আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা:

ফটিকছড়িতে সেফটিট্যাংকে পরে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু।

মাসুদুল ইসলাম মাসুদ ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে সেফটিট্যাংকে পরে ৫ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে গতকাল বুধবার বিকাল ৩ ঘটিকার সময় দক্ষিণ ফটিকছড়ি ধর্মপুর গ্রামে অলি মোহাম্মদ বাড়ির নাজিমের নতুন ঘরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিকাল তিন টার সময় ৫ বছরের শিশু মোহাম্মদ রোহান, শাহাজান রোকসানা দম্পতির এই ছেলে সন্তান টি এই দূর্ঘটনার স্বীকার হয়। বিকাল তিনটার সময় রোহান প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রতিদিনের মত তার মা রোকসানা রোহানকে খুঁজ করে কিন্তু এই দিক ওদিক খোঁজতে খোঁজতে না পেলে চারদিকে শোরগোল হয়ে যায়।  রোকসানার ভাড়া বাসা হতে ৪০০/৫০০ ফুট দূরে রাস্তার পশ্চিম দিকে নাজিমের নতুন ঘর। সেই প্রায় সময়ে নাজিমদের ঘরে থাকত সেখানেই খেলাধুলা খাওয়া ধাওয়া করত। তাই তার সেখানে ছুটে যান। নাজিম তখন বাসায় ছিলনা, সেই তার আরেক ভাইয়ের রাস্তার পূর্ব দিকে কাজ চলমান ভবনে ছিল। চিৎকার শুনে সেই ও আবদুল্লাহ নামক আরেক ব্যাক্তি সহ ছুটে আসেন। চারদিকে খোঁজে যখন পাচ্ছে না তখন তারা বাথরুমের সেফটিট্যাংকে দেখেন। আবদুল্লাহ লম্বা বাঁশ দিয়ে যখন চেক করতে থাকে হঠাৎ তার বাঁশে শক্ত কিছু লাগে এমন আঁজ করে। সাথে সাথে বাঁকা জাতীয় গাছ এনে যখন ওপরের দিকে তুলতে থাকে তখন রোহানের নিথর দেহের চুল ও মাথা দেখে আবদুল্লাহ চিৎকার দিয়ে সরে যায়। পরে নাইম নামের এক যুবক ট্যাংকে নেমে রোহানকে ওপরে তুলে দ্রুত নাজিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। এর আগে আজাদী বাজার নামক স্থানে থাকে প্রাথমিক ডাক্তার দেখান। ডাক্তার তাকে দ্রুত মেডিকেল নিয়ে যেতে বলে। উল্লেখ্য, বাথরুমের সেফটিট্যাংকের ঢাকনা তুলে ছিলেন ময়লা পানি পরিস্কার করার জন্য। সন্ধ্যায় এটি পরিষ্কার করার কথা ছিল কিন্তু তার আগে রোহান এই ট্যাংকে পরে পরপারে চলে যান। তার মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পরলে শত শত মানুষ তাকে দেখতে ছুটে আসেন। তাকে দেখে অনেকে চোখের পানি পেলেন। তার মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত তার নিজ বাড়ি একই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডস্থ আমতলী গোলপুকুর পাড় সংলগ্ন জহর আলী মুন্সির বাড়িতে পৌঁছে যায়। পৌঁছে যায় তার প্রবাসী পিতা শাহাজানের কাছে। তার বাবা শাহাজান তার ছেলের মৃত্যু সংবাদ শুনার সাথে সাথে টিকিট করে বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় দেশে চলে আসেন। প্রবাসী শাহাজান গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছলে এক করুণ হৃদয় বিদারক দৃশ্য সৃষ্টি হয়। তার কান্না দেখে গাছের পাতা পাখ পাকালি পর্যন্ত কাঁদতে থাকে। পরবর্তী সকাল ১০ টায় তাকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে সকাল ১১ টায় জানাজার নামাজ ও দাফন সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, রোহানের পরিবার এখানে (মৃত স্থানে) মৃত হানিফের ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে দীর্ঘ ৭/৮ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। রোহানের নানার বাড়ি নাজিরহাট সুয়াবিল। রোহান এখানে স্থানীয় রাওজাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসায় নার্সারিতে পড়তেন। তার বয়স ছিল ৫ বছর। ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, রোহানের মা রোহান কে নিয়ে বিলাপ করতে থাকে আর বুক চাপড়াতে থাকে। গত ২/৩ দিন আগে রোহানের মা রোহানের জন্য ঈদের নতুন পায়জামা পাঞ্জাবি কিনে আনেন। সেই কাপড় জোড়া তার মা মৃত দেহের ওপর রেখে কান্নায় গড়াগড়ি করতে থাকেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতেই নিচু এলাকা প্লাবিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে মাত্র ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতে অনেক নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর নিচু এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকাতে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এসব এলাকার রাস্তাগুলো নোংরা পানিতে ডুবে আছে। ফলে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠে। কোথাও হাঁটু, কোথাওবা কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। ছুটির দিনেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই বৃষ্টিতেই নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।

এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকালের মাত্র আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার সড়কগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনগুলো মাঝপথেই আটকে যাচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষের গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে, তেমনি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু সমান পানি মাড়িয়েই পথচারীদের কষ্ট করে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

তবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার জন্য চিরচেনা এলাকা প্রবর্তক মোড়ে অবশ্য এবার কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মেগা প্রকল্পের আওতায় সেখানকার হিজড়া খালের মুখে বাঁধ দিয়ে চলমান কাজের সুবাদে প্রবর্তক মোড়ে আগের মতো পানি জমেনি। তবে প্রবর্তক মোড় রক্ষা পেলেও এর আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো ঠিকই পানিতে ডুবে ছিল। ফলে সামগ্রিক ভোগান্তি খুব একটা কমেনি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের বিএফও মাহবুবুল আলম বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মেঘের ঘনত্বের কারণে অল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টি হওয়ায় নিচু এলাকায় পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক তদারকি ও খালগুলোর সংস্কার কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামকে এখনো ডুবতে হচ্ছে।

কাতালগঞ্জের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বহু বছর ধরে আমরা একটু বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছি। একের পর এক মেগা প্রকল্প আসে, কিন্তু আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে যদি এই অবস্থা হয়, সামনের দিনগুলোতে কী হবে?
ভোগান্তিতে পড়া রিকশাচালক মো. জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বহুদিন ধরে আমরা এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ছুটির দিন হলেও আমাদের তো আয়ের আশায় বের হতে হবে। কিন্তু রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ