চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে, জ্বলছেনা চুলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তীব্র গ্যাস-সংকটে বিপাকে পড়ছেন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। অনেকের বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এমনকি শিল্প উৎপাদন ও সিএনজি পাম্পগুলোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার পর থেকেই সংকট শুরু হয়। ওই ঘটনার পর গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে গ্যাস সংকটে নগরের বহু এলাকায় বাসাবাড়ির চুলা আর জ্বলছে না। রান্না করতে না পেরে পরিবারগুলো বৈদ্যুতিক চুলা ও এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কাট্টলী, ইপিজেড, পতেঙ্গা, বন্দর ও সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় গ্যাস সংকটে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

রেনাববার নগরের আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও পাহাড়তলী এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ রয়েছে। কোথাও ভোরে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা গ্যাস এলেও সকাল গড়াতেই চাপ একেবারে কমে যায়। কিন্তু সকাল থেকে জ্বলছে না কারো চুলো। ফলে নগরবাসীর বড় একটি অংশ ঝুঁকছেন বিকল্প জ্বালানীতে। কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে এনেছেন।

হালিশহরের বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, সকালে একটু গ্যাস পাই, তখন সব রান্না একসঙ্গে করার চেষ্টা করি। না হলে ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ বিলও বেড়ে যাচ্ছে। বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন দিন ধরে দুপুর ও রাতে গ্যাস পাইনি। বাইরে থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটা বড় কষ্ট।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক পরিবার এখন ছোট সিলিন্ডার ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু এলপিজির অতিরিক্ত খরচ বহন করা সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।এদিকে নগরের অলংকার মোড়, জিইসি, আগ্রাবাদ ও বন্দর এলাকার কয়েকটি ছোট হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নার সময়সূচি বদলাতে হচ্ছে। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছে।

আগ্রাবাদের এক হোটেল মালিক আবদুল কাদের বলেন, গ্যাসের চাপ না থাকলে চুলা জ্বলে না। এলপিজিতে রান্না করলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যায়, না বাড়ালে লোকসান।অন্যদিকে গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের শিল্প খাতে। পতেঙ্গা, ইপিজেড, কালুরঘাট, অক্সিজেন ও সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলের একাধিক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় বয়লার ও জেনারেটর পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

ইপিজেড এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ গ্যাস দরকার, তার অর্ধেকও পাচ্ছি না। কিছু মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এইচএম স্টিলের পরিচালক সরোয়ার আলম বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং সরবরাহ না থাকায় আমরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। সম্প্রতি গ্যাসের এ সংকটের জন্য আমাদের উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। অথচ আমাদের ইউটিলিটি বিল ও ওভারহেড কস্ট (মাথাপিছু ব্যায়) হিসেব করলে কোটি টাকা দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লে বিক্রয়মূল্যও বেড়ে যেতে পারে।

সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই দেশে এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, টার্মিনালটিতে দুটি বয়লার রয়েছে। এর একটিতে অগ্নিকাণ্ডজনিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পুরো টার্মিনাল বন্ধ রাখতে হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে একটি বয়লার চালু করা সম্ভব হবে। তখন দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যেতে পারে।

জানা গেছে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামেও লোডশেডিং বেড়েছে। বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস বলেন, গ্যাস নেই, আবার বিদ্যুতও বারবার চলে যাচ্ছে। দোকানের ফ্রিজ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে সমস্যা হচ্ছে।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে মানুষ বৈদ্যুতিক চুলা বেশি ব্যবহার করায় চাহিদা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেডের (জিটিসিএল) অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দৈনিক চাহিদার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সংকট তৈরি হচ্ছে। আমাদের দৈনিক চাহিদা রয়েছে ২৬-২৭’শ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে আমাদের সবক্ষেত্রে সমান ডিস্ট্রিবিউশন ঠিক রাখতে কিছু সময় অফ (বন্ধ) রাখতে হচ্ছে। অথবা চাপ কমাতে হচ্ছে। তাই স্বীকার করতেই হচ্ছে, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গ্যাসের ভোগান্তিতে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জেলখানায় মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ করার ইচ্ছে চিন্ময়ের, অনুমতি চেয়ে আবেদন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্যারোলে মুক্তির পর এবার চট্টগ্রাম কারাগারে মৃত মায়ের ‘আদ্যশ্রাদ্ধ’ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চান রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী হত্যার মামলায় কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। এজন্য চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর ধর্মীয় উপকরণ নিয়ে একজন পুরোহিতের কারাগারে প্রবেশ ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেছেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বললেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। সেটা দেওয়া হয়েছে। এখন যে আবেদন সেটার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতির প্রয়োজন নেই। এটা কারাবিধি অনুযায়ী জেলা সুপার সিদ্ধান্ত নেবেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন্স) মোহাম্মদ ছগির মিয়া বললেন, এ ধরনের আবেদন খুবই রেয়ার। কারাবিধিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। যেহেতু ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বিষয় আছে এবং বন্দিও একজন বিশেষ বন্দি, তাই সিদ্ধান্ত হতে পারে বিশেষ বিবেচনায়। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। জেল কর্তৃপক্ষ কারাবিধির বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধর মারা যান। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাকে পাঁচ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিয়েছিলেন। এরপর রঞ্জন কুমার ধর আরেকটি আবেদন করেন। এতে সনাতন ধর্মীয় অনুশাসন ও শাস্ত্রীয় আচারের কথা উল্লেখ করে চিন্ময়কে কারাগারের ভেতরে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। এজন্য শ্রাদ্ধের সরঞ্জাম নিয়ে হারাধন রুদ্র নামে একজন পুরোহিতকে কারাগারে ভেতরে প্রবেশের অনুমতির আবেদন করা হয়।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ইসকনের সাবেক সংগঠক। সম্মিলিত সনাতনি জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্রও। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তারের পর থেকে কারাগারে আছেন তিনি। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা আছে।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা।


মানববন্ধন থেকে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলাম কে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেন সাংবাদিকরা। না হলে কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, ডিবি কার্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তা সংবলিত স্থানে একজন নারীকে জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পাবনা প্রেসক্লারেবর সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাজানো ভিডিও ধারণ এবং তা ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো ন্যাক্কারজনক। যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও সাজানো তথ্য প্রচার স্বাধীন সাংবাদিকতার হুমকিস্বরূপ। তাই আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাবনা ডিবির ওসি রাশেদুল ইসলাম কে প্রত্যাহার সহ তিনি ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দেন সাংবাদিক নেতারা।
না হলে আরো কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারি করেন বক্তারা।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক পাভেল মৃধার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, সাবেক সভাপতি ও এনটিভি-সমকালের স্টাফ রিপোর্টার এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চীফ উৎপল মির্জা, একুশে টিভি মানব জমিনের সটাফ রিপোর্টার রাজিউর রহমান রুমী, বাংলাদেশ টুডে প্রতিনিধি আব্দুল হামিদ খান, জিকে সাদী, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, প্রথম আলো প্রতিনিধি সরোয়ার মোর্শেদ উল্লাস, আলোকিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজী বাবলা, এটিএন নিউজ ও আগামীর সময় প্রতিনিধি রিজভী জয়, ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন পাবনার সভাপতি জিয়াউল হক রিপন, বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা সমিতি পাবনার সভাপতি আব্দুল মজিদ প্রমুখ। এ সময় প্রায় শতাধিক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পাবনা প্রেসক্লাবের নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক নামধারী একটি কুচক্রী মহল পাবনা প্রেসক্লাবের বিপরীতে প্রায় একই নামে সংগঠন খুলে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। মূলধারার সংবাদকর্মীরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চক্রটি কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় এক তরুণী কে ব্যবহার করে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি সাজানো নাটকের আশ্রয় নেয়।

মানববন্ধন শেষে ডিবির ওসি রাশেদুল ইসলাম কে প্রত্যাহার সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পাবনা পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন সাংবাদিক নেতারা। আর তার অনুলিপি দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিআইজি রাজশাহী ও পাবনার জেলা প্রশাসক কে।

এদিকে এর আগে শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী তরুণী নাফিসা তার নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন যে, সুবর্ণা হালিম নামের এক নারী নেত্রী তাকে জিম্মি করে প্রেসক্লাব সম্পাদত জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মা-বাবার উপস্থিতিতে সোহেল রানা বিপ্লব নামে এক কথিত সাংবাদিক এই সাজানো বক্তব্য ভিডিও ধারণ করেন। নাফিসা ইতোমধ্যেই লিখিতভাবে থানায় দেওয়া মিথ্যা অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভিকটিম পরিবার আতঙ্কিত হয়ে আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। তাদের উদ্ধার করে আমাদের হেফাজতে এনেছিলাম আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে কেউ হয়তো ভিডিও করেছে।পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ