আজঃ মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

এক সাথে ৫ হাজার মানুষ ইফতার করেন সাতক্ষীরার নলতায়

ইব্রাহীম হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাতক্ষীরা জেলার নলতায় দেশের অন্যতম ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাসব্যাপী এ ইফতার অনুষ্ঠান চলে আসছে কয়েক যুগ ধরে। এতে এক সাথে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ ইফতারে অংশ নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতাস্থ হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) এঁর মাজার প্রাঙ্গণে। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের ব্যবস্থাপনায় এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন এখানে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার রোজাদার একত্রে বসে ইফতার করছেন। সওয়াব হাসিলের জন্য ও বড় ইফতার মাহফিলে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইফতারের উদ্দেশ্যে নলতায় ছুটে আসেন রোজাদাররা। ধনী, গরিব নির্বিশিষে সকল মানুষ ভেদাভেদ ভুুলে এক কাতারে বসে সকলে ইফতার করেন।
মিশন কর্তৃপক্ষ জানান, আহ্ছানউল্লা (র.) ১৯৩৫ সালে নিজের হাতে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। মিশন প্রতিষ্ঠা করার পর তিনি নিজেই প্রতি বছর রমজান মাসব্যাপী এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন। পরবর্তী সময়ে এই ইফতার মাহফিলের পরিধি বেড়ে যায়। ১৯৫০ সাল থেকে শুরু করে প্রতিবছর বিশাল টিনের ছাউনি নির্মাণ করে রমজানে ইফতারের আয়োজন করে আসছে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন। ইফতার মাহফিলে সকলে একত্রে বসার জন্য আহছানউল্লা (রহ.) এঁর মাজার প্রাঙ্গনে বিশাল টিনের ছাউনি নির্মান করা হয়। ইফতার সামগ্রী বিতরণের জন্য রয়েছে আড়াই শত স্বেচ্ছাসেবক। ইফতারের তালিকায় রয়েছে ফিরনি, ডিম, চিড়া, ছোলা ভ‚না, খেজুর, সিঙ্গাড়া ও কলা। প্রতিদিন ১৫ মন দুধের ফিরনি তৈরি করা হয় এখানে। রোজাদারদের জন্য প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার প্লেটে ইফতার প্রস্তুত করা হয়। এছাড়াও নলতা শরীফের আশপাশের এলাকার মসজিদ ও বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয় এক থেকে দেড় হাজার রোজাদারের ইফতার। রয়েছে পানি পানের বিশেষ ব্যবস্থা। দেশ বিদেশের ভক্তগণ যৌথভাবে এই ইফতারের অর্থ যোগান দিয়ে যাচ্ছে। ইফতার প‚র্বে প্রতিদিন ধর্মপ্রান মুসল্লিরা দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। ইফতার শেষে এই প্রাঙ্গনেই মাগরিবের নামাজ আদায় করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা ব্যাটালিয়ান ৫৯ বিজিবি’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মহানন্দা ব্যাটালিয়ান (৫৯ বিজিবি)’র ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। বুধবার(৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার গোবরাতলায় ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এই আয়োজন করা হয়।প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা, ব্যাটালিয়ন সমাবেশ, ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল কামাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মাসুদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ মহানন্দা ব্যাটালিয়ান (৫৯ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল গোলাম কিবরিয়া, উপ-অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল আসিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন সহ জেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাঠে মাষ্টার প্যারেডে সালাম গ্রহণ শেষে মাসিক কল্যান সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।


জেলা পুলিশ লাইন্সে ড্রিল শেডে মাসিক  কল্যান সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার
গৌতম কুমার বিশ্বাস উপস্থিত অফিসার ও ফোর্সদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং অফিসার ও ফোর্সদের সার্বিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট ইনচার্জবৃন্দকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। 

উক্ত কল্যাণ আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ একরামুল হক, পিপিএম, অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার (সদর সা‌র্কেল) মোঃ ইয়াসির আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মোঃ হাসান তারেক, এএসপি (প্রবিঃ) সহ জেলার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ, ইন্সপেক্টরবৃন্দ এবং জেলার অন্যান্য পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ