আজঃ শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

পটিয়ায় বিচার চলাকালীন চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1.  পটিয়া উপজেলার ১১নং কেলিশহর ইউনিয়ন পরিষদে বিচার চলাকালীন চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ফটো সাংবাদিক সুরঞ্জিত শীল নামের এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক সুরঞ্জিত শীল ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মৃত সুজন কৃষ্ণ শীলের ছেলে এবং তিনি দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকায় কর্মরত রয়েছে। হামলার ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে বলে জানা যায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফটো সাংবাদিক সুরঞ্জিত শীলের সাথে তার বড় ভাই বিশ্বজিৎ শীলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ চলছিলো। তারই প্রেক্ষিতে বিশ্বজিৎ পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্য ১১নং কেলিশহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ এপ্রিল পরিষদ কার্যালয়ে সালিসি বৈঠকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে উভয়কেই যথা সময়ে পরিষদ কার্যালয়ে হাজির থাকার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান। নির্দেশ অনুযায়ী উভয় পক্ষই হাজির হন। এসময় আবেদনকারীর পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নিখিল দে। পরবর্তীতে বিচারকার্য আরম্ভ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে বিশ্বজিৎ শীলের পক্ষের প্রতিনিধি মেম্বার নিখিল দে উত্তেজিত হয়ে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সুরঞ্জিত শীলের ওপর হামলা করে তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে নষ্ট করে ফেলে। এসময় পরিষদের ভিতর উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে সাংবাদিক সুরঞ্জিত শীল বাদী হয়ে মেম্বার নিখিল দে ও তার বড় ভাই বিশ্বজিৎ শীলের নাম উল্লেখ করে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন বলে জানা যায়, যাহার জিডি নং-২৫৯।

ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মেম্বার নিখিল দে’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সুরঞ্জিত আর আমি একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাদের সাথে আমার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের মধ্যে জমি জমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ চলছিলো। বিরোধের জের ধরে গত ৫ এপ্রিল চেয়ারম্যানের নির্দেশে পরিষদে সালিসি বৈঠকে দুই ভাইকে ডাকা হয়। তখন আমি ছিলাম ওই বৈঠকে বিশ্বজিৎ শীলের পক্ষের প্রতিনিধি। বৈঠক চলাকালীন সুরঞ্জিত তার বড় ভাই বিশ্বজিৎ শীল এবং আমার ওপর উত্তেজিত হয়ে অশালীন আচরণ করতে থাকলে অনেক চেষ্টা করে থামাতে না পেরে রাগের মাথায় তাকে আমি ধাক্কা দেই। এর সূত্র ধরে আমাদের উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি ঘটনা ঘটে।

পরিষদে বিচার চলাকালীন মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পরিষদের চেয়ারম্যান সরোজ কান্তি সেন নান্টু বলেন, বাদী বিশ্বজিৎ শীল আর বিবাদী সুরঞ্জিত শীল তারা আপন দুই ভাই। তাদের মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি ও আরও অন্যান্য বিষয় নিয়ে অনেক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিলো এবং অনেকবার সামাজিক ভাবে সালিসি বৈঠকও হয়েছে। তবুও তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশ্বজিৎ পরিষদে আবেদন করলে গত ৫ এপ্রিল বিকাল ৫টায় তাদের দুই ভাইকে পরিষদে ডেকে আনা হয়। এসময় বাদী বিশ্বজিৎ শীলের পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নিখিল দে। বিচারকার্য শুরু হলে এক পর্যায়ে সুরঞ্জিত ও বিশ্বজিৎ তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসময় প্রতিনিধি নিখিল মেম্বারের সাথে সুরঞ্জিতের কথা কাটাকাটির জের ধরে নিখিল সুরঞ্জিতের ওপর হামলা করলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি ঘটনা ঘটে। এসময় আমি তাদের আমি অনেক বাঁধা দিয়েছিলাম, তারা কেউ আমার কথা শুনেনি। পরবর্তীতে ওইদিন সালিসি বৈঠক স্থগিত করে আগামীতে আরেকটি সালিসি বৈঠকের দিন ধার্য্য করে বৈঠক স্থল সমাপ্তি করি। অন্যদিকে থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের বিষয়ে তদন্তে দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার উপপরিদর্শক মোঃ বিল্লল হোসেন বলেন, পরিষদে বিচার চলাকালীন মারামারির ঘটনায় সাংবাদিক সুরঞ্জিত শীল বাদী হয়ে লিখিল দে ও বিশ্বজিৎ শীল নামের দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনা বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছি। তদন্ত শেষে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তদন্ত অফিসার মোঃ বিল্লাল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে ডাকাতি কুপিয়ে বৃদ্ধকে আহত দুই জন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে ঘর ডাকাতি করতে গিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিরোধে ডাকাতরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। তবে ডাকাতি করতে না পেরে দুইজনকে কুপিয়ে আহত করেছে তারা।বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২:৪৭ মিনিটে দিকে উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মুছা মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পাশে নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আব্দুল হাশেম (৬০) ও সিরাজ খাতুন( ৫৪) তারা আহত করেন।

আব্দুল হাশেম বলেন, রাত ২:৪৭ মিনিটের দিকে রাম দা নিয়ে আমার ঘরে ৩/৪ জন ঢুকে আমাদেরকে প্রথমে মারধর করে আহত করেন। পরে আমার স্ত্রী চিৎকার শুনে তারা পালিয়ে যায়। তিনি আরো জানান মই ও পানির পাইপ দিয়ে ছাদ বেয়ে ডাকাত দল ঘরে ঢুকে। যাওয়া সময় ডাকাতরা মইটা ফেরে রেখে যায়। আমার ছেলের বউ আমাদের পুরাতন বাড়িতে সবাইকে ফোন করে বললে তারা তাৎক্ষণিক বাড়িতে আসলে ডাকাতের দল পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসি ফুটেজ দেখে ডাকাতদের শনাক্ত করা হবে।

চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লা প্রকাশ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৫৩) ও সন্দ্বীপ থানার কালাভানিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (৩৮)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারি নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৬ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি ভোরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব-৭ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন র‌্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ