বিএনপি নেতা এ্যানির মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে যুবদলের মিছিল

ডেস্ক নিউজ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিনচৌধুরী এ্যানির মুক্তির দাবীতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের মিছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য, দলের প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে গ্রেপ্তার এবং পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নিঃশর্ত মুক্তিরদাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

গতকাল নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে এই বিক্ষোমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি কাজীর দেউরী মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে
সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, নগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, ফজলুল হক সুমন, মোঃ ইলিয়াস, আবদুল করিম,মিয়া মোহাম্মদ হারুন, মোহাম্মদ আলী সাকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, সেলিম উদ্দিন রাসেল, গুলজার হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক আসাদুর
রহমান টিপু, জাহানগীর আলম বাচা, জাফর আহমদ খোকন, ওমর ফারুক সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মো. জসিম উদ্দিন সাগর, মহিউদ্দিন মুকুল, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, আসাদুজ্জামান রুবেল, সহ সম্পাদক বৃন্দমোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম, হামিদুল হক চৌধুরী, মো. আনোয়ার হোসেন আনু, মো.আবুল কালাম,আবু বক্কর সিদ্দিক আবু, মো. সিরাজুল ইসলাম সিকদার, নগরযুবদলের সদস্য শাবাব ইয়াজদানী, সাইদুল হক সিকদার, থানা আহবায়ক বজল আহমদ,থানা যুগ্ন-আহবায়ক মোরশেদ কামাল, সেলিম উদ্দিন সেলিম, রেদোয়ান হোসেনজনি, গিয়াস উদ্দিন, ওয়ার্ড আহবায়ক মোহাম্মদ সাদেক, জহিরুল ইসলাম, জাবেদ হোসেন, সৈয়দ দিদারুল ইসলাম প্রমুখ।সভাপতির বক্তব্যে মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, রাতের অন্ধকারে দরজা ভেঙেবিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে থানায়নিয়ে নির্যাতন করে। যা কোনো সভ্য সমাজে হয় না। অবিলম্বে শহীদ উদ্দিনচৌধুরী এ্যানিকে মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

অবৈধ সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী মরণকামড় দিতে চাইছে। শ্রীলঙ্কার মত পরিণতি না চাইলে প্রয়োজনে সংবিধানসংশোধন করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, হামলা, মামলা ও গ্রেফতার করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবেনা। হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সরকার উসকানিমূলক প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে আমাদের বিশৃঙ্খল করার চেষ্টা করছে কিন্তু লাভ হবে না।শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে কোনো বাঁধাই আমাদের আটকাতে পারবে না। শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত করেই গণতন্ত্র নিশ্চিত করব। মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবো।মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী
কমিটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির মুক্তির দাবি করছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশে দলীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ঢাকা সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বর্ণাঢ্য র‍্যালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ​সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

​সংবাদ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ এক চরম অনিশ্চয়তা, বাকশাল ও আধিপত্যবাদ থেকে রক্ষা পেয়েছিল। ৭ই নভেম্বরের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মানুষের কথা বলার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ৭ই নভেম্বরের সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হইয়াই চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।

​ঘোষিত কর্মসূচির বিবরণ দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, আগামী ৭ই নভেম্বর সকাল ছয়টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সকল দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ওই দিন সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের নেতাকর্মীরা।

​সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন এমপি, আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ইমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, প্রচার সম্পাদক ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ভিড়তে পারবে বড় আকারের জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা-উত্তর হালিশহর এলাকার সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে আড়াই হাজার একর এলাকায় বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালে টার্মিনাল-১ এর অপারেশন শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এই বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের যে অবকাঠামো রয়েছে তার চেয়েও বড় হবে এই টার্মিনাল। ভিড়তে পারবে আরও বড় আকারের জাহাজ (মাদার ভেসেল)। চ্যানেলের গভীরতা কম হওয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আনা-নেওয়া করতে হয় জোয়ারের সময়।

কিন্তু বে-টার্মিনালসংলগ্ন চ্যানেলের গভীরতা বেশি থাকার কারণে ভাটার সময়ও জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। এটি পুরোদমে চালু হলে আগামী একশ’ বছর আর নতুন কোনো টার্মিনালের চিন্তা করতে হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় বে-টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, মেগা প্রকল্পটির প্রস্তাবিত তিনটি টার্মিনালের একটি নির্মাণ ও পরিচালনায় শিগগিরই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে চলছে থ্রি-ডি সিমুলেশনের (ডিজিটাল মডেল) কাজ। সিমুলেশন শেষ হলে শুরু হবে প্রথম ধাপ অর্থাৎ, ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় ব্রেক ওয়াটার, অ্যাক্সেস নেভিগেশন চ্যানেল ও মূল অবকাঠামো নির্মাণপ্রক্রিয়া।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের কাজটি বন্দর নিজেই করবে। টার্মিনাল নির্মাণ ও হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম সংযোজন করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট সময় টার্মিনালটি পরিচালনার সুযোগ পাবে। এতে প্রয়োজন হবে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের।

এক্ষেত্রে সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে বে-টার্মিনালে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বন্দর পরিচালনাকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পে পৃথক তিনটি টার্মিনাল থাকবে। এর মধ্যে একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল অর্থাৎ এখানে কনটেইনার ও খোলা পণ্য খালাস হবে।

অন্য দুটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে বে-টার্মিনাল-১ নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য সিঙ্গাপুরের পিএসএ’র সঙ্গে বোঝাপড়া বা এমওইউ হয়েছে। তাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে চুক্তি হতে পারে বলে সম্প্রতি চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন নৌপরবিহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অন্য দুটি টার্মিনাল নির্মাণেও কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বে-টার্মিনালের থ্রি-ডি সিমুলেশনের কাজ চলছে। আশা করা যায়, অল্পসময়ের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যাবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি করা হবে এবং চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। তিনি জানান, নেভিগেশন চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর পতেঙ্গা-উত্তর হালিশহর এলাকার সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে আড়াই হাজার একর এলাকায় বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বে-টার্মিনালের আওতায় সাগরে ৮০০ থেকে ১২০০ মিটার প্রস্থের চ্যানেল রয়েছে। যা দিয়ে ১২ মিটার ড্রাফট ও ২৮০ মিটার লম্বা জাহাজ ভিড়তে পারবে। একসঙ্গে ছয় হাজার কনটেইনার বহন করতে পারে, এমন জাহাজও আসবে এই টার্মিনালে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ মিটার ড্রাফট ও ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের বড় জাহাজ ভিড়তে পারে না।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ৩৪ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে থাকে। বে-টার্মিনাল পুরোদমে চালু হলে প্রতিবছর ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টিইউউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ