কালিয়াকৈরে মাদক সেবনের দায়ে ৪ যুবকের কারাদণ্ড

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদক সেবনের দায়ে চার যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা হলরুমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ রায় দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার জসিম উদ্দিন (৩০), মো. রাজা (১৯), আমিনুল ইসলাম (৪১) এবং ইউনূস আলী (৩৫)।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় ওই চারজনকে হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আটককৃতরা মাদক সেবনের অপরাধ স্বীকার করেন। আদালত তখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় জসিম উদ্দিন ও মো. রাজাকে ১ বছর করে এবং ইউনূস আলী ও আমিনুল ইসলামকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “মাদক সেবনের অপরাধে আটক চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পরেই সাজাপ্রাপ্তদের গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদক নির্মূলে আমাদের এই কঠোর অভিযান চলমান থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভেড়ামারায় পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি রিভলবার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২, সিপিসি-১ কুষ্টিয়া ক্যাম্প।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ৯টা ৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১২, সিপিসি-১ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের বারো মাইল বালুর ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় পদ্মা নদীর তীরে বালু ব্যবসায়ী মো. সিদ্দিক মালিথার (৫০) টিনের ঘরের বেড়ার উত্তর পাশের খালি জায়গা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি রিভলবার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সিদ্দিক মালিথা মৃত মতলেব মালিথার ছেলে।

এসআরবি জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এসআরবি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

পটিয়ায় গরু চুরি করে জবাই, মাংস নিয়ে পালানোর সময় সিএনজিচালক আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পটিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি || চট্টগ্রামের পটিয়ায় গরু চুরি করে পাহাড়ে জবাইয়ের পর মাংস নিয়ে পালানোর প্রস্তুতিকালে আবদুর রহিম (৪৫) নামে এক সিএনজিচালককে আটক করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন। ঘটনাস্থল থেকে গরুর মাংস ও সিএনজি জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীমাই পাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক আবদুর রহিম বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে আবদুর রহিম দুই ব্যক্তিকে নিয়ে দক্ষিণ শ্রীমাই এলাকায় যান। সেখানে তাঁদের নামিয়ে দিয়ে তিনি চলে যান। পরে ওই দুই ব্যক্তি এলাকার সৈয়দ ফজল চৌধুরীর বাড়ির আইযুব মিয়ার একটি গরু চুরি করে পাহাড়ে নিয়ে যান। বৃহস্পতিবার ভোরে গরুটি জবাই করে মাংস বস্তাবন্দী করেন তাঁরা।

এ সময় জমিতে যাওয়ার পথে একটি সিএনজি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় কৃষক রফিকের। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সিএনজিচালক আবদুর রহিমকে আটক করা হয়। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অপর দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গরু চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গরুর মালিককে শনাক্ত করা হয়। গরুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৭০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন মালিক আইযুব মিয়ার ভাই। তিনি জানান, অন্য একজনের কাছ থেকে গরুটি বর্গা নিয়ে লালন-পালন করছিলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল উদ্দীন জানান, দক্ষিণ শ্রীমাই পাহাড় এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে তিনি প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ