ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত।

ফের রামু বৌদ্ধ বিহারে ‘অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের’ আগুন।

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজার জেলার রামু সদরে ‘অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের’ দেওয়া আগুনে একটি বৌদ্ধ বিহারের সিঁড়ি পুড়ে গেছে; তবে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা তাৎক্ষণিক এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

রামু থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান জানান, শুক্রবার গভীর রাতে রামু উপজেলা সদরের চেরাংঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

তবে আগুনের সূত্রপাতের পাশাপাশি এটি নাশকতা নাকি নিছক কোন দুর্ঘটনা তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।

আবু তাহের দেওয়ান বলেন, শুক্রবার রাতে রামু উপজেলা সদরের চেরাংঘাটাস্থ রাখাইন সম্প্রদায়ের দেড়শ বছরের পুরানো কাঠের তৈরী ‘উসাইচেন বৌদ্ধ বিহারের (বড় ক্যাং)’ পুরোহিতসহ অন্যরা প্রতিদিনের মত ঘুমিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে রাত ২ টার দিকে আকস্মিক আগুন লেগে যায়। এসময় বৌদ্ধ বিহারের ভিতরে অবস্থানকারিরা শোর-চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে রামু ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বৌদ্ধ বিহারটির ভিতরের কাঠের তৈরী একটি সিঁড়ি পুড়ে গেছে। তবে তাৎক্ষণিক আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ওসি বলেন, “আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে তা জানা যায়নি। তাছাড়া এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। রাতে ঘটনাটি শোনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বৌদ্ধ বিহারসহ আশাপাশের সব সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ ঘটনা কিভাবে ঘটেছে বা কোন দূর্বৃত্তরা সংঘটন করেছে কিনা পুলিশ তদন্ত করছে।

আবু তাহের দেওয়ান জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। সকালে পুলিশসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ খবর নিয়ে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকার দীপ্ত সূর্য বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইসলাম ধর্মের সাধন-মার্গের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় সুফিতাত্ত্বিক সাধনা তথা সুফিবাদ। এই সুফি সাধনারই একটি বিশেষ ধারা ‘মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকা’। এটি ‘মোখালিফাতি নফস বা নফসে ইনসানি’র কু-প্রবৃত্তি বন্ধ করে রূহে ইনসানির সু-প্রবৃত্তি জাগ্রত করার জন্য বিধান শিথিল, সকল ধর্ম গোঁড়ামি মুক্ত, খোদা আনুগত্য সনাতন ইসলামের নৈতিক পুণ্যতাদানকারী, জিকির-ফিকির পদ্ধতি ছাড়াও কর্মে-মর্মে মানবতার উন্নয়নকারী, ব্যবসায়ী পীরত্বের অসমর্থক, কাদেরিয়া, চিশতিয়া, সোহরাওয়ার্দীয়া, মুজাদ্দেদীয়া, মৌলভীয়াসহ সকল তরিকার সংমিশ্রণে উদ্ভূত বাংলাদেশের মাটিতে প্রচারিত বেশ আলোচিত একটি জনপ্রিয় তরিকার নাম।

“গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.) [১৮২৬-১৯০৬] প্রবর্তিত ও প্রতিষ্ঠিত এই তরিকার আধুনিক রূপকার ছিলেন তাঁরই রক্ত আদর্শ এবং বেলায়েতের উত্তরাধিকারী বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)। তৎ জামানার তাপসকুলের শিরোমণি এই মহান সাধকের ২৬ আশ্বিন পবিত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে কিঞ্চিৎ স্মৃতিচারণ।

পবিত্র নাম মোবারক: বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)।পিতা: অছিয়্যে গাউসুল আজম খাদেমুল ফোকরা হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) [১৮৯৩-১৯৮২]।

জন্ম: ১০ পৌষ ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ, ১২ রজব ১৩৪৭ হিজরী, ২৫ ডিসেম্বর, ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ।স্থান: গাউসিয়া আহমদিয়া মনজিল, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।মাতা: গাউসুল আজম বিল বিরাসত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ গোলাম রহমান মাইজভাণ্ডারী প্রকাশ: হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.)’র [১৮৬৫-১৯৩৭] দ্বিতীয় শাহজাদী ‘উম্মুল আশেকীন সৈয়দা সাজেদা খাতুন (র.)’ [-১৯৬৮]।

পিতামহ: প্রথম মোতাওয়াল্লি-এ-দরবার, বেলায়েতে মা’আবে শাহজাদা হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ ফয়জুল হক ফানা-ই ওয়াসেল মাইজভাণ্ডারী (ক.) [১৮৬৫-১৯০২]।প্র-পিতামহ: বাংলার মাটিতে প্রবর্তিত একমাত্র তরিকা, বিশ্বসমাদৃত ‘তরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তক গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.) [১৮২৬-১৯০৬]।

শিক্ষা জীবন

জীবন ও জগতকে জানার প্রয়োজনে শিক্ষার ভূমিকা অপরিহার্য। হযরত গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র দোয়ার মেহেরাব নামীয় হুজরা শরীফে মহান অলিয়ে কামেল পিতার মুখে মুখেই প্রথম ‘রব্বী যিদনী ইলমা’ বলে শিক্ষা জীবনে যাত্রা শুরু করেন। গৃহ শিক্ষক মাওলানা মোজাম্মেল হক সাহেবের নিকট আরবি ও মাইজভাণ্ডার আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসায় পিতার তত্ত্বাবধানে তৃতীয় শ্রেণি পাশ করার পর ১৯৪১ সালে মাওলানা মোজাহেরুল হক (বিএবিটি) সাহেবের সাথে তাঁরই তত্ত্বাবধানে ফটিকছড়ি করোনেশন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়স্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন।

অনুধর্ব ১ বছর অতিক্রান্তান্তে ঐ শিক্ষক বিএবিটি সাহেবের আকস্মিক মৃত্যুএ আবার বাড়ি ফিরে পার্শ্ববর্তী নানুপুর আবু সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ঐ স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে কৃতিত্ব রাখেন। উল্লেখ্য যে, তখন চলছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পিতার আগ্রহে আরো উচ্চ শিক্ষার জন্য চট্টগ্রাম কলেজিয়েট হাই স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি ও ১৯৪৭ সালে যুদ্ধকালীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান দৈনিক পাঞ্জাবী পত্রিকায় ১৯৪৮ সালের ৩১ আগস্ট এস এস সি পরীক্ষায় কৃতিত্বের ফলাফল প্রকাশিত হয়। পরে চট্টগ্রাম গভর্নমেন্ট কলেজ হতে ১৯৫১ সালে আই এ পাশ করেন।

১৯৫৩ সালে বি এ পরীক্ষার তৃতীয় দিনে দৈবিক সূত্রে আধ্যাত্মিক প্রভাব প্রকাশ পেয়ে গেলে সাদা খাতা জমা দিয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে খোদায়ী পরীক্ষায় মনোনিবেশ করেন। ১৯৫৩ সালে বাড়ি ফেরার কিছুদিন পর তিনি আহার নিদ্রা একেবারেই ত্যাগ করেন। আধ্যাত্মিক বিভোরতাক্রমশঃ এতই বৃদ্ধি পেতে লাগলো যে, সামনে যাকে পান তাকে মারতে লাগলেন। “নামাজ-কালাম না পড়ে কিসের এতো নাচানাচি” ইত্যাদি বকাঝকা করে মানুষকে সামনে থেকে তাড়াতে লাগলেন।

এমতাবস্থায় পিতার কাছে অভিযোগ গেলে পিতা কারণ জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে তিনি কিছু একান্ত প্রশ্ন করার অনুরোধ করেন। পিতা অনুমতি দিলে হুজরা শরীফের দরজা বন্ধ করে পিতার কাছে প্রশ্ন করলেন—

  1. “হযরত কেবলা কে? বাবাজান কেবলা কে?”পিতা জবাব দেন, “আল্লাহর অলি-দু’য়ে মিলে এক।”পুত্র আবার প্রশ্ন করেন, “আপনি কে?”তিনি উত্তর দেন, “আমি হযরতের অছি। আর বাবাজান কেবলার ফয়েজপ্রাপ্ত। তাঁরা আমার মধ্যে আছেন।”

পুনঃ কী যেন প্রশ্ন করলেন (অশ্রুত)। এতে পিতা উচ্চস্বরে (রাগতে) বলেন—

“আমাকে এখনও চিন নাই? আমি কে তা কি দেখবে?”

তারপর অনেকক্ষণ নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ।

দরজা খুলে দিলে বাইরের অবস্থানরত লোকেরা দেখে পিতার মুখমণ্ডল রক্তিম লালিমাময়। পুত্র দু’হাতে ভর দিয়ে মুখ নিচু করে বসে আছেন, ভীত-বিহ্বল, মুখ দিয়ে লালা পড়ছে। পিতা খাদেমদের নির্দেশ দিলেন, “ওকে অন্দর বাড়িতে নিয়ে যাও।”

ধরাধরি করে তাঁকে মায়ের বিছানায় নিয়ে শোয়ানো হলো। ছেলের অবস্থায় মা রুদ্ধবাক। সেবিকারা মাথায় পানি ঢালতে লাগলো। বহুখণ পর কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেন। কিন্তু রাতে ঘুম হয় না। এ ঘর ও-ঘর ছোটাছুটি করেন। বাবার হুজরায় গিয়ে বারবার ডাকতে থাকেন। পিতার স্নেহভরা কণ্ঠ, “ঘুমাতে যাও।”

বায়াত ও খেলাফত

বুযুর্গ পিতার ব্যবস্থাপনায় তৎকালীন আন্দারকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব আযম আল্লামা সফিরুর রহমান হাশেমী (র.) সাহেবের উপস্থিতিতে মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকার প্রবর্তকের দোয়ার মেহরাবে (গদি শরীফে) তরিকার নীতি অনুসারে “সবক” পাঠান্তে আপন পিতার হাতে বায়াত হন।

১৯৬৬ সালে ২২ জানুয়ারি, ৯ মাঘ ১৩৭৩ বাংলা, হযরত গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর ওরশ শরীফের পূর্বদিন দেশ-বিদেশ থেকে আগত মেহমানগণের উপস্থিতিতে আধ্যাত্মিক পিতা ও জাগতিক হযরত অছিয়্যে গাউসুল আজম সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) তদীয় মুর্শিদ ও ‘তরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তক গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর স্বপ্নাদেশ—“জিয়াউল হক মিঞার আমানত তাঁকে অর্পণ করুন”—পালনার্থে হযরত গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর গদি শরীফে বসিয়ে খেলাফতের এ মহান খোদায়ী গুরু ভার গ্রহণ করেন।

সংসার জীবন

১৪ মাঘ, ১৩৬২ বাংলা, ৮ জানুয়ারি ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ মঙ্গলবার, নিজ পিতার সনামধন্য মুরিদ চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির প্রখ্যাত জমিদার জনাব বদরুজ্জামান সিকদার সাহেবের কনিষ্ঠ কন্যা মোহাম্মদ মুনওয়ারা বেগমের সঙ্গে এ মহান সাধকের জীবন পরিচয় সূত্র ঘটে।

রিয়াজত-সাধনা

রিয়াজতকালীন সময়ে তিনি যে দুঃসাধ্যময় ত্যাগ স্বীকার করেছেন বর্তমান সময়ে তাঁর এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই। যেমন—বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম প্রদক্ষিণ। কক্সবাজারের সৈকতে অদৃশ্য হয়ে দুই তিন ঘণ্টা পর ফিরে আসা। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ চট্টগ্রামের গহীন অরণ্যে চার-পাঁচ দিনের জন্য নিখোঁজ হয়ে ভক্তদের কাছে ফিরে আসা। পৌষ-মাঘ মাসের শীতকালে পার্শ্বস্থ লোহার খালে (পরিত্যক্ত) অনেক দিন নাক দেখা দিয়ে সমস্ত শরীর ডুবিয়ে রাখা ইত্যাদি। এভাবে অসংখ্য কঠোর রিয়াজতের মাধ্যমে তিনি অধ্যাত্ম পথের শেষ স্তর পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছেন।

সাধনাকালে জীবনের ১৩টি বছর মহান আল্লাহর প্রেমে এমন বিভোরভাবে কাটিয়েছেন যে পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনরা তৎসময়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠান। দীর্ঘ ৬ মাস অত্যন্ত কষ্টের সময় কাটাতে হয়েছিল এ মহান সাধকের। দশ দশটি বৈদ্যুতিক শক দিয়ে শরীরকে আগুনছেঁকা করার পর ডাক্তারগণ বলতে বাধ্য হলেন—“তিনি আত্মা বিলোপের সকল স্তর অতিক্রম করে স্রষ্টার স্থায়ী প্রেমে বিমুগ্ধ হয়ে বিশুদ্ধ আনন্দ বোধের শেষ স্তরে ‘বাকা বিল্লাহ’ উন্নীত হয়ে গেছেন।” আপনারা এই মহান সাধককে বাড়ি নিয়ে যান, কারণ তিনি সাধারণ পাগলদের মতো নন।

বাংলাদেশের পাহাড়, পর্বত, শহর নগরের সর্বত্র তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন। ১৯৫৪ সাল হতে ওফাতপূর্ব পর্যন্ত এক রাত ঘুমিয়ে কাটাতে প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ দেখেননি। এমন কঠোর রিয়াজত-সাধনার মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামীনের এতই নৈকট্য হাসিল করেছেন যে, নিজ জবানীতে তা এভাবে প্রকাশ করেন—

“হে বিশ্ববাসী! আমার দিকে তাকাও। আমাকে বুঝতে হলে কোরআন দেখ।”

“আকাশের উপরে বসে আমি মানুষের কাজকর্ম দেখি আর উপরের দিকে আল্লাহর সাথে কথা বলি।”

“রহমাতুল্লিল আলামীন রাসূলের রহমতের সীমা জুড়ে আমার বেলায়তী কর্ম-ক্ষমতা।”

নিজের অবস্থা এবং অবস্থানকে স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি আরো ঘোষণা করেন—

“আমার দরবার আন্তর্জাতিক প্রশাসন অফিস, সেখান থেকে এ বিশ্ব পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।”

“আমার তরিকা দুই পয়সার তরিকা নয়, আমার তরিকা কোটি কোটি গুণ বড়।”
কারামত

তাঁর জীবনী গ্রন্থে প্রায় ১৩৪টির বেশি কারামত উল্লেখ থাকলেও তেল ছাড়া গাড়ি চালানোর কথা এবং তাৎক্ষণিক মানুষের হাজত মকসুদ পূরণে অকাতরে দান দক্ষিণা সহযোগিত মানবতার কথা বেশ উল্লেখযোগ্য।

ওয়ারিশান / ওফাত

তিনি ৫ কন্যা সন্তান ও একমাত্র (বর্তমান মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন) পুত্র সন্তানের কাছে এই সুবিশাল দরবারে পাকের গুরু দায়িত্বভার অর্পণ করে এ মহান অলি ওফাত লাভ করেছেন ১৩ অক্টোবর ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ, ২৬ আশ্বিন ১৩৯৫ বাংলা, ১ রবিউল আউয়াল ১৪০৯ হিজরি, বুধবার।

পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণের সময় তাঁর বিছানা ছিল জিকিরের বিছানা। যেভাবে তাঁর পুরা জীবন ছিল জিকিরের জীবন। তিনি ওফাত লাভ করেছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে। তখন তাঁর কণ্ঠে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ শব্দ ধ্বনিত হচ্ছিল। হাসপাতালে উপস্থিত সঙ্গী-সাথী, পরিবারের সদস্য, ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী-কর্মকর্তা, ভক্তবৃন্দ, সবাই একযোগে তাঁর কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ জিকির করছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে তাঁর অন্তিম মুহূর্ত ছিল জিকিরে মুখরিত এক রাজকীয় অভিবাত্রা। ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

চট্টগ্রামের বহুল প্রচারিত ‘আজাদী’ ও ‘পূর্বকোণ’সহ বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার ভাষ্যমতে এটি ছিল দেশের দরবার শরীফসমূহের মধ্যে স্মরণকালের বৃহত্তম নামাযে জানাযা।

১৪ অক্টোবর ‘দৈনিক আজাদী’ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ৩ কলামব্যাপী সংবাদের শিরোনাম ছিল এ রকম—

‘জানাযায় পাঁচ লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ—শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর দাফন সম্পন্ন।’

মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মঞ্জিলের উদ্যোগে প্রতি বছর ২৬ আশ্বিন, ১১ অক্টোবর মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে তাঁর বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়।

সুফিবাদী লেখক ও গবেষক।

পাহাড়তলী ডিজেল শপে এক-তৃতীয়াংশ জনবল, জোড়াতালিতে সচল শত শত ইঞ্জিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

পূর্বাঞ্চলের রেল বহরের মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার অন্যতম প্রধান কারিগরি কেন্দ্র চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ মেরামত কারখানা। রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআইভুক্ত এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট, বাজেট স্বল্পতা, আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং ঋণপত্র বা এলসি জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে আসছে। মঞ্জুরিকৃত ৩৩০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত মাত্র ১১০ জন। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় জনবলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দিয়েই প্রতিদিন পূর্বাঞ্চলের রেল বহরের লোকোমোটিভ মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও সচল রাখার কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

কারখানা-সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের পর বছর নতুন নিয়োগ না হওয়া এবং অভিজ্ঞ ও প্রবীণ টেকনিশিয়ানদের অবসরে যাওয়ায় দক্ষ জনবলের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক লোকোমোটিভ প্রয়োজন, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নেই। ফলে সীমিতসংখ্যক মেকানিক ও টেকনিশিয়ানকে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দৈনিক মজুরি বা অদক্ষ শ্রমিকের সহায়তাও নিতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনবল সংকটের পাশাপাশি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে লোকোমোটিভের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। পূর্বাঞ্চলের বহরে থাকা বহু মিটারগেজ লোকোমোটিভ পুরোনো হওয়ায় নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রয়োজন হয়। এসব যন্ত্রাংশের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু ডলার সংকট, ব্যাংকে এলসি খোলার জটিলতা, বাজেট বরাদ্দের দীর্ঘসূত্রতা এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সময়মতো কারখানায় পৌঁছায় না। কারখানা-সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোনো প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের রিকুইজিশন দেওয়ার পর বাজেট ও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পাহাড়তলী) দপ্তর থেকে সেটি হাতে পেতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়।

ফলে মেরামতের টেবিলে এসে থেমে থাকে লোকোমোটিভ। প্রয়োজনীয় জেনুইন স্পেয়ার পার্টস না থাকায় পুরোনো ইঞ্জিন কিংবা অচল ইঞ্জিন থেকে কার্যকর যন্ত্রাংশ খুলে অন্য ইঞ্জিনে ব্যবহার করে অনেক সময় কাজ চালিয়ে নিতে হয়। কারিগরি কর্মীদের ভাষায়, এক ইঞ্জিনের ‘জীবন’ বাঁচাতে আরেকটি অচল ইঞ্জিনের পার্টস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ইঞ্জিন সচল করা সম্ভব হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

কারখানা সূত্রের ভাষ্য, ইয়ার্ড বা লাইন থেকে কোনো লোকোমোটিভ বিকল হয়ে পাহাড়তলী ডিজেল শপে এলে সেটিকে দ্রুত মেরামত করে লাইনে ফেরত পাঠানোর চাপ থাকে। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, দক্ষ জনবল এবং পর্যাপ্ত সময়ের অভাবে অনেক সময় গভীর সংস্কার বা নির্ধারিত ওভারহোলিং করা সম্ভব হয় না। তখন সাময়িক বা দ্রুত মেরামত—কারিগরি ভাষায় ‘কুইক ফিক্স’—করে ইঞ্জিনটি লাইনে পাঠানো হয়। এর ফলে কোনো কোনো ইঞ্জিন কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ চলার পর একই ধরনের ত্রুটি নিয়ে আবারও কারখানায় ফিরে আসে। রেলওয়ের কারিগরি পরিভাষায় এ ধরনের পুনঃপুন বিকল হওয়াকে ‘রিপিট ফেইলিওর’ বলা হয়। কর্মীদের ভাষায়, এটাই অনেকটা ইঞ্জিনের ‘ইউ-টার্ন’।

একটি লোকোমোটিভ বারবার বিকল হয়ে কারখানায় ফিরে এলে একদিকে মেরামত সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, অন্যদিকে ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রস্তুত লোকোমোটিভের সংখ্যা কমে যায়। ফলে অন্য ইঞ্জিনগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এভাবে সংকটটি একটি চক্রে পরিণত হয়—যন্ত্রাংশের অভাব, দ্রুত মেরামত, লাইনে পাঠানো, পুনরায় বিকল হয়ে ফিরে আসা এবং আবার মেরামতের চাপ।

তবে নানা সংকটের মধ্যেও পাহাড়তলী ডিজেল শপের কারিগরি সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২টি মৃতপ্রায় লোকোমোটিভ মেরামত করে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় রানিং ডিভিশনে পাঠানো হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪টি মৃতপ্রায় এবং ২টি দুর্ঘটনাকবলিত লোকোমোটিভ মেরামত করে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় রানিং ডিভিশনে প্রেরণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও ৪টি মৃতপ্রায় লোকোমোটিভ মেরামত করে সচল করা হয়েছে। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫টি মৃতপ্রায় এবং ২টি দুর্ঘটনাকবলিত লোকোমোটিভ মেরামত করে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় রানিং ডিভিশনে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ চার অর্থবছরে মোট ১৫টি মৃতপ্রায় এবং ৪টি দুর্ঘটনাকবলিত—সর্বমোট ১৯টি লোকোমোটিভ মেরামতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় রানিং ডিভিশনে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

কারখানা সূত্র অনুযায়ী, গত তিন-চার বছরে এখানকার মেকানিকরা প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি লোকোমোটিভের ছোট-বড় মেরামত ও লাইট ওভারহোলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে ট্রেনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতিও নিতে হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিটি ঈদের আগে একযোগে প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫টি লোকোমোটিভ প্রস্তুত করে লাইনে আউট-টার্ন দেওয়ার কাজ করেছে এই কারখানা। সীমিত জনবল ও যন্ত্রাংশের মধ্যেও পূর্বাঞ্চলের রেল বহর সচল রাখতে কারখানাটির ওপর যে চাপ রয়েছে, তার বড় অংশই এখানকার কর্মীদের সামাল দিতে হচ্ছে।

শুধু পুরোনো মিটারগেজ লোকোমোটিভ নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম থেকে আনা ৩০০০ সিরিজের ২২টি আধুনিক লোকোমোটিভও বিভিন্ন সময়ে কারিগরি ত্রুটির কারণে পাহাড়তলী ডিজেল শপে মেরামত করতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে আধুনিক লোকোমোটিভের ক্ষেত্রেও দক্ষ মেকানিক, ডায়াগনস্টিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টসের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এদিকে সংকটের মধ্যেই কারখানাটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি আধুনিক অটোমেশন মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এর একটি স্বয়ংক্রিয় ডায়াগনস্টিকস মেশিন। কারখানা-সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে লোকোমোটিভের জটিল ইলেকট্রিক্যাল ও ফুয়েল সিস্টেমের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা যাচ্ছে। অন্যদিকে পার্টস ক্লিনিং ও ফিটিং অটোমেশন মেশিনের মাধ্যমে সিলিন্ডার হেড, ক্র্যাঙ্কশ্যাফ্টসহ ভারী যন্ত্রাংশ পরিষ্কার ও ফিটিংয়ের কাজ তুলনামূলক দ্রুত ও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ম্যানুয়াল কাজের ক্ষেত্রে ভুলের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি মেরামতের গুণগত মান ও সময়—দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মূল্যবান কর্মঘণ্টা সাশ্রয় এবং মেরামত করা যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতা সঠিকভাবে যাচাই করে কার্যোপযোগিতা নির্ণয়ের জন্য সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে Jib Crane, AC Motor Testing Plant এবং Compressor Testing Plant তৈরি ও স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তিগত সুবিধার মাধ্যমে মেরামত ও পরীক্ষণ কার্যক্রমে সময় কমানোর পাশাপাশি যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতা যাচাই আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতি সত্ত্বেও মূল সংকট থেকে যাচ্ছে জনবল ও যন্ত্রাংশে। আধুনিক ডায়াগনস্টিক মেশিন ত্রুটি শনাক্ত করতে পারলেও ত্রুটিপূর্ণ অংশ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় জেনুইন স্পেয়ার পার্টস না থাকলে মেরামত সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। একইভাবে দক্ষ জনবল ছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত করা কঠিন।

একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল অনেকাংশে নির্ভর করে সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্ধারিত ওভারহোলিংয়ের ওপর। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে নির্ধারিত সময়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ সংস্কার ব্যাহত হলে ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ক্র্যাঙ্কশ্যাফ্ট, ট্র্যাকশন মোটর, টার্বোচার্জারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্টের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে পুরোনো লোকোমোটিভগুলোকে দীর্ঘদিন সচল রাখার ব্যয়ও বাড়তে থাকে এবং সময়ের আগেই ইঞ্জিন অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পাহাড়তলী ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ মেরামত কারখানার কর্মব্যবস্থাপক (ডিজেল) প্রকৌশলী এতেশাম মো. শফিক বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কারখানায় দক্ষ জনবল ও মানসম্মত স্পেয়ার পার্টসের ঘাটতি চলায় মেরামত কাজ করা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। তবে দক্ষ জনবল ঘাটতি মোকাবেলা এবং মুল্যবান কর্মঘন্টা সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন রকম অটোমেশন প্রযুক্তি এর ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত প্ল্যান্টস এন্ড মেশিনারিজ এর পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে ডায়াগনস্টিক প্ল্যান্টস ও স্থাপন করা হচ্ছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তিনি বলেন, “সরঞ্জাম বিভাগ যদি বাজেট ও এলসি জটিলতা কাটিয়ে আমদানিকৃত মালামালের দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে কারখানার কাজের গতি ও লোকোমোটিভ সচল করার হার আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।”

কারখানা-সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়তলী ডিজেল শপের বর্তমান সংকট সমাধানে শুধু নতুন মেশিন স্থাপন যথেষ্ট নয়। মঞ্জুরিকৃত শূন্য পদে দ্রুত দক্ষ জনবল নিয়োগ, অভিজ্ঞ মেকানিকদের জ্ঞান নতুন কর্মীদের মধ্যে স্থানান্তর, আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, সময়মতো বাজেট বরাদ্দ এবং জেনুইন স্পেয়ার পার্টস আমদানির জন্য দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কারণ পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগ অনেকাংশেই লোকোমোটিভের নির্ভরযোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল। একটি ইঞ্জিন বারবার বিকল হওয়া মানে শুধু একটি মেশিনের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয় ট্রেন পরিচালনা, শিডিউল, যাত্রীসেবা এবং পুরো রেল বহরের ওপর বাড়তি চাপ। পাহাড়তলী ডিজেল শপের কর্মীরা সীমিত জনবল ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিদিন সেই চাপ সামাল দিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে গত চার অর্থবছরে ১৯টি মৃতপ্রায় ও দুর্ঘটনাকবলিত লোকোমোটিভকে মেরামতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সচল করে রানিং ডিভিশনে ফেরত পাঠানো এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে বিভিন্ন টেস্টিং প্ল্যান্ট ও অটোমেশন স্থাপনের মাধ্যমে কারখানাটি তার সক্ষমতারও প্রমাণ দিয়েছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে অপ্রতুল জনবল, পুরোনো যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা এবং জেনুইন স্পেয়ার পার্টস পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান না হলে এই সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হবে। মঞ্জুরিকৃত জনবল পূরণ, নির্ধারিত ওভারহোলিং নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় জেনুইন স্পেয়ার পার্টস দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে দেশীয় প্রযুক্তির এসব উদ্যোগের সুফল আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এতে পূর্বাঞ্চলের লোকোমোটিভ বহরের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি বারবার বিকল হয়ে কারখানায় ফিরে আসা ইঞ্জিনের সংখ্যাও কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

 

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ