চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার রায়ে ২ জনের ফাঁসির আদেশ

ভাই-বোনসহ ‘শিবির ক্যাডার’ সাইফুলকে খুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে তিন জনকে খুনের মামলায় দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে ‘শিবির ক্যাডার’ সাইফুল ও তার ভাই-বোনসহ তিনজনকে খুনের এই মামলার একই রায়ে আদালত আসামিদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। তবে মামলার আসামি দুই শিবির ক্যাডার র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ায় তাদের আগেই বিচার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার এ রায় দিয়েছেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. আল আমিন জানিয়েছেন।
দণ্ডিতরা হলেন আবুল কাশেম (৭০) ও মো. ইউসুফ প্রকাশ খাইট্ট্যা ইউসুফ (৭০)। তাদের বাড়ি নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার বালুচরা এলাকায়। রায় ঘোষণার সময় উভয়ে আদালতে হাজির ছিলেন। খুনের শিকার তিনজন হলেন— সাইফুল ইসলাম, তার ভাই মো. আলমগীর ও বোন মনোয়ারা বেগম। তাদের বাড়িও বালুচরা এলাকায়।
জানা গেছে, দণ্ডিত আসামদের সঙ্গে সাইফুলের জায়গা-সম্পত্তির বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষ শিবির ক্যাডাররা সাইফুল এবং তার ভাই ও বোনকে খুন করেছিল। দুই দশক আগে ট্রিপল মার্ডারের এ ঘটনা চট্টগ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এর মধ্য দিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডে শিবির ক্যাডারদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফয়েজ বলেন, আসামি কাশেম ও ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের দণ্ডবিধির ৩০২, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ের সময় আসামি কাশেম ও ইউসুফ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামি থানার দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকায় ৩৬ শতক জমি নিয়ে আসামি ইউসুফ ও কাশেমের সঙ্গে সাইফুলের বিরোধ চলছিল। একইসঙ্গে সাইফুলের সঙ্গে বিরোধ চলছিল ওই এলাকার তৎকালীন দুর্র্ধষ শিবির ক্যাডার মো. নছির ওরফে গিট্টু নাছিরের সঙ্গেও। গিট্টু নাছির ও সাইফুল শিবির ক্যাডার হিসেবে সেসময় চট্টগ্রাম শহরের ত্রাস ছিল। দেশজুড়ে তোলপাড় তৈরি করা অধ্যক্ষ গোপালকৃষ্ণ মুহুরী খুনের মামলায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছিল। উভয়ে আরেক দুর্র্ধষ সন্ত্রাসী শিবির নাছির ওরফে বড় নাছিরের অনুসারী ছিল। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রাবাস থেকে বড় নাছির গ্রেফতার হওয়ার কয়েকবছর পর গিট্টু নাছির ও সাইফুলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এসময় দু’জন আলাদাভাবে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তোলে এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ে।এ অবস্থায় গিট্টু নাছির ও তার অনুসারীরা সাইফুলকে খুনের পরিকল্পনা করে। বালুচরার বাসিন্দা ইউসুফ ও কাশেমও সাইফুলকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ইউসুফ-কাশেমের সঙ্গে গিট্টু নাছিরের দল এক হয়ে সাইফুলকে খুনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। ২০০৪ সালের ২৯ জুন বালুচরা এলাকায় সাইফুলের বাড়িতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে গিট্টু নাছির, তার সহযোগী ফয়েজ মুন্না ও আজরাইল দেলোয়ার। সঙ্গে ছিল কাশেম ও ইউসুফ।
গিট্টু নাছিরদের দেখে সাইফুল ও তার ভাই আলমগীর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। হামলাকারীদের ঠেকাতে মনোয়ারা তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে ফয়েজ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পালানোর সময় পেছন থেকে আলমগীরকে ফয়েজ মুন্না গুলি করে। আলমগীর পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর কাশেম সাইফুলকে দেখিয়ে নাছিরকে নির্দেশ দিয়ে বলে, ‘এ শালাকে জীবনে শেষ করে দে।’ সঙ্গে সঙ্গে গিট্টু নাছির গুলি ছুড়লে সাইফুল কপালে, বুকে, পেটে, পিঠে ও হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীরও মারা যায়।
এ ঘটনায় সাইফুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার শিল্পী বায়েজিদ বোস্তামি থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ইউসুফ, কাশেম, গিট্টু নাছির ও ফয়েজ মুন্নাকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে আজরাইল দেলোয়ারের নাম এজাহার ও অভিযোগপত্রে আসেনি, যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে তার নাম ছিল। কিন্তু র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে মারা যাওয়ায় তার নাম বাদ পড়ে।২০১৭ সালের ৫ জুলাই ইউসুফ ও কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ায় গিট্টু নাছির ও ফয়েজ মুন্নাকে বিচার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত রায় দেন।

এদিকে বাবাকে নির্দোষ দাবি করে আসামি ইউসুফের ছেলে মো. পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমার বাবাকে এখানে ফাঁসানো হয়েছে। এ মামলা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে করা হয়েছিল। জামায়াত-শিবিরের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে ওই খুনগুলো হয়েছিল। আমার বাবা আওয়ামী লীগের অনুসারী। ২০১০ সালে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল মামলা বাতিল করার জন্য। ২০১৩ সালে মামলা বাতিলের জন্য এ আদালতে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছিল। এটা কার্যকর না করে একতরফাভাবে ওনাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা হাইকোর্টে যাব বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

হারিয়ে যাওয়া ১০৭ মুঠোফোন ফিরে পেল মালিকরা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় হারানো মোবাইল ফোনের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে ১০৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।দীর্ঘদিন পর হারানো ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে জেলার ১৭টি থানায় করা মোবাইল হারানোর জিডিগুলো পর্যালোচনা করে ডিবি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে ১০৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এ সময় ফোন ফিরে পেয়ে মালিকেরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, পুলিশের এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও বাড়াবে।

জেলা পুলিশ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হারানো সম্পদ উদ্ধার এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী নয় : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য কোনো উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ ঈদগাহ প্রাঙ্গণে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১ দিনে ১ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এটি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো কর্মসূচি নয়, দেশে ইতোমধ্যে সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ ও কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে।সেই বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণকে একটি ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যা অঙ্গীকার করে, তা বাস্তবায়নে বিশ্বাসী, এটি শুধু কাগজে-কলমে কোনো পরিকল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় থেকেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে কী করণীয়, কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন এসব বিষয়ে পরিকল্পনা, গবেষণা ও কাজ চলেছে এবং তারই একটি অংশ নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে জনগণের জন্য কী কী করা হবে, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করেই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন।

প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড, পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদেশে কর্মসংস্থান, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব ও ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উপদেষ্টা আরো বলেন পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। গত জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪২৬টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে হিসাবের আওতায় আনা গেলে অর্জনের পরিমাণ আরও বেশি হবে।

চট্টগ্রামের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, পাহাড়, সমতল ও সমুদ্রবেষ্টিত চট্টগ্রাম একটি অনন্য ভূপ্রকৃতির অঞ্চল। তবে পাহাড় ধসসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ঝুঁকি এখানে রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী একটি সংকট। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত মাত্রায় উপকৃত হয়নি। এই অবস্থায় বিশ্বনেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এর সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ,১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান,সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া সদর দপ্তরের এসপিপি কর্নেল খলিল উল্লাহ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম,সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, সিডিএ এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম, এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ