আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ উদ্বোধনকালে মেয়র গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা একটি প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শনিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিক সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এ লক্ষ্যে ওয়ান স্টপ সিটিজেন সার্ভিস মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ এর শুভ উদ্বোধন করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।অ্যাপ বাস্তবায়নে করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) খাত থেকে অর্থায়ন করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করেছে ভেনটো টেক।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মেয়র বলেন, আজ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে একটি গৌরবময় ও যুগান্তকারী দিন। আমরা এমন এক প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে বাস করছি, যেখানে নাগরিক সেবা হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়া বিলাসিতা নয়, সময়ের অপরিহার্য দাবি।সেই দাবি পূরণ করতেই ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের যাত্রা শুরু হলো। এটি শুধু একটি অ্যাপ নয়, বরং নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি ডিজিটাল সেতুবন্ধন।
তিনি বলেন, নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই রাস্তা, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, ময়লা আবর্জনা, সড়কবাতি, নর্দমাসহ ১০টি ক্যাটাগরির যেকোনো সমস্যা ছবি তুলে লোকেশনসহ সরাসরি সিটি করপোরেশনকে জানাতে পারবেন। শুধু অভিযোগই নয়, অভিযোগটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, চলমান নাকি সমাধান হয়েছে, তাও লাইভ ট্র্যাক করা যাবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে জরুরি সেবা, মেয়রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা একটি প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে অফিসার ড্যাশবোর্ড, ওয়ার্ডভিত্তিক হিট ম্যাপ এবং স্বয়ংক্রিয় টিকিটিং সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা দ্রুত বুঝতে পারব কোন এলাকায় কী ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি নাগরিকদের প্রতি আমাদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে।

মেয়র বলেন, কোনো শহরকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শতভাগ সুন্দর করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ সেই অংশগ্রহণের নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। আমি চট্টগ্রামের প্রতিটি নাগরিককে অনুরোধ করবো, গুগল প্লে স্টোর কিংবা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করুন এবং নিজের শহরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন। আমরা এমন একটি সিটি করপোরেশন গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নাগরিককে সেবা পাওয়ার জন্য অফিসে ঘুরতে হবে না, বরং প্রযুক্তিই নাগরিকের কাছে সেবা পৌঁছে দেবে। এটাই আমাদের স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়ার অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, মেয়রের দূরদর্শী চিন্তার ফল হিসেবেই ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের জন্ম হয়েছে। নাগরিকরা শুধু অভিযোগই নয়, উন্নয়ন সংক্রান্ত পরামর্শ, নতুন অবকাঠামোর প্রস্তাব, পার্ক, খেলার মাঠ, ফুটওভারব্রিজ কিংবা হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বিষয়ে মতামতও এই অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে পারবেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিক মতামত গ্রহণের জন্য এতে পোলিং সিস্টেম সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, নাগরিকরা ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, ওয়ার্ড অফিসের সনদসহ বিভিন্ন সেবার তথ্য ও অনলাইন আবেদন সুবিধাও এই অ্যাপে পাবেন। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য, হাসপাতালের তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক তথ্য ধাপে ধাপে এতে যুক্ত করা হবে।
মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন আরও বলেন, চসিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা সংযুক্ত করা হবে, যা রাস্তার পাশে দীর্ঘসময় পড়ে থাকা ময়লা, জলাবদ্ধতা কিংবা অন্যান্য নাগরিক সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে সিটি করপোরেশনের সিস্টেমে অভিযোগ হিসেবে পাঠিয়ে দেবে। এছাড়া আগামী দুই মাসের মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ অধিকাংশ সেবা সম্পূর্ণ অনলাইনে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অত্যাধুনিক এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি নির্মাণে চসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি, সম্পূর্ণ প্রকল্পটি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে।অ্যাপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেন চট্টগ্রাম ওয়াসার বাবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, রাজনীতিবিদ আবুল হাশেম বক্কর সহ চসিকের বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রযুক্তিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ভিড়তে পারবে বড় আকারের জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা-উত্তর হালিশহর এলাকার সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে আড়াই হাজার একর এলাকায় বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালে টার্মিনাল-১ এর অপারেশন শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এই বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের যে অবকাঠামো রয়েছে তার চেয়েও বড় হবে এই টার্মিনাল। ভিড়তে পারবে আরও বড় আকারের জাহাজ (মাদার ভেসেল)। চ্যানেলের গভীরতা কম হওয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আনা-নেওয়া করতে হয় জোয়ারের সময়।

কিন্তু বে-টার্মিনালসংলগ্ন চ্যানেলের গভীরতা বেশি থাকার কারণে ভাটার সময়ও জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। এটি পুরোদমে চালু হলে আগামী একশ’ বছর আর নতুন কোনো টার্মিনালের চিন্তা করতে হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় বে-টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, মেগা প্রকল্পটির প্রস্তাবিত তিনটি টার্মিনালের একটি নির্মাণ ও পরিচালনায় শিগগিরই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে চলছে থ্রি-ডি সিমুলেশনের (ডিজিটাল মডেল) কাজ। সিমুলেশন শেষ হলে শুরু হবে প্রথম ধাপ অর্থাৎ, ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় ব্রেক ওয়াটার, অ্যাক্সেস নেভিগেশন চ্যানেল ও মূল অবকাঠামো নির্মাণপ্রক্রিয়া।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের কাজটি বন্দর নিজেই করবে। টার্মিনাল নির্মাণ ও হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম সংযোজন করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট সময় টার্মিনালটি পরিচালনার সুযোগ পাবে। এতে প্রয়োজন হবে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের।

এক্ষেত্রে সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে বে-টার্মিনালে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বন্দর পরিচালনাকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পে পৃথক তিনটি টার্মিনাল থাকবে। এর মধ্যে একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল অর্থাৎ এখানে কনটেইনার ও খোলা পণ্য খালাস হবে।

অন্য দুটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে বে-টার্মিনাল-১ নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য সিঙ্গাপুরের পিএসএ’র সঙ্গে বোঝাপড়া বা এমওইউ হয়েছে। তাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে চুক্তি হতে পারে বলে সম্প্রতি চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন নৌপরবিহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অন্য দুটি টার্মিনাল নির্মাণেও কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বে-টার্মিনালের থ্রি-ডি সিমুলেশনের কাজ চলছে। আশা করা যায়, অল্পসময়ের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যাবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি করা হবে এবং চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। তিনি জানান, নেভিগেশন চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর পতেঙ্গা-উত্তর হালিশহর এলাকার সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে আড়াই হাজার একর এলাকায় বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বে-টার্মিনালের আওতায় সাগরে ৮০০ থেকে ১২০০ মিটার প্রস্থের চ্যানেল রয়েছে। যা দিয়ে ১২ মিটার ড্রাফট ও ২৮০ মিটার লম্বা জাহাজ ভিড়তে পারবে। একসঙ্গে ছয় হাজার কনটেইনার বহন করতে পারে, এমন জাহাজও আসবে এই টার্মিনালে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ মিটার ড্রাফট ও ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের বড় জাহাজ ভিড়তে পারে না।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ৩৪ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে থাকে। বে-টার্মিনাল পুরোদমে চালু হলে প্রতিবছর ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টিইউউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে এক আবুধাবি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বকশিনগর গ্রামের প্রবাসী মো.নেছার আহমেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতের দিকে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল দুটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওই বাড়িতে আসে। তাদের মধ্যে সাতজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তিনজন সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছিল। অন্য তিন থেকে চারজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরের বাহিরে পাহারা দেয়। ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকে নেছার আহম্মেদের স্ত্রী নুরজাহান বেগম ও ছেলে রায়হান হোসেনের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে। পরে ঘরে থাকা চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে ডাকাতেরা নিজেদের সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে আসামি গ্রেপ্তারের জন্য এসেছে বলে জানায়। এতে স্থানীয় লোকজন দূরে সরে যান। পরে বাড়ির চারপাশে লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে ডাকাতেরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে চার জোড়া কানের দুল ও দুটি চেইন রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ এখনো মামলা করতে আসেননি। ডাকাত দল প্রবাসীর বাড়ি থেকে চার জোড়া কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা সেনাবাহিনীর প্রকৃত পোশাক পরেননি। তাদের কয়েকজন সেনাবাহিনীর পোশাকের আদলে তৈরি পোশাক পরিহিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ