আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

চবি ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ:

একাডেমিক বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সফল কর্মময় জীবন কামনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ২৮ ফেব্রæয়ারি ২০২৪ সকাল ১০ টায় চবি সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য একাডেমিক প্রফেসর বেনু কুমার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মাননীয় উপাচার্য ও চবি ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী এবং পিআইবি চট্টগ্রাম জেলা সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে চবি ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মৌমিতা পাল, মোঃ মাজহারুল ইসলাম, প্রভাষক ফারজানা রহমান এবং প্রকাশ চন্দ্র রায় বক্তব্য রাখেন।
উপ-উপাচার্য একাডেমি তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও বিদায়ীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবপ্রতিষ্ঠিত বিভাগ ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ। এ বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যুগোপযোগী বিষয়ে পেশাগত শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অলংকৃত করে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি এ বিশ^বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করবে এটাই প্রত্যাশিত। উপ-উপাচার্য একাডেমিক বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সফল কর্মময় জীবন কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ হিসেবে ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছে। আশাকরি এ বিভাগের শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ-জাতির কল্যাণে নিজেদের নিবেদিত রেখে কাজ করবে এবং বিভাগকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে। তিনি নবপ্রতিষ্ঠিত এ বিভাগের প্রথম ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সফল কর্মময় জীবন ও সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ উল্লাহ এবং মানপত্র পাঠ করেন মাহফুজা মায়েশা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থী নন্দিনী কর্মকার প্রাচী ও শাহরিয়ার আকাশ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে উক্ত বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রমে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন জলদস্যুর মাঝে র‌্যাবের ঈদ উপহার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন সাবেক জলদস্যুর মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে র‌্যাবের চট্টগ্রাম ইউনিট। বুধবার চট্টগ্রাম ইউনিটের সদর দপ্তর পতেঙ্গা এলিট হলে র‌্যাব মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী ও পেকুয়া উপকূলীয় অঞ্চলের আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের মাঝে এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।একইসঙ্গে তাদের বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংস্থাটি অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ডাকাত, চাঁদাবাজ, খুনি ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সফলতা অর্জন করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে ২০১৮ ও ২০২০ সালে ৭৭ জন এবং ২০২৪ সালে আরও ৫০ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে বলে জানায় সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম র‌্যাবের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা র‌্যাবের কল্যাণমূলক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অপরাধমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তারা ভবিষ্যতে সৎ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার হস্তক্ষেপে অবশেষে নগরের বায়েজিদ এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। জেপি সনেট লিমিটেডের মালিকপক্ষ বুধবার (১৮ মার্চ) কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে বাধ্য হয়েছে।

জানা যায়, ডিসির নির্দেশে কারখানার যন্ত্রপাতি তাৎক্ষণিকভাবে ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে মালিকপক্ষ। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভোরে সেই অর্থ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় কোনো ধরনের ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।কারখানার সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন বলেন, ডিসি স্যার প্রথমে নিজে টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।তিনি অচলাবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে অফিসারদের মাধ্যমে মনিটরিং করেন। এছাড়া তিনি মালিকপক্ষকে সতর্ক করে দেন—প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই মালিকপক্ষ তালবাহানা বন্ধ করে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।তিনি বলেন, ডিসি স্যার হস্তক্ষেপ না করলে ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের পাওনা পেতেন না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে আমরা যন্ত্রপাতি ও স্টক মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করি। প্রথমে ক্রেতা গড়িমসি করলেও ডিসি স্যার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি রাজি হন। রাত ১২টার দিকে সমঝোতা হয় এবং ভোর ৬টায় পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, আমাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। তবে জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়েছে বকেয়া পরিশোধ করতে। জেলা প্রশাসক বারবার খোঁজ নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন—শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়। ঈদের আগে তিন মাসের বেতন বকেয়া এবং শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর নির্দেশ দিতে হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সৃষ্ট এই শ্রম অসন্তোষের সূত্রপাত হয় গত ১৪ মার্চ, যখন প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি, শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকার করে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। নারী শ্রমিকসহ অনেকে কারখানায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মালিকপক্ষ সময়ক্ষেপণ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরে ১৮ মার্চ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে ১ লাখ টাকা আংশিক পরিশোধ করা হয়েছিল।জেলা প্রশাসন জানায়, শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ, ক্রেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছিল এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ