৮৪টি শিল্পনগরীতে উদ্যোক্তাদের গড়ার সুব্যবস্থা করে বিসিক : বেনজীর আহমেদ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বিসিক দেশি কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছে। ঢাকার চামড়া, প্লাস্টিক, মুদ্রণ শিল্পের কারখানা সড়ানো হবে বিসিকের শিল্প পার্কে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিসিক জব অ্যান্ড ক্যারিয়ার ফেয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের চামড়া শিল্পের অধঃপতন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সরকার চামড়াশিল্পকে জাগিয়ে তুলতে চায়।বিসিক এ কাজে নেতৃত্বে দিচ্ছে। ওষুধ শিল্প নিয়ে কাজ করছে বিসিক।এ শিল্পের সমস্যা সমাধানে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। আর সময় নষ্ট করতে চায় না। মেলায় অনেক তরুণকে তাৎক্ষণিক নিয়োগপত্র দিয়েছে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান।অনেকে বায়োডাটা জমা দিয়েছেন চাকরির আশায়।
বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ ছিল। কুটির শিল্প ছিল ঘরে ঘরে। ১৯৫৭ সালে ইপসিক হয়। স্বাধীনতার পর বিসিক হয়েছে। বিসিকের ৮৪টি শিল্পনগরী সারা দেশে। সেখানে উদ্যোক্তাদের শিল্পকারখানা গড়ার সুব্যবস্থা করে বিসিক। বিসিক প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরি করে। নারীদের ৫ শতাংশে, পুরুষরা ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে বিসিক। বিসিক চেষ্টা করছে উদ্যোক্তার সঙ্গে গ্রাহকদের সংযোগ ঘটাতে। তাই প্রতি মাসে মেলা করছে। ডিসেম্বরে বড় মেলা করব।
তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিদাতাদের মধ্যে সংযোগ তৈরির জন্য জব ফেয়ারের আয়োজন করেছি। আমার বাবা টাঙ্গাইল চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। আমাদের বিজনেসে কতটুকু ভ্যালু অ্যাড করতে পারছি। প্রধানমন্ত্রী সৃজনশীল অর্থনীতিতে জোর দিচ্ছেন। একটি কমিটি করে দিয়েছেন। আমাদের ছিল কমদামি শ্রমিক ও গ্যাস। এখন গ্যাস কম। আমাদের নিজস্ব কাঁচামালের ওপর জোর দিতে হবে। দক্ষতা অর্জন করে টিকে থাকতে হবে। বিসিক দেশি কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছে। ঢাকার চামড়া, প্লাস্টিক, মুদ্রণ শিল্পের কারখানা সড়ানো হবে বিসিকের শিল্প পার্কে। চট্টগ্রাম শহরকে আরও বেশি বসবাসযোগ্য, যানজটমুক্ত করতে বিসিক শিল্পনগর করে বিভিন্ন কারখানা স্থানান্তর করা যেতে পারে।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক এসএম আলকাদেরী।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, বিসিক পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান ও চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুৎমিলা ফরিদ। সভাপতিত্ব করেন বিসিক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক খালেদ মাহমুদ।
প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বেকারত্ব দূর করার দৃঢ় প্রত্যয়ে বিসিকের জব ফেয়ার। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করবেন। সেই লক্ষ্যে বিসিকও কাজ করছে। বেকারত্বের গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে তরুণরা জব ফেয়ারে আসছেন। তাদের মধ্যে অনেককে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। বিসিককে আমার অবস্থান থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করব।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে একটি নান্দনিক শহরকে জলাবদ্ধতার শহরে পরিণত করা হয়েছে। হাসপাতালে পার্কিংয়ের জায়গায় নানা স্থাপনা করা হয়েছে। আগ্রাবাদে ফুটপাত শুধু নয় সড়কও হকারদের দখলে চলে গেছে। সড়কের দুই পাশে গাড়ির সারি। দুইটি গাড়ি চলতে কষ্ট হচ্ছে। এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আসতে পারছেন না, যানজটের কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগ্রাবাদ থেকে চলে যাচ্ছে। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। কে আমাকে গালমন্দ করল তা বিবেচ্য নয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছি। সবাই সহযোগিতা করতে হবে। নয়তো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কঠিন।

চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, প্রাইভেট সেক্টরের লোকজন যে ভালো কাজ করতে পারেন তার প্রমাণ বিসিক চেয়ারম্যান। উনি আমাদের আইডিয়া দেবেন। পাবলিক সেক্টরকে আমি হেয় করছি না। নতুন কনসেপ্ট পিপিপি। আমাদের চাই বিসিক একা কোনো প্রোগ্রাম করবে না। বিসিকের প্রশিক্ষণ, ফেয়ারে চিটাগাং চেম্বার থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি রপ্তানি করে থাকে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যায় আমি পাশে আছি। জবলেস মানুষ বাড়ছে। এটা কষ্টের কর্মসংস্থান করতে হবে। সবাই মিলে কাজটি করতে হবে।
বিসিক পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বিসিক সুপ্রাচীন প্রতিষ্ঠান। দেশে শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উইম্যান চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎমিলা ফরিদ বলেন, এ আয়োজন প্রাণবন্ত। তাৎক্ষণিক অনেকে নিয়োগপত্র পেয়েছে। শিক্ষা ও ব্যবসার সেতুবন্ধন, যোগসূত্র তৈরি করে জব ফেয়ার। চাকরির জন্য কী ধরনের স্কিল দরকার তা চাকরিপ্রার্থীরা জানতে পারছেন। বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প নেই। এ ফেয়ারের ফিডব্যাক শিক্ষা বিভাগকে দিলে পাঠ্যসূচি যুগোপযোগী করতে পারবে। তাহলে স্কিল গ্যাপ দূর হবে।
খালেদ মাহমুদ বলেন, বিসিকের মূল কাজ উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা। এ জব ফেয়ারে যারা স্টল দিয়েছেন তারা বিসিকের। আমাদের মেলার বিশেষত্ব হচ্ছে, চাকরিপ্রার্থীরা মোটিভেটেড হবে। উদ্যোক্তাদের সাফল্য জানবে। সে চাকরি পেছনে দৌড়াবে না। তার ব্রেনস্টর্মিং হবে। উদ্যোক্তা হয়ে আরও কর্মসংস্থানের চেষ্টা করবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দক্ষ জনশক্তিই অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের মুরাদপুরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি)’র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণের পাশাপাশি পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে চলমান শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি’র উপাচার্য, পরিবেশবিদ প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’র পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এ কে এম মাঈনুল হক মিয়াজী, সিডিএ’র উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি), চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি মো. আবু ঈসা আনছারী, এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দক্ষ জনশক্তির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ডিপ্লোমা শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ, নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

০প্রফেসর ড. এ কে এম মাঈনুল হক মিয়াজী বলেন, শিল্পক্ষেত্রের বিকাশ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এনআইটি’র চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু ঈসা আনছারী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মেধাবী ও কর্মঠ। হাতে-কলমে শিক্ষা শিক্ষার্থীদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এই আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ তরুণ সমাজই দেশের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে আহসান হাবিব বলেন, এনআইটি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা, আধুনিক ল্যাবভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যোগ্য ও কর্মমুখী জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার বিকাশে বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।0ৌ0

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলে এমডি. আকতার হোসেন শাহিন নামে কোনো সহ-সভাপতি নেই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল চট্টগ্রাম মহানগর’র পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে এই মর্মে অবহিত করা যাচ্ছে যে, মহানগর যুবদলে এমডি. আকতার হোসেন শাহিন নামে কোন সহ-সভাপতি নেই। এমডি. আকতার হোসেন শাহিন নামে জনৈক ব্যক্তি ভিজিটিং কার্ডে যুবদলের ভূয়া পদবী ব্যবহার করে নানা ধরনের তদবির, অবৈধ প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। যা মহানগর যুবদলের নজড়ে এসেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ সংশ্লিষ্ট সকল কে এ ধরনের প্রতারক থেকে সর্তক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদল যুব-ঐক্য-প্রগতির মূল মন্ত্রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর আর্দশের সংগঠন। যুবদলের নাম ভাঙিয়ে যারা নানা ধরনের অপরাধে লিপ্ত তাদের বিষয়ে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।

 

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ