এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্যসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার প্রধান আসামি মো. এনায়েত হোসেন নয়ন। তিনি মিরসরাইয়ের ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরবর্তী সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক ইউপি সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার, তাহেরা বেগম, মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. মহিউদ্দিন, মো. সফি আহাম্মদ, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী। মামলার অপর আসামি মিলন বড়াল, যিনি মীরসরাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ মামলাটি করেন সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন।
চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর দুদকের উপপরিচালক মো.রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্যসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়নে ইজিপিপির ৩৪টি প্রকল্পের আওতায় শ্রমিকদের নামে বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। অনুসন্ধানে প্রকল্পের তালিকায় মৃত, প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের নাম এবং একই শ্রমিকের নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করার তথ্য পাওয়া যায়।
তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের অনেকে মাত্র কয়েক দিন কাজ করেছেন এবং দুই-তিন হাজার টাকা মজুরি পেয়েছেন। অথচ তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও বেশি অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, হিসাব খোলার কয়েক দিন পর তাঁদের চেক বই নিয়ে গিয়ে অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে টাকা তোলা হয়েছে। মৃত ও প্রবাসী শ্রমিকদের হিসাব থেকেও অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে প্রকল্পের মাস্টাররোল, বিল-ভাউচার ও স্বাক্ষরে অনিয়মের তথ্যও উঠে এসেছে। এনায়েত হোসেন নয়ন, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মিলন বড়াল পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।











