দুয়েকের মধ্যে এই স্লুইচগেট নির্মাণের কাজ শেষ হবে। তিনি আরো বলেন, শহরের দ্বিতীয় আউটার রিং রোড হিসেবে এই সড়কটি আগামী ডিসেম্বরে পুরোদমে যান চলাচল করবে। রাস্তা, বাঁধ এবং ওয়াকওয়েসহ বিনোদনমূলক বিভিন্ন অবকাঠামো নগরীর পর্যটন খাতে একটি নয়া মাত্রা যোগ করবে বলে তার আশা।

চউক সূত্রে আারো জানা গেছে, মহানগরীর যান চলাচলে গতিশীলতা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে নগরীর কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু (চাক্তাই খালের মুখ) থেকে কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণ করা হচ্ছে। ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পটি সিডিএর বিশেষ মেগা প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটিতে সড়কের পাশাপাশি রেগুলেটরসহ ১২টি স্লুইচ গেট নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে চাক্তাই এবং রাজাখালী খালের মুখের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুইটি স্লুইচ গেটও রয়েছে।
প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে বোটপাসসহ ১২টি স্লুইচগেট নির্মাণ করা হচ্ছে। ১২টি স্লুইচ গেটের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১টি নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এগুলো পুরোদমে চালু করা হয়েছে। এসব স্লুইচগেটে নেদারল্যান্ডস থেকে আনা গেট স্থাপন করা হয়েছে।

বসানো হয়েছে পাম্প। বৃষ্টির সময় পাম্পের মাধ্যমে পানি নদীতে ফেলা হয়। চালু হওয়া ১১টি স্লুইচগেটের সুফল গত বর্ষায় নগরবাসী পেয়েছে বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলেছেন, এতে নগরীর বিস্তৃত এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের ক্ষেত্রে বড় ধরণের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নগরীর বহু এলাকা অসহনীয় জলাবদ্ধতা থেকে নিস্তার পেয়েছে। বৃষ্টির সময় জোয়ারে গেটগুলো বন্ধ করে পাম্প করে পানি নদীতে ফেলা হয়। ভাটির সময় গেট খুলে দেয়া হয়। এতে পানিগুলো সহজে নদীতে গিয়ে পড়ে। আগে বৃষ্টির সময় জোয়ার হলে যেভাবে নদীর পানি নগরীতে প্রবেশ করতো উপরোক্ত স্লুইচগেটগুলো চালু হওয়ায় সেই অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে বলেও প্রকৌশলীরা উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজে গতি আনতে সরেজমিনে তদারকি অব্যাহত রেখেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের চলমান কার্পেটিং কাজ পরিদর্শন করেছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে মেয়র সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কার্পেটিং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্পেটিং কাজ শেষ হলে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিন সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে। কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমরা মাঠে থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করছি।

কার্পেটিং কাজ শেষ হলে অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়ক ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ার পাশাপাশি নগরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্রগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে চলছে অস্থিরতা। চাল-ডাল-তেলসহ সব ধরনের শাক-সবজির বাজারে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে সীমিত আয়ের মানুষের।নগরীর কর্ণফুলী মার্কেট, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, কাজির দেউড়ি, চকবাজার ও ২ নম্বর গেইট কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বরবটির দাম গত সপ্তাহের ৮০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকা হয়েছে, কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। বেগুন গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৪০ টাকা, অর্থাৎ ২০ টাকা বেড়েছে। শিমের কেজি ২০০ থেকে ২১০; যা কিছুদিন আগেও ১৮০ থেকে ২০০ ছিল। কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। গত সপ্তাহে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। গাজর গত সপ্তাহের মতোই ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে ও করলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পটলের দামও গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের সবজি বিক্রেতা শামসুল আলম বলেন, সবজির দাম প্রতিদিন একরকম থাকে না। পাহাড়তলী আড়তে সরবরাহ ও কেনা দামের ওপর নির্ভর করে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা ওঠানামা করে।
বহদ্দারহাট বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির দাম এখনও পুরোপুরি সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনতে গেলে মোট খরচ বেশ বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের মাছ বিক্রেতা জুয়েল শেখ বলেন, আড়তে মাছের দাম বেশি থাকায় আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচও রয়েছে। তাই খুচরা বাজারে মাছের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে বাজারে অনেকটা চড়া দামে ফার্মের মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা।

চকবাজারের ডিম বিক্রেতারা জানান, ডিমের দাম কয়েকদিন ধরে প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম খুব একটা কমছে না। গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম পাড়া ও ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। এতে সার্বিকভাবে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ডিম-মুরগির দাম কমছে না।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ