চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার রায়ে ২ জনের ফাঁসির আদেশ

ভাই-বোনসহ ‘শিবির ক্যাডার’ সাইফুলকে খুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে তিন জনকে খুনের মামলায় দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে ‘শিবির ক্যাডার’ সাইফুল ও তার ভাই-বোনসহ তিনজনকে খুনের এই মামলার একই রায়ে আদালত আসামিদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। তবে মামলার আসামি দুই শিবির ক্যাডার র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ায় তাদের আগেই বিচার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার এ রায় দিয়েছেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. আল আমিন জানিয়েছেন।
দণ্ডিতরা হলেন আবুল কাশেম (৭০) ও মো. ইউসুফ প্রকাশ খাইট্ট্যা ইউসুফ (৭০)। তাদের বাড়ি নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার বালুচরা এলাকায়। রায় ঘোষণার সময় উভয়ে আদালতে হাজির ছিলেন। খুনের শিকার তিনজন হলেন— সাইফুল ইসলাম, তার ভাই মো. আলমগীর ও বোন মনোয়ারা বেগম। তাদের বাড়িও বালুচরা এলাকায়।
জানা গেছে, দণ্ডিত আসামদের সঙ্গে সাইফুলের জায়গা-সম্পত্তির বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষ শিবির ক্যাডাররা সাইফুল এবং তার ভাই ও বোনকে খুন করেছিল। দুই দশক আগে ট্রিপল মার্ডারের এ ঘটনা চট্টগ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এর মধ্য দিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডে শিবির ক্যাডারদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফয়েজ বলেন, আসামি কাশেম ও ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের দণ্ডবিধির ৩০২, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ের সময় আসামি কাশেম ও ইউসুফ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামি থানার দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকায় ৩৬ শতক জমি নিয়ে আসামি ইউসুফ ও কাশেমের সঙ্গে সাইফুলের বিরোধ চলছিল। একইসঙ্গে সাইফুলের সঙ্গে বিরোধ চলছিল ওই এলাকার তৎকালীন দুর্র্ধষ শিবির ক্যাডার মো. নছির ওরফে গিট্টু নাছিরের সঙ্গেও। গিট্টু নাছির ও সাইফুল শিবির ক্যাডার হিসেবে সেসময় চট্টগ্রাম শহরের ত্রাস ছিল। দেশজুড়ে তোলপাড় তৈরি করা অধ্যক্ষ গোপালকৃষ্ণ মুহুরী খুনের মামলায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছিল। উভয়ে আরেক দুর্র্ধষ সন্ত্রাসী শিবির নাছির ওরফে বড় নাছিরের অনুসারী ছিল। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রাবাস থেকে বড় নাছির গ্রেফতার হওয়ার কয়েকবছর পর গিট্টু নাছির ও সাইফুলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এসময় দু’জন আলাদাভাবে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তোলে এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ে।এ অবস্থায় গিট্টু নাছির ও তার অনুসারীরা সাইফুলকে খুনের পরিকল্পনা করে। বালুচরার বাসিন্দা ইউসুফ ও কাশেমও সাইফুলকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ইউসুফ-কাশেমের সঙ্গে গিট্টু নাছিরের দল এক হয়ে সাইফুলকে খুনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। ২০০৪ সালের ২৯ জুন বালুচরা এলাকায় সাইফুলের বাড়িতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে গিট্টু নাছির, তার সহযোগী ফয়েজ মুন্না ও আজরাইল দেলোয়ার। সঙ্গে ছিল কাশেম ও ইউসুফ।
গিট্টু নাছিরদের দেখে সাইফুল ও তার ভাই আলমগীর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। হামলাকারীদের ঠেকাতে মনোয়ারা তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে ফয়েজ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পালানোর সময় পেছন থেকে আলমগীরকে ফয়েজ মুন্না গুলি করে। আলমগীর পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর কাশেম সাইফুলকে দেখিয়ে নাছিরকে নির্দেশ দিয়ে বলে, ‘এ শালাকে জীবনে শেষ করে দে।’ সঙ্গে সঙ্গে গিট্টু নাছির গুলি ছুড়লে সাইফুল কপালে, বুকে, পেটে, পিঠে ও হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীরও মারা যায়।
এ ঘটনায় সাইফুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার শিল্পী বায়েজিদ বোস্তামি থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ইউসুফ, কাশেম, গিট্টু নাছির ও ফয়েজ মুন্নাকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে আজরাইল দেলোয়ারের নাম এজাহার ও অভিযোগপত্রে আসেনি, যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে তার নাম ছিল। কিন্তু র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে মারা যাওয়ায় তার নাম বাদ পড়ে।২০১৭ সালের ৫ জুলাই ইউসুফ ও কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ায় গিট্টু নাছির ও ফয়েজ মুন্নাকে বিচার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত রায় দেন।

এদিকে বাবাকে নির্দোষ দাবি করে আসামি ইউসুফের ছেলে মো. পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমার বাবাকে এখানে ফাঁসানো হয়েছে। এ মামলা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে করা হয়েছিল। জামায়াত-শিবিরের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে ওই খুনগুলো হয়েছিল। আমার বাবা আওয়ামী লীগের অনুসারী। ২০১০ সালে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল মামলা বাতিল করার জন্য। ২০১৩ সালে মামলা বাতিলের জন্য এ আদালতে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছিল। এটা কার্যকর না করে একতরফাভাবে ওনাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা হাইকোর্টে যাব বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চসিকের ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার নতুন বাজেট বড় আয়ের উৎস ধরা হয়েছে ‘হাল কর ও অভিকর’, যার পরিমাণ ৪২৬ কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বাজেটের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২২ কোটি এবং মশকনিধনে রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে কাঙ্খিত উন্নয়ন অনুদান ও নিজস্ব কর আদায় না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটের আকার প্রায় ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ সংকুচিত করতে হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে প্রায় ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বাজেট বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,’নগরবাসীর আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশায় ও চট্টগ্রাম মহানগরকে ক্লিন-গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাসযোগ্য নান্দনিক পর্যটন নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করছি।

সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান অনুমোদিত মোট জনবলের সংখ্যা মাত্র ৪ হাজার ২২৬ জন। মেয়র জানান, এই সামান্য জনবল দ্বারা নগরের প্রায় সত্তর লাখ নগরবাসীকে পূর্ণাঙ্গ ও বিভিন্ন সেবা প্রদান করা কোনোভাবেই সম্ভবপর নয়। যার কারণে যথাযথ নাগরিক-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনকে বিভিন্ন সময়ে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়।

নতুন বাজেটে সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ধরা হয়েছে চলতি অর্থবছরের ‘হাল কর ও অভিকর’, যার পরিমাণ ৪২৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে আদায় হয়েছিল মাত্র ৩১৫ কোটি টাকা।বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খাতের পুঞ্জীভূত বকেয়া থেকে এবার ১৯৭ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল মাত্র ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।অন্যান্য কর থেকে ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক ফিস থেকে ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

নিজস্ব আয়ের বাইরে সরকারের উন্নয়ন অনুদান খাত থেকে এবার বড় অংকের প্রাপ্তি আশা করছে চসিক। এই খাতে ৯৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা আশা করা হলেও বরাদ্দ মিলেছিল ৮৮৭ কোটি ৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

চসিকের ব্যয় খাতের বিবরণী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি টাকা সরাসরি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন বাজেটে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নগরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে চসিকের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে ২১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ, নগরের রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও অবকাঠামো উন্নয়নে মোট ১ হাজার ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের বিশাল কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনীর বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া নগরের সড়ক বাতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি খাতে এবার ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত সংশোধিত বাজেটে ছিল ৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চসিকের বিভিন্ন ঠিকাদার ও খাতের পুরনো বকেয়া দেনা মেটাতে এবার ১৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেটের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চসিকের নিজস্ব আয় বাড়ার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন অনুদানের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রাখা হয়েছে।চসিকের আয় খাতের বিবরণী অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে প্রারম্ভিক স্থিতি ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এবার নিজস্ব উৎস থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্ষায় নগরের প্রধান দুর্ভোগ জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সর্বশেষ (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এই খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ৭৫ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে প্রকৃত খরচ করা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিগত বছরের খরচের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ প্রায় ৪৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আগামী অর্থবছরের জন্য মশকনিধন খাতে রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর আগের (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এই খাতে মূল বরাদ্দ রাখা হয়েছিল মাত্র ৯ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে চসিক খরচ করতে পেরেছিল মাত্র ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবার মশা মারার বাজেটে প্রায় পাঁচগুণ বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয় ও ব্যয়ের যাবতীয় হিসাব শেষে চসিকের তহবিলে ৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাজেটে উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

চট্টগ্রামে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার-২, উদ্ধার ১০ ভরি স্বর্ণালংকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি বাসা থেকে ১২ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মাহে আলম ওরফে শাহ আলম (৩০) এবং মো. মনির হোসেন (২৮)। পুলিশ বলছে, প্রধান অভিযুক্ত মাহে আলমের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি ও মাদক আইনে ১২টি মামলা রয়েছে। আকবরশাহ এলাকায় এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে এ সময় চুরি হওয়া প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আকবরশাহ থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গত ২০ জুলাই বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে আকবরশাহ এলাকার বিশ্ব কলোনির কে-ব্লকে উর্মিলা আক্তার নামের এক নারীর বাসায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা ওই বাসা থেকে ৩টি নেকলেস, ৩টি চেইন, ১টি ব্রেসলেট, ২টি চুড়ি, ৬ জোড়া কানের দুল ও ৮টি আংটিসহ মোট প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৪ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গত ২৪ জুলাই আকবরশাহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর সিএমপির পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় আকবরশাহ থানার একটি চৌকস দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গত সোমবার (২৭ জুলাই) পাহাড়তলী থানাধীন নেছারিয়া মাদ্রাসা গলি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মাহে আলম ও মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য ও শনাক্ত মতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ৩টি নেকলেস, ৩টি চেইন, ২টি চুড়ি, ৩ জোড়া কানের দুল এবং ২টি আংটিসহ মোট প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। এছাড়া চুরি হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ