আজঃ মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬

চলে গেলেন বিখ্যাত গীতিকার ও সুরকার মহি আল ভাণ্ডারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার ফটিকছড়ির কৃতী সন্তান সৈয়দ মহিউদ্দিন প্রকাশ মহি আল ভাণ্ডারী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি—– রাজিউন)। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাঁর নামাজে জানাজা বাদ জোহর কাতালগঞ্জ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ২টায় নেওয়া হয় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। সঙ্গীতশিল্পী ও তাঁর ছাত্র আলাউদ্দিন তাহের জানান, শিল্পকলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তাঁকে ফটিকছড়ির সুয়াবিল গ্রামে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, তাঁর লিখিত কালজয়ী অসংখ্যগান রয়েছে। যে গানগুলো মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। সৈয়দ মহিউদ্দিন (মহি আল ভাণ্ডারী) ১৯৪৪ সালে ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ আমির হোসেন এবং মাতা সৈয়দা আনোয়ারা বেগম। সহস্রাধিক মাইজভাণ্ডারী, আঞ্চলিক, আধুনিক ও রাগসংগীতের রচক তিনি। সেই সঙ্গে সুরকার ও সুধীমহলে নন্দিত পরিবেশনকারী। গানের মাধ্যমে সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। গ্রামে বসবাসকালীন অধ্যক্ষ হেম মজুমদারের কাছে সংগীত চর্চা শুরু করেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত কুমিল্লায় ওস্তাদ সুরেন দাশের কাছে তিনি শাস্ত্রীয় সংগীত তালিম নেন। দেশ হানাদারমুক্ত হলে গান রচনা ও সুর চর্চায় মনোনিবেশ করেন। ১৯৮০ এর দশকে বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রে গীতিকার হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। আধুনিক গান রচনার পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মাইজভাণ্ডারী গান রচনায় হাত দেন।
সৈয়দ মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ডিসি হিলে এক অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেদিন তিনি ক্রেস্ট ও সনদ নিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করার সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে বাম হাত ও বাম পা ভেঙে ফেলেন। কাতালগঞ্জে আনিকা কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন ভাড়া করা একটি সেমিপাকা গৃহে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করেছেন।
সৈয়দ মহিউদ্দিন ১৯৭৮ সালে দৈনিক আমার বাংলা পত্রিকায় কাজ করার জন্য ঢাকায় চলে যান। তিনি দৈনিক আমার বাংলায় ঢাকায় ১ বছর কাজ করেন। এরপর ঢাকায় দেশের প্রথম সংগীত পত্রিকা মাসিক সংগীত- এর সাথে জড়িত হন। পত্রিকাটির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন ৩ বছর।
তাঁর রচিত ও সুরারোপিত জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য চাটগাঁইয়া গান- ‘মেজ্যান দিয়ে মেজ্যান দিয়ে ঐতারত’, ‘সাম্পান মাঝি সাম্পান বায় আগর মতো পেসিঞ্জার ন পায়’, ‘অউডা কঅছে ভাইপুত ক্যেনে বলে ম্যাট্টিক পাশ গল্লি’, ‘আঁরা এই সংসারত মিলিমিশি আছি দুয়া জাল’, ‘গর্কি তুয়ান বন্যা খরা মহামারি ঘূর্ণিঝড়’, ‘তালাকনামা পাঠাই দিলাম চিঠির ভিতরে’, ‘আইচ কাইল ঢেঁইর ঘরত কম দেখা যায় ধান’, ‘আঁই কারে কইলাম কি তুঁই কি হুনিলা কি’, ‘আঁর বউয়রে আঁই হাসাইয়ম আঁই কাঁদাইয়ম’, ‘আঁর বাপর বাড়ি কধুরখীল হউরু বাড়ি গুজারা’, ‘আসকার ডিঁইর পুকপাড়ে আঁর ভাঙাচোরা ঘর’, ‘আহ্ হায় রে গরু টানের গরু গাড়ি’, ‘এই পোয়াছা আঁর বরই গাছত তোরা’, ‘কিল্লাই গেলি ঠিক ধুইজ্জ্যা ভাঙিবুল্যাই বোলার বাআ’, ‘তুঁই বন্ধু আঁর সুখ পিঞ্জরার ভাগ্যুর লটারি’, ‘থগ্যই থগ্যই রে তে আইস্যেল ভালা’, ‘পোয়ার মনত শান্তি নাই শান্তি নাই ভাত পানি ন খার’, ‘বউ আইনতু যার দুলা মিঞা গদুনাত চড়ি’, ‘বন্ধু ঘরর কামরা পুরাই দিলা চালানি পাঠাই’, ‘মন কাচারা মাঝি তোর সাম্পানত উইটতাম নঅ’ ও ‘অজেডা ফইরার বাপ’ প্রভৃতি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে চার জনকে কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে মদপান করে মাতলামির অভিযোগে ৪ জনকে জরিমানাসহ ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ফুলতল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা।

অভিযান চালিয়ে পূর্ব গোমদণ্ডী দাসপাড়ার মৃত সুবল বড়ুয়ার ছেলে মৃণাল বড়ুয়া (৪৭), মৃত আবুল কালামের ছেলে মো. ওসমাণ গণি (৪৭), কধুরখীল এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে ইনতাজুর রহমান (৩৫) এবং পূর্ব কালুরঘাট এলাকার মৃত আইয়ুব মিয়ার ছেলে মো. ইকবালকে (৩২) আটক করা হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘খ’ সার্কেলের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী চারটি পৃথক মামলায় প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে মোট ২০০ টাকা জরিমানা এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে নারীকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় পুশ-ইনে সহায়তার অভিযোগে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত এলাকায় এক নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২২৫/৩-আর-এর বিপরীতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা স্থানীয় এক মাঝির সহায়তায় নৌকাযোগে ওই নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং পুশ-ইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করে।

বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনাকালে ওই নারী সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন। ফলে তাঁকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি বলেছে, যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।

এদিকে পুশ-ইন প্রচেষ্টায় সহায়তার অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে গোমস্তাপুর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ