স্বপ্ন নিয়ে গেল প্রবাসে, ফিরল লাশ হয়ে- শেষযাত্রায় হাজারো মানুষের অশ্রুস্রোত

রেজাউল ইসলাম মাসুদ, জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অভাব ঘুচিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই সুদূর প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন তরুণ সোহান। কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা তাকে ফিরিয়ে আনল নিথর দেহ হয়ে এক রক্তাক্ত পরিণতির নির্মম সাক্ষ্য রেখে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ছয় দিন পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায় ২১ বছর বয়সী সোহানের মরদেহ। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

শেষবারের মতো একনজর দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে তার বাড়িতে। কান্না, আহাজারি আর নিঃশব্দ বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ। নিহত সোহান ওই গ্রামের দুলাল মিয়ার একমাত্র ছেলে। সংসারের হাল ধরতে ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ এক বুক হাহাকারে পরিণত হয়েছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের অদূরে কতলেহং এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। সেখানে একটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন মুদি দোকানে কর্মরত ছিলেন সোহান। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নামাজের পর হঠাৎ লোডশেডিং হলে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। সেই সুযোগে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দোকানে ঢুকে পড়ে। দোকানের মালিক পেছনের দিকে গেলে একা থাকা সোহানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় এই তরুণের।

শুক্রবার সকালে সোহানের মৃত্যুসংবাদ গ্রামে পৌঁছালে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মা। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো চিকনমাটি গ্রাম। দীর্ঘ ছয় দিন পর প্রিয় সন্তানের মরদেহ হাতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের বাবা দুলাল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলের লাশ দেখতে হবে কখনো ভাবিনি। ধারদেনা করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম ভাগ্য বদলাতে, এখন সব শেষ হয়ে গেল।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং একই দিন জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। প্রবাসে জীবনযুদ্ধে নামা অসংখ্য তরুণের মতো সোহানও স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন দূরদেশে। কিন্তু তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল প্রবাসের পথ শুধু সম্ভাবনার নয়, অনেক সময় তা অনিশ্চয়তা আর ঝুঁকিতে ভরা এক কঠিন বাস্তবতা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন আইনমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আদালতে মামলা দায়েরের আগেই নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-কেইস মেডিয়েশন) কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান।

ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. জামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ২১(খ) ধারার আওতায় প্রাথমিকভাবে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের ১০টি জেলায় বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের আগে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে আদালতে নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা কমে বিচারব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের তফসিলভুক্ত সাত ধরনের বিরোধে ইতোমধ্যে প্রকল্পভুক্ত ২০টি জেলায় স্পেশাল মেডিয়েটরের মাধ্যমে পরিচালিত মধ্যস্থতা কার্যক্রমে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। পারিবারিক আদালত, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, বণ্টন, অগ্রক্রয়, পিতা-মাতার ভরণপোষণ ও যৌতুকসংক্রান্ত বিরোধে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে ১১ হাজার ২৮০টি মামলা দায়ের হলেও চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৮৪টিতে। নতুন মামলা দায়েরের হার ৬২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কমেছে, যা বিচারব্যবস্থায় মামলার জট কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

আইনমন্ত্রী জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সব জেলায় পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হবে। এ উদ্যোগ সফল করতে বিচারক, আইনজীবী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিচারপ্রার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) মজনু মিয়া বলেন, বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থীদের জন্য একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। মামলা আদালতে গড়ানোর আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আদালতের মামলার চাপও কমবে।তিনি আরও বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

অনুষ্ঠানে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. লুৎফর রহমান, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রফিকুল বারী, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফরিনা রীমা, সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) সুব্রত মল্লিক, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমান, সিভিল জজ মাহমুদুল ইসলাম মুন্না, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ, লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বোয়ালখালীতে বিস্ফোরণে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুর নবী (২৫) নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ জনে।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।নিহত নুর নবী বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকার সাতগড়িয়া পাড়ার নুরুচ্ছফার ছেলে। তিনি এক বছর চার মাস বয়সী এক পুত্র সন্তানের জনক।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই কনফিডেন্স লবণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ