চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর গণসমাবেশে সিপিবি সভাপতি

ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন-গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন

ডেস্ক নিউজ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহআলম বলেছেন, ‘লুটেরা-টাকা পাচারকারী, বিএমডব্লিউওয়ালাদের সিন্ডিকেট দেশের পার্লামেন্ট দখল করে ফেলেছে। এ লুটেরাদের লালন-পালন করছে অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী সরকার। লুটেরাদের রাজনীতি থেকে হটাতে হবে। লুটেরাদের সরকারকে ক্ষমতার গদি থেকে টেনে নামাতে হবে। এজন্য সর্বস্তরের মানুষকে রাস্তায় নেমে এসে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন ও গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

সিপিবির ৭৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার ৯ মার্চ বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা সিপিবি এ গণসমাবেশের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহআলম বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি এদেশে একটি তথাকথিত নির্বাচন হয়েছে। ক্ষমতায় থাকা সরকারই আবার সরকার গঠন করেছে। আমরা ২ সালে একতরফা নির্বাচন দেখেছি। ২০১৮ সালের নৈশভোটের নির্বাচন দেখেছি, রাতের আঁধারে ভোটচুরি করে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালে দেশের জনগণের মতামত উপেক্ষা করে অবৈধ নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতা দখল করেছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ২২ টি আসনে কারচুপি হয়েছিল। জিয়াউর রহমান আমলে হ্যাঁ-না ভোট দেখেছি, মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এরশাদের আমলে গুণ্ডারা ভোট দিয়েছে। মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমরা স্লোগান দিয়েছিলাম- আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। মানুষ সেটা লুফে নিয়েছিল। স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নূর হোসেন রক্ত দিয়েছিল, তাজুল রক্ত দিয়েছিল। এদেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে স্বৈরাচার হটিয়েছিল। এখন আবার স্বৈরাচারদের নিয়ে আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রের পতাকা খামচে ধরেছে। তাদের হটাতে হবে।’

দেশের মানুষ উত্তরাধিকারের রাজনীতির কাছে বন্দি হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একদিকে সজীব ওয়াজেদ জয়, আরেকদিকে তারেক রহমান। এ উত্তরাধিকারের রাজনীতি ভেঙ্গে দিতে হবে। বংশের রাজনীতি ভেঙ্গে দিতে হবে। রাজনীতিকে উত্তরাধিকারের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।’

দেশের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে শাহআলম বলেন, ‘দেশে আজ কী চলছে, আমাদের চেয়ে মানুষ ভালো জানে। মানুষকে আজ বোঝাতে হয় না, তারাই উল্টো আমাদের বোঝাচ্ছে। মানুষ আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। বাজারে গিয়ে জিনিসপত্রে হাত দেয়া যাচ্ছে না, হাত পুড়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন পর রমজান, মানুষ চিন্তায় আছে। দেশের ব্যাংকে টাকা নেই। ডলার সংকট চলছে। হাজার-হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। পাচারকারীদের সরকার লালন-পালন করছে।’

টাকা পাচারকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর দেশ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। সরকারের কাছে সব তথ্য আছে। সরকারকে বলব- পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনেন। টাকা পাচারকারীদের তালিকা প্রকাশ করুন, ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করুন।’

তিনি বলেন, এ সরকার পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, তাদের সে ক্ষমতা নেই। সরকার চালায় সিন্ডিকেটওয়ালারা। মতিঝিলে-খাতুনগঞ্জে বসে আছে টাকা পাচারকারীদের সিন্ডিকেট। একেকজনের গাড়ির কী বাহার ! বিএমডব্লিউ ছাড়া চলে না ! লুটেরা, টাকা পাচারকারী আর বিএমডব্লিউওয়ালারা আজ দেশের পার্লামেন্ট দখল করেছে। পার্লামেন্টে ১৯৯ জন ব্যবসায়ী। যে সিন্ডিকেট জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়, তারা পার্লামেন্টে গিয়ে বসে আছে। আর সরকার অভিযানের নামে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে। সবার আগে এ মুনাফাখোরি বাজার ব্যবস্থাকে লাথি দিতে হবে। গ্রাম-শহরে রেশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সিন্ডিকেটওয়ালাদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে হবে। টাকা পাচারকারী-বিএমডব্লিউওয়ালাদের দখল থেকে পার্লামেন্টকে মুক্ত করতে হবে। তাদের পার্লামেন্ট থেকে বের করে দিতে হবে।’

সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘লুটেরা সিন্ডিকেট, টাকা পাচারকারী আর তাদের লালন-পালনকারী সরকারের বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টি লড়াই করছে। এ লড়াই চলবে। এ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে জনগণের রাজনীতি গড়ে তুলতে হবে। এ দেশ আমরা লুটেরাদের হতে দেব না। লুটেরাদের সরকারকে ক্ষমতার গদি থেকে নামাতে হবে। লুটেরাদের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হবে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, গণআন্দোলন গড়ে তুলি, গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলি। সিপিবির নেতৃত্বে জনগণের পক্ষের লুটেরাদের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে।’

সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য পরেশ কর বলেন, ‘১৯৪৯ সালে যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, সে আওয়ামী লীগ এখন আর নেই। এখন যে আওয়ামী লীগ সেটা জনগণের নয়, সেটা সালমান এফ রহমানের আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ এখন এক মহাবিপদে আছে। কমিউনিস্ট পার্টি সে মহাবিপদ অতিক্রমের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করছে। একদিন সংগ্রাম করে আমরা স্বৈরশাসন হটিয়েছিলাম। এখন আবার ক্ষমতার গদিতে স্বৈরশাসন চেপে বসেছে। দলগতভাবে আওয়ামী লীগ বিএনপির চেয়েও খারাপ অবস্থানে আছে। আওয়ামী লীগের কাছে জনগণের কোনো দাম নেই। এখন জনগণের শেষ ভরসা কমিউনিস্ট পার্টি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফেরাতে হলে, জনগণের অধিকার কায়েম করতে হলে কমিউনিস্ট পার্টিকে শক্তিশালী করা ছাড়া উপায় নেই।’

সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তার বলেন, ‘ভোট ও ভাতের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, লুটপাট, দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টি লড়াই করে যাচ্ছে। এদেশে যত গণআন্দোলন, সব কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে। দেশে যে নীতিহীন রাজনীতি চলছে, সেটার বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি করে যাচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টি। চলমান দুঃশাসনে আমরা এক দুর্বিসহ পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছি। নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সবাইকে রাজপথে নামতে হবে।’

সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অশোক সাহার সভাপতিত্বে ও সহকারি সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর, সম্পাদকমণ্ডলির সদস্য উত্তম চৌধুরী ও মো. মছিউদ্দৌলা এবং দক্ষিণ জেলার সভাপতি কানাই লাল দাশ ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী।
সিপিবি, চট্টগ্রাম জেলার সংস্কৃতি শাখার শিল্পীদের গণসঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ শেষে লাল-পতাকার মিছিল পুরাতন রেলস্টেশন থেকে নিউমার্কেট, কোতোয়ালী মোড়, লালদিঘীর পাড় হয়ে সিনেমা প্যালেস চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮ জানুয়ারি। এবার খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী- এ তিন বিভাগীয় শহরে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৮ ডিসেম্বর

ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিট এবং ১৯ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এবার পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সাতটি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শহরগুলো হলো- ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ।

আহতদের দেখতে গিয়ে আসলাম চৌধুরী সীতাকুন্ডের ঐক্যবদ্ধ বিএনপিতে ফাটল কাম্য নয়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীতাকুন্ড বিএনপি সবসময় ঐক্যবদ্ধ থেকে বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। সমানবিক বাংলাদেশ গঠনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিশন ভিশন বাস্তবায়ন করতে গেলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে কাজ করতে হবে বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এফসিএ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কুমিরা, সোনাইছড়ি, বাঁশবাড়ীয়া এবং বাড়বকুন্ড ইউনিয়নে আহত নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নিতে গিয়ে অনুষ্ঠিত সমবেদনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

আসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে সেটি কারো কাম্য নয়। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু সেটি কখনও সংঘাতে রূপ নেয়াটা উচিত নয়। অতীতের ন্যায় সবাইকে আবারও একযোগে কাজ করতে হবে। নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি থাকলে তৃতীয়পক্ষ সুযোগ নিবে। সেই সাথে দেশের অগ্রযাত্রা উন্নতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। খুব সহসাই সবাইকে এককাতারে এনে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে ইনশাল্লাহ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সীতাকুন্ড উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডা. কমল কদর, যুগ্ম-আহবায়ক জহুরুল আলম জহুর, সালামত উল্ল্যাহ, যুগ্ম-সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী, নুরউদ্দিন মোঃ জাহাঙ্গীর চৌধুরী, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, মোঃ রবিউল হক, নাজিমউদ্দৌলা, গিয়াসুল মাহমুদ চৌধুরী তসলিম, আজিজুর রহমান, আনোয়ারুল আজিম মুকুল, সবুজ, বশর চেয়ারম্যান, ইদ্রিস মিয়া, আওরঙ্গজেব মোস্তফা প্রমূখ।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ