এক সাথে ৫ হাজার মানুষ ইফতার করেন সাতক্ষীরার নলতায়

ইব্রাহীম হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাতক্ষীরা জেলার নলতায় দেশের অন্যতম ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাসব্যাপী এ ইফতার অনুষ্ঠান চলে আসছে কয়েক যুগ ধরে। এতে এক সাথে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ ইফতারে অংশ নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতাস্থ হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) এঁর মাজার প্রাঙ্গণে। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের ব্যবস্থাপনায় এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন এখানে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার রোজাদার একত্রে বসে ইফতার করছেন। সওয়াব হাসিলের জন্য ও বড় ইফতার মাহফিলে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইফতারের উদ্দেশ্যে নলতায় ছুটে আসেন রোজাদাররা। ধনী, গরিব নির্বিশিষে সকল মানুষ ভেদাভেদ ভুুলে এক কাতারে বসে সকলে ইফতার করেন।
মিশন কর্তৃপক্ষ জানান, আহ্ছানউল্লা (র.) ১৯৩৫ সালে নিজের হাতে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। মিশন প্রতিষ্ঠা করার পর তিনি নিজেই প্রতি বছর রমজান মাসব্যাপী এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন। পরবর্তী সময়ে এই ইফতার মাহফিলের পরিধি বেড়ে যায়। ১৯৫০ সাল থেকে শুরু করে প্রতিবছর বিশাল টিনের ছাউনি নির্মাণ করে রমজানে ইফতারের আয়োজন করে আসছে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন। ইফতার মাহফিলে সকলে একত্রে বসার জন্য আহছানউল্লা (রহ.) এঁর মাজার প্রাঙ্গনে বিশাল টিনের ছাউনি নির্মান করা হয়। ইফতার সামগ্রী বিতরণের জন্য রয়েছে আড়াই শত স্বেচ্ছাসেবক। ইফতারের তালিকায় রয়েছে ফিরনি, ডিম, চিড়া, ছোলা ভ‚না, খেজুর, সিঙ্গাড়া ও কলা। প্রতিদিন ১৫ মন দুধের ফিরনি তৈরি করা হয় এখানে। রোজাদারদের জন্য প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার প্লেটে ইফতার প্রস্তুত করা হয়। এছাড়াও নলতা শরীফের আশপাশের এলাকার মসজিদ ও বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয় এক থেকে দেড় হাজার রোজাদারের ইফতার। রয়েছে পানি পানের বিশেষ ব্যবস্থা। দেশ বিদেশের ভক্তগণ যৌথভাবে এই ইফতারের অর্থ যোগান দিয়ে যাচ্ছে। ইফতার প‚র্বে প্রতিদিন ধর্মপ্রান মুসল্লিরা দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। ইফতার শেষে এই প্রাঙ্গনেই মাগরিবের নামাজ আদায় করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাদারগঞ্জে আল আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির গ্রাহকদের প্রায় অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলার পলাতক আসামী আমির আবদুল ওয়াহেদকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪।জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বহিষ্কৃত সাবেক উপজেলা জামায়াতের আমিরকে বুধবার ৫ আগস্ট দুপুরে র‍্যাব-১৪, জামালপুর সিপিসি-১ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছন।

র‍্যাব জানায়, গত ৪ মে মাদারগঞ্জ উপজেলার আল আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আবদুল ওয়াহেদের বিরুদ্ধে মাদারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

লক্ষ্মীপুরে কেয়ারটেকারকে প্রাণনাশের হুমকি ও বসতবাড়িতে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের দিঘলী ইউনিয়নে এক বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফারুক হোসেন, আকরাম হোসেন,| মহিন উদ্দিন, নাজমুল হোসেন, আরমান হোসেন, আমির হোসেন মুন্সি,আরিফ হোসেনসহ অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে।

গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দিঘলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বাবু রমাপুর গ্রামের ইউনুছ মাষ্টারের বাড়ির গ্রামের বাসিন্দা ও অভিযুক্তরা ০৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে স্থানীয় সাইদুর রহমান মিলনের সাথে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলছিল। সাইদুর রহমান চাকুরীর সুবাদে চট্টগ্রামে বসবাস করায় তাঁর ভবনটির দেখভাল ও কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মেহেদী হাসান বাবু ও তাঁর ভাই আব্দুর রহিম।

বিরোধের জের ধরে গত সোমবার গভীর রাতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্ নিয়ে ওই ভবনে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভবনের নিচতলার থাই গ্লাসের ১০টি জানালা ভাঙচুর করে। পরে জানালার গ্রিল ও দরজার চৌকাঠে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বাবু জানান, অভিযুক্তরা বাড়িঘর ভাংচুর করতে এলে আমরা বাঁধা দেই। এতে হামলাকারীরা আমাদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় ।

ভুক্তভোগী আরও জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ভবনের আসবাবপত্র, জানালা ও দরজার চৌকাঠ পুড়ে আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।উপায়ন্তর নাদেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের পর চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এদিকে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে একাধিক বার মুঠোফোনে কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

চন্দ্রগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুর রব বলেন,একটি বাড়িতে হামলার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কেয়ারটেকার মেহেদী হাসান বাবু বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ