দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে– স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের সব ৩০ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে এবং সেইসাথে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নতুন শিশু হাসপাতাল স্থাপন, নারী স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং ক্যান্সার ও কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আজ শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শাহ আলম বীর-উত্তম অডিটোরিয়ামে চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। শুধু নতুন হাসপাতাল নির্মাণ নয়, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ, আধুনিক অবকাঠামো, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এখানে বিপুল সংখ্যক অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে পদ পূরণ করলেই হবে না, সারা দেশে চিকিৎসক ও শিক্ষকের ঘাটতি পূরণের জন্য সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। স্বাধীনতার পর এ বছরই স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরো উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শুধু চিকিৎসা নয়, রোগ প্রতিরোধেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। কারণ রোগ প্রতিরোধে সফল না হলে শুধু হাসপাতাল ও যন্ত্রপাতি বাড়িয়ে স্বাস্থ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

এসময় তিনি উল্লেখ করেন,চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিকভাবে ১০ জন করে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য ড. এম এ মুহিত বলেন, চিকিৎসা পেশা একটি মানবিক ও ত্যাগের পেশা। ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের দক্ষতা, গবেষণায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে।তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, ই-জার্নাল ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণের পরিবেশ উন্নত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুর রব, চট্টগ্রাম ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইঞ্জিন দ্রুত মেরামতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ), লোকোসেড, সিজিপিওয়াই, কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) ও পদ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই), চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং পাহাড়তলীর ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় তিনি একাডেমির একাডেমিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, ডরমেটরি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।এরপর তিনি সিজিপিওয়াই, টার্ন টেবিল, ট্রায়াঙ্গেল লাইন, ইয়ার্ড লাইন ও লোকোসেড পরিদর্শন করেন। লোকোসেড পরিদর্শনকালে ইঞ্জিন দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।

পরে সিজিপিওয়াই এলাকায় কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় সিসিবিএলের সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন চুক্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া দ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

চলতি বছর মৃতের সংখ্যা ১০ চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও এক শিশুর প্রাণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আবরার নামের আট বছর বয়সী ওই শিশু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন ছিল। গত ৯ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু রোগীর বিবরণীতে এ
তথ্য জানানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুটির বাড়ি নগরের হালিশহর এলাকায়। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৯ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।

পরীক্ষায় এনএসওয়ান পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর ডেঙ্গু নিশ্চিত করা হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম’ উল্লেখ করা হয়েছে।সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন, ২৫০ শয্যা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন এবং চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দুজন রয়েছেন। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আরও ছয়জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৩৮০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৪১৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৬ জনে।

এ সময়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৫৬৯ জন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ