চট্টগ্রামকে ‘সেফ সিটি’ গড়ে তোলাই লক্ষ্য: ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তোলা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। এজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রোববার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চমেক হাসপাতাল নগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা অত্যন্ত জরুরি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রোগীদের সুস্থতা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।তিনি বলেন, এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকা পরিষ্কার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

প্রশাসক আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন নগরকে পরিষ্কার রাখতে নিরলস কাজ করছেন। তাদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য।

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাঈনুদ্দিন রাশেদ, মহসিন কবির আপেল, গোলাম সরোয়ার, মো. আলমগীর, কামরুল হাসান, আরিফুর রহমান চৌধুরী, সদস্য মফিজ উদ্দিন সুমন, শাহাদাত হোসেন সোহাগ, মো. জাহিদুল ইসলাম, জাফর হোসেন রনি, জাবেদ সাফায়াত সোবহান, পাঁচলাইশ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিউল আলম শফি এবং চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব কুতুব উদ্দিন নয়নসহ মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে চমেক হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে মূল্যতালিকা না থাকায় ৮ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে তদারকি অভিযান চালিয়ে আট প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।রোববার (৮ নভেম্বর) কোতোয়ালি মোড় ও ফলমুন্ডি এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ। তিনি জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।
অভিযানে কোতোয়ালি মোড় সংলগ্ন দারুল আমান হোটেলকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের দায়ে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া মূল্যতালিকা না থাকায় ফারুকের ফলের দোকানকে এক হাজার এবং সোহেলের ফলের দোকানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।ফলমুন্ডি এলাকায় মূল্যতালিকা না থাকায় আবুল বাশারের ফলের দোকানকে এক হাজার এবং ইয়াকুব আলী ফল বিতানকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অন্যদিকে, যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না করায় শাহ মহসেন আউলিয়া ফার্মকে ৬ হাজার এবং মেহেদী এন্টারপ্রাইজকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

ঢাবি এলাকায় লাগাতার ককটেল বিস্ফোরণে আটক – ৩

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পৃথক স্থানে ৫টি ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছেন শিক্ষার্থী ও উপস্থিত লোকজন ৮ নভেম্বর রোববার এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

নীলক্ষেত একটি, সিনেট ভবনের সামনে একটি, টিএসসিতে এলাকায় দুইটি এবং শাহবাগ মোড়ে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও লোকজন সন্দেহভাজন হিসেবে ৩ জনকে আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, টিএসসি এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই দুই ব্যক্তি। মেট্রোরেল-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালানোর সময় তাদের আটক করা হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাঁদের মারধর করেন। আটক দুজনের পরিচয়ও বিস্তারিত জানা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং গণমাধ্যমকে বলেন, ইতোমধ্যে শাহবাগ থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ