কানুনগোপাড়া ড. বিভূতি ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

এস মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কানুনগোপাড়া ড. বিভূতি ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. আজিজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আলহাজ্ব মোস্তাক আহমদ খান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব শওকত আলম।

কানুনগোপাড়া ড. বিভূতি ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. নুরুন্নবী চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধান শিক্ষক বাপন কুমার ভঞ্জের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষার্থী ও রমনী মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু তাপস কান্তি ঘোষ, প্রধান শিক্ষক অরুপ কান্তি পাল, বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ইউসুফ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কামাল উদ্দিন, বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা সদস্য সচিব ও সমাজসেবক হাজি আবু আকতার, প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী, মো. শাহ আলম, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অজয় পাল, সহকারী শিক্ষিকা অতসী চন্দ, অঞ্জন দাশ, পারভেন আকতার, শাহিদা আকতার সাঞ্জু, যুবদল নেতা মোঃ ইকবাল, সিনিয়র শিক্ষক প্রভাকর বড়ুয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।


সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।বক্তারা বলেন, একটি আধুনিক ও মানসম্মত একাডেমিক ভবন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ আরও উন্নত করবে। পাশাপাশি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মো. আজিজুল হক বলেন, “গত ৫ আগস্টের পর সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ওপর হামলা ও মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। বোয়ালখালীতে আমরা এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে দিইনি। আমাদের এলাকায় আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদী পরিবারের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করতে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। আমরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।”

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে অতিথিরা নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নদী আছে,ব্রিজ নেই-দুর্ভোগে দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া খাঁপাড়া ও সরকার পাড়ার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে গুমানি নদী। এই গুমানি নদীতে একটি ব্রিজ না থাকায় দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ কে ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যদিন।

স্থানীয়দের দাবি, গুমানি নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে আশপাশের ৩০-৪০টি গ্রামের সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। এই গুমানি নদীর উপর একটি ব্রিজ আছে নৌবাড়ীয়া, এই নৌবাড়িয়া ব্রিজ বা সেতু ঘুরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার পথ কমবে। এতে কৃষকের কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় সুবিধা বাড়বে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এই গুমানি নদীতে ব্রিজ বা সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য যায়নি।

নাটোরে বড়াইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার থানার মোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহেদুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ