অনুমোদন নেই বেসরকারিভাবে বিপণনের

চট্টগ্রামে রেডিওআয়োডিন ক্যাপসুলের সংকট, অপেক্ষায় রোগীরা

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ আফ্রিকা ও পোল্যান্ড থেকে আমদানি করা রেডিওআয়োডিন ক্যাপসুলের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি সরবরাহে থাকা ওষুধটি বেসরকারিভাবে বিপণনের অনুমোদন না থাকায় রোগীদের সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে।বিশেষ করে থাইরয়েড ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিওআয়োডিন ক্যাপসুলের সংকট চলছে প্রায় এক মাস ধরে। এ ওষুধ না থাকায় পরবর্তী চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালনাধীন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্স থেকে দেশে এ ক্যাপসুল সরবরাহ করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, থাইরয়েড ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারের পর রোগের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী রেডিওআয়োডিন থেরাপি দেওয়া হয়। এ চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ নামের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করে অবশিষ্ট থাইরয়েড টিস্যু ও নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়।থাইরয়েড গলার সামনের দিকে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির একটি গ্রন্থি। এ গ্রন্থির কোষে ক্যান্সার হলে রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। থাইরয়েড ক্যান্সারের প্রধান চারটি ধরন হলো প্যাপিলারি, ফলিকুলার, মেডুলারি ও অ্যানাপ্লাস্টিক।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ নম্বর কেবিনে ভর্তি রেখে রোগীদের এ থেরাপি দেওয়া হয়।
তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্যাপসুল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি তারা।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালনাধীন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সের পরিচালক অধ্যাপক ডা. পবিত্র কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, গত কিছুদিন ধরে ক্যাপসুলটির সংকট চলছে। ইতোমধ্যে আমরা ক্যাপসুলটির জন্য আবেদন করেছি। আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই আমরা ক্যাপসুলটি পাব।

চট্টগ্রামের এ ইনস্টিটিউটে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৪ জন থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা নেন। এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতেও ক্যাপসুলটির সংকট দেখা দিয়েছিল। পরে ওই বছরের আগস্টে সরবরাহ আসে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নদী আছে,ব্রিজ নেই-দুর্ভোগে দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া খাঁপাড়া ও সরকার পাড়ার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে গুমানি নদী। এই গুমানি নদীতে একটি ব্রিজ না থাকায় দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ কে ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যদিন।

স্থানীয়দের দাবি, গুমানি নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে আশপাশের ৩০-৪০টি গ্রামের সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। এই গুমানি নদীর উপর একটি ব্রিজ আছে নৌবাড়ীয়া, এই নৌবাড়িয়া ব্রিজ বা সেতু ঘুরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার পথ কমবে। এতে কৃষকের কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় সুবিধা বাড়বে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এই গুমানি নদীতে ব্রিজ বা সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য যায়নি।

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস এবার কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনটি চলাচল শুরু করবে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটির কক্সবাজারগামী প্রথম যাত্রার উদ্বোধন করবেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করছে। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। এতে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় যাত্রীদেরও যাতায়াতের বিকল্প বাড়বে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনটি দুই শহরের যাত্রীদের কাছে পরিচিত। যাত্রাপথের বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরাও এই ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ পেয়ে আসছেন। এবার রুট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ট্রেনটির দীর্ঘদিনের পরিচিত যাত্রাপথে যুক্ত হচ্ছে দেশের অন্যতম পর্যটননগরী কক্সবাজার।

রেলওয়ের প্রকাশিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রাত সাড়ে আটটায় ছেড়ে পরদিন সকাল ছয়টায় কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা মহানগর এক্সপ্রেসের। ফিরতি পথে কক্সবাজার থেকে সকাল আটটায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ