জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় ১১ দলীয় ঐক্যের মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

জুলাই নিয়ে বিভাজন তৈরি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক বড়ো অশনিসংকেত – মুহাম্মদ শাহজাহান

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে কেরানিহাটে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা । ৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় আয়োজিত এই মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।

মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাইয়ের ছাত্রজনতার জীবন ও রক্তদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক অভিশপ্ত ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। অসংখ্য মানুষ এই মুক্তির আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করেছে। সেসব নির্যাতিত, নিপীড়িত, অকুতোভয় মানুষদের আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। সেই বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার জনগণের সেই অধিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। আর সেই সুযোগে পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের বৃথা স্বপ্ন দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আজকে তারই আগাম মহড়া দেখাচ্ছে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল।

কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগের সন্ত্রাস ও অস্ত্রের মুখেও এদেশের মানুষ নতিস্বীকার করেনি। সুতরাং যারা দ্বিতীয় ফ্যাসিবাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই স্বপ্নকে জুলাইজনতা দুঃস্বপ্নে পরিণত করবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে জনগণ আবারও রাজপথে নেমে আসবে। গণভোটের রায় মেনে না নিলে গণরোষের জন্য প্রস্তুত থাকুন। জুলাই নিয়ে বিভাজন তৈরি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক বড়ো অশনিসংকেত। গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নই বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, রক্তাক্ত জুলাই আমাদেরকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ দিয়েছে। আর সেই সুযোগকে বাস্তবে পরিণত করার সবচেয়ে বড়ো দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারের সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। তারা পুনরায় লুটপাটের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। তারা পুনরায় দুর্নীতির মহোৎসব করতে চায়। তারা পুনরায় ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকেই হাঁটতে চায়। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, এই বিপজ্জনক পথে হাঁটবেন না। বরং অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। বাংলাদেশকে জনগণের আকাঙ্ক্ষিত পথে পরিচালনা করুন।

খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা নেছার উদদীন বলেন, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেখিয়ে দিয়েছে, তারা কতটা সাহসী। তারা কতটা আত্মত্যাগী তাও তারা প্রমাণ করেছে। সুতরাং এরকম একটি জাতির গণরায়কে অসম্মান করার দুঃসাহস দেখাবেন না। অনতিবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি-দুঃশাসন থেকে বিরত থাকতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এলডিপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া শিমুল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতি দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছে। যে জাতি একবার বিজয়ী হতে শিখে গেছে, তাদের জনমতকে অশ্রদ্ধা করে পার পাওয়া যাবে না। অতএব, এখনও সময় আছে, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তা বাস্তবায়ন করুন। সবাই মিলে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে আসুন। যদি তা না করে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুঃশাসন চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে পরিণতিও একই হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাছের, এনসিপি নেতা সিফাত হোসেন, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জায়েদ হোসেন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, আ.ক.ম. ফরিদুল আলম, সাতকানিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল উদ্দীন, সাংগু থানা আমীর মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম, সাতকানিয়া পৌরসভার আমীর অধ্যক্ষ হামিদ উদ্দিন আজাদ, উপজেলা সেক্রেটারি তারেক হোসাইন, কেরানীহাট সেক্রেটারি আবদুল মালেক, পৌরসভা সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

অন্যদিকে, পটিয়া উপজেলা আমীর জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে সকাল ১১:৩০টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক। পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য জনাব জাফর সাদেক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা গাজী আবুল কালাম, জাহাঙ্গীর আলম, পটিয়া শহর শিবিরের সভাপতি মাহবুব উল্লাহ প্রমুখ ১১ দলীয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

কর্ণফুলী উপজেলা আমীর মনির আবছার চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ০৫ টায় কর্ণফুলীর ক্রসিং মোড়ে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, নুরুল হক, উপজেলা সেক্রেটারি নুরুদ্দীন জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কর্ণফুলী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবরার হোসাইন, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা শিবিরের সাহিত্য সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম মোরশেদ, উপজেলা জামায়াতের বায়তুলমাল সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ হারুন সহ প্রমুখ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বোয়ালখালী উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতের উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জননেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরী।

উপজেলা আমীর ডাঃ খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলোত্তর সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আরিফুর রশীদ, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইমাম উদ্দীন ইয়াছিন, বোয়ালখালী পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমীর জয়নাল আবেদীন, সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, ছাত্রশিবির বোয়ালখালী সদর শাখার সভাপতি আবু তাহের নোমান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর সভাপতি মাওলানা নুরুল কবির, পৌরসভা সভাপতি মাওলানা মফিজুর রহমান প্রমুখ।

আনোয়ারা উপজেলা আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আবদুল গণির সভাপতিত্বে বিকাল ০৫ টায় আনোয়ারা টানেল মোড়ে অনুষ্ঠিত মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ড. হেলাল উদ্দিন মুহাম্মদ নোমান। আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, উপজেলা সেক্রেটারি আবুল হাছান সহ প্রমুখ ১১ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাওয়া যাচ্ছে না ব্যবহৃত দুটি মোবাইল চট্টগ্রামে নিজ বাসা থেকে আ’লীগ নেত্রীর উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিজ বাসা থেকে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নুর নাহার নামে ওই নারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশের ভাষ্য, তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন কিংবা অস্বাভাবিক কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নুর নাহারের মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে সন্দেহ পুলিশের। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে নগরীর সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের মাঝিরঘাট এলাকার নিজ বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছিলেন, নুর নাহারের বয়স প্রায় ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছেন। স্বামী আগেই মারা গেছেন। ৪৫ দিন আগে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বড় ছেলে মারা যান। ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় থাকতেন। ছেলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বাবার বাড়িতে ছিলেন। তিনি পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।

সদরঘাট থানার ওসি একরাম উল্লাহ বললেন, মহিলার বাড়ির সামনে-পেছনে দুই গেট। পেছনের গেটের সঙ্গে লাগোয়া তিনটি ভাড়া ঘর আছে। সেগুলোতে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক ও কয়েকজন পোশাককর্মী ভাড়া থাকেন। উনার ছোট ছেলে কেএসআরএম গ্রুপে চাকরি করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি অফিসে চলে যান। সন্ধ্যার পরও পেছনের গেট খোলা দেখে ভাড়াটিয়া কয়েকজন বাসায় প্রবেশ করেন।

তারা মহিলার বেডরুমের দরজাও খোলা পান। ভেতরে গিয়ে দেখেন মহিলা বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে বলে জানালেন ওসি একরাম। বললেন, শরীরে আমরা কোনো ধরনের অস্বাভাবিক কিছুই পাইনি। আমাদের কাছে নরমাল ডেথ বলে মনে হয়েছে। তবে উনার দুইটা মোবাইল মিসিং। এজন্য আমাদের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। পুলিশ নুর নাহারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ছেলে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন বলে ওসি জানালেন।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ বছরের পথচলা: ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম উৎপাদনমুখী রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, মানবকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনে প্রত্যেক স্তরে সৎ মেধাবী ও নিঃস্বার্থ যুবকদের সমন্বয়ে আর্দশ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে ১৯৭৮ সালের ২৭শে অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার হাতে গড়া যুবদল আজ ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছরে পদার্পন করছে।


এদেশের যুবসমাজের প্রাণের সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। যুব, ঐক্য ও প্রগতির মূলমন্ত্রে যুবদল সগৌরবে এগিয়ে যাচ্ছে আপন মহিমায়।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে আবুল কাশেমকে আহ্বায়ক করে যুবদলের প্রথম কমিটি গঠন করা হয়। এর পর আবুল কাশেমকে সভাপতি ও সাইফুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়।

১৯৮৭ সালের ২৩ মার্চ যুবদলের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ১৯৯৩ সালের ৮ অক্টোবর কাউন্সিলে আব্বাস-গয়েশ্বর আবারো নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে যুবদলের কাউন্সিলে বরকত উল্লাহ বুলু সভাপতি ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১০ সালের ১ মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাইফুল আলম নীরব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন।

এরপর ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া কমিটিতে সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪ আসন থেকে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঠিক দিক নির্দেশনায় সারদেশে যুবদল আজ যুবসমাজের আস্হার প্লাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। একটি সুতায় গাঁথা হয়ে উঠেছে, সকল ইউনিট একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করে়ছে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। এই সংগ্রামের পথে অনেকের জীবন গেছে, অনেকে আহত হয়েছে, আর কতজন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে—এই দুঃখের চিত্র আমাদের হৃদয়ে গভীর আঁচড় কেটে গেছে। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৭৯ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন।

আহত হয়েছেন অসংখ্য যুবদল নেতা-কর্মী। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে গুম খুনের শিকার হয়েছেন অসংখ্য জাতীয়তাবাদী যুবদলের জিয়ার সৈনিকেরা। গায়েবি মামলা আর জেলহাজতের ইতিহাস তো যুবদলের প্রতিটি নেতা-কর্মীর ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলের দুঃসহ স্মৃতি। অতীতের সকল আন্দোলন সংগ্রামে যুবদল সন্মুখ যোদ্ধা হিসেবেই রাজপথে ছিলো।

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন সংগ্রামে যুবদলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে জীবন দিয়েছে। বর্তমান সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি’র নেতৃত্ব জাতীয়তাবাদী যুবদল সারাদেশের প্রত্যেক ইউনিটেই সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের ভালো উদ্যোগ জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তির প্রপাগাণ্ডার বিরুদ্ধেও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সক্রিয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংবাদ নির্বাচনে যুবদলের নেতা-কর্মীরা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দিন-রাত নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন। নির্বচানে

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি )। দেশ পুনর্গঠনে কাজ করে যাচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে । আমাদের সহযোদ্ধারা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছে, কিন্তু তাদের সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদেরকে আরও শক্তিশালী করেছে।

দেশগড়ার নতুন যুদ্ধে তাদের চেতনা ও আদর্শের বিজয় হবে, এবং তারা সেই জয় অর্জনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তি ও পলাতক ফ্যাসিস্ট লীগের বিরুদ্ধে যুবদলের সংগ্রাম চলবে। সবার আগে বাংলাদেশ হ্নদয় ধারণ করে দেশ পরিচালনা করছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে যুবদল নিরবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশবিরোধী যেকোন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে যুবদলের নেতা-কর্মীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

গতো বছর ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম, ফেনী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুবদলের নেতাকর্মীরা সত্যিকার অর্থে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েছেন। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তারা ছুটে গেছেন দূরবর্তী গ্রামে, যেখানে বিপদের মধ্যে নিপতিত মানুষগুলো সাহায্যের জন্য অসহায় হয়ে পড়েছিল। ঝড়, ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাস—কিছুরই আমাদের সাহসকে দমাতে পারেনি। কারণ আমাদের সাহসের আঁধার, প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান শিখিয়েছেন কিভাবে অকুতোভয় হয়ে এগিয়ে যেতে হয়। যুবদল সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত, মানবতার সেবায় কখনো পেছনে ফিরে তাকায়নি।

বর্তমানে যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ, সুখী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটাতে পারে। যুবদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশ্বস্ত হাতিয়ার হয়ে, দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি পরিবর্তন আনতে তারা কখনো পিছপা হবে না। তাদের এই যাত্রা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং মানবতার, ভালোবাসার এবং সমতার একটি মহান অভিযাত্রা। জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও দোয়া মোনাজাত কর্মসূচি পালন করবে কেন্দ্রীয় যুবদল। নয়াপল্টনস্হ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় রক্তদান কর্মসূচি এবং ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পও পরিচালনা করা হবে। নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সারা দেশেই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হবে পূর্বের ন্যায়।

যুব, ঐক্য ও প্রগতি’র মূলমন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল এগিয়ে যাক আপন মহিমায়, গৌরব ও সাফল্যের পথে।৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সকল নেতা-কর্মীদের জানাই রক্তিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ