আজঃ বুধবার ১৩ মে, ২০২৬

বহিবিশ্ব:

রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত শহরে তীব্র লড়াই চলছে।

বহিবিশ্ব নিউজ ডেস্ক:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াকতাউয়ে সেনাবাহিনীর নবম মিলিটারি অপারেশন্স কমান্ডে (এমওসি-৯) হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। রাখাইনের কালাদান উপত্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান কিয়াকতাউয়ে সেনাদের অবস্থানে হামলার পর সেখানে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। কিয়াকতাউ একটি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত শহর।

সেনাবাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, শুক্রবার সারাদিন সেখানে লড়াই হয়। যা মধ্যরাত থেকেই বেশ তীব্র ছিল।

সূত্রটি বলেছে, ‘এমওসি-৯-এ আরাকান আর্মির সদস্যরা গত তিন থেকে চারদিন ধরে হামলা চালাচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। আমরা জানতে পেরেছি আরাকান আর্মি সেখানে এগিয়ে আছে এবং এমওসি-৯ এ প্রবেশ করেছে।’

উত্তপ্ত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন, পালাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ

আরাকান আর্মিসহ তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী গত অক্টোবরে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স নামের একটি জোট তৈরি করে। ওই জোট নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত হামলা চালাচ্ছে।

গত ২৪ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে ব্রাদারহুড অ্যালায়ন্স জানায়, জান্তাবাহিনীর প্রত্যেকটি ডিভিশন এবং ঘাঁটি একটি একটি করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।

স্থানীয় মানুষ জানিয়েছেন, কিয়াকতাউয়ের এমওসি-৯ জান্তাবাহিনীর একটি ডিভিশন। বিবৃতিতে এই ডিভিশন দখলের চেষ্টার কথা উল্লেখ করেছিল ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স।

রাখাইন রাজ্যের পাউয়াকতো শহরের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে আরাকান আর্মি। এখন তারা কিয়াকতাউ, মারুক-উ, মিনবায়া এবং রথডংয়ে জান্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। এসব অঞ্চলে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখনো আত্মসমর্পণ করেনি।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য গত কয়েকদিন ধরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে সেনাবাহিনীর ব্যাপক লড়াই হচ্ছে। এ লড়াই পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরের বুচিডংয়ে।

সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে রাখাইনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে আরাকান আর্মি।

দ্য আরকান এক্সপ্রেস নিউজ নামের স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে সেখানে প্রচণ্ড হামলা ও পাল্টা হামলা হচ্ছে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বুচিডংয়ের একটি রোহিঙ্গা গ্রামে ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। তাদের ছোড়া দুটি বোমা সাধারণ মানুষের বাড়িতে আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে বুচিডং এবং আশপাশের অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে জান্তা বাহিনী।

ইয়ুথ এশিয়া ফর মায়ানমার নামের একটি ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, বুচিডংয়ের ফো নো লেক গ্রামের ১০০ বাসিন্দা বোমা হামলার ভয়ে অন্যান্য গ্রামে চলে গেছেন। সেখানে আরাকান আর্মির সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।

সূত্র: নিরানজারা নিউজ

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করলেন বোয়ালখালীর কৃতি সন্তান খাদিজা তুন সুহা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কৃতি সন্তান ও মেধাবী শিক্ষার্থী খাদিজা তুন সুহা যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য Michigan Technological University থেকে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২৪ এপ্রিল ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুহার এই গৌরবময় মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে সুদূর দুবাই থেকে তার পিতা-মাতা উপস্থিত ছিলেন। মেয়ের এমন সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

খাদিজা তুন সুহা দুবাই প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মাল্টিনেট ট্রাস্ট এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. খোরশেদুল আলম এবং আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রোখসানা বেগমের কন্যা।
জানা যায়, খাদিজা তুন সুহার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদন্ডী এলাকার মীরপাড়া বাসির মুন্সির বাড়িতে। তিনি বোয়ালখালী থানা বিএনপি নেতা শওকত আলমের ভাতিজি।

মেয়ের এ অসাধারণ অর্জনে ড. খোরশেদুল আলম ও রোখসানা বেগম মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং সকলের কাছে তাদের মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আরও সাফল্যের জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

ভারতীয় নৌ জাহাজ ‘আইওএস সাগর’ পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইওএস সাগর’ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। শুক্রবার সামুদ্রিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সমন্বয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায় জাহাজটি। বহুজাতিক নৌ মোতায়েন কর্মসূচি ‘আইওএস সাগর ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এই সফরকে ভারতীয় নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর জাহাজটিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বিএনএস আলী হায়দার (এফ১৭)’ অভ্যর্থনা জানিয়ে বন্দরে নিয়ে আসে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, নৌবহর কমান্ডার এবং ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন আইওএস সাগরের অধিনায়ক। এসব বৈঠকের মাধ্যমে দুই নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সফরসূচির অংশ হিসেবে নানা ধরনের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করবে।পাশাপাশি আইওএস সাগরের পক্ষ থেকেও একটি ডেক রিসেপশনের আয়োজন করা হবে, যেখানে দুই দেশের নৌ সদস্যরা অংশ নেবেন।

স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামের কমনওয়েলথ ওয়ার সেমেট্রিতে একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এতে যৌথ ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে সামুদ্রিক লজিস্টিকস ও বন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা হবে।পরবর্তীতে উভয় পক্ষের নৌ সদস্যদের মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় ও জাহাজ পরিদর্শন কর্মসূচিও থাকবে।প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আইওএস সাগরের নৌ সদস্যরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও নৌ একাডেমি পরিদর্শন করবেন। এতে দুই দেশের নৌ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পারস্পরিক ধারণা আরো গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উভয় নৌবাহিনীর মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের কথাও রয়েছে, যা দুই বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। চট্টগ্রাম সফরকে ভারত সরকারের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা জোরদারের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ