আজঃ বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে কালুরঘাট সেতুতে জাহাজের ধাক্কার ঘটনায় গ্রেফতার ৩ নাবিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  •  চট্টগ্রামে তিন নাবিককে গ্রেফতার করেছে নৌ পুলিশ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলরুটে কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট সেতুতে ধাক্কার ঘটনায় লাইটারেজ জাহাজের এই তিন নাবিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার তিনজন হলেন-জাহাজে কর্মরত কোয়ার্টার মাস্টার ফেরদৌস রহমান (২৪), সুকানি ইয়ামিন মোল্লা (২১) ও গীজার শাহাদাত হোসেন (২১)। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর কালুরঘাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নৌ পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম উল্লাহ জানিয়েছেন।
    এর আগে গত মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে এমভি সমুদা-১ নামে লাইটারেজ জাহাজটি কালুরঘাট সেতুর মাঝ বরাবর ধাক্কা দিয়ে সেখানে আটকে যায়। জাহাজটি মেসার্স রোকনুর মেরিটাইম লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন।
    ওসি একরাম উল্লাহ বলেন, কালুরঘাট সেতু একটি রেলসেতু। সেজন্য মামলাটি রেলওয়ে থানায় হয়েছে। তবে সেতুর পাটাতনের নিচের অংশ যেহেতু নদীতে এবং ক্ষয়ক্ষতি সেখানে হয়েছে, তদন্ত নৌ পুলিশ করবে। আমরা জাহাজটি জব্দ করেছি। এরপর ওই মামলায় জাহাজের তিন নাবিককে গ্রেফতার করেছি। এদের মধ্যে দুজন কোয়ার্টার মাস্টার ও একজন সুকানি।
    জানা গেছে, ট্রেনরুটের পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার একাংশের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম শতবর্ষী কালুরঘাট সেতু। জরাজীর্ণ সেতুটিতে এখন সংস্কার কাজ চলছে। এজন্য গত বছরের ১ আগস্ট থেকে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। জুনে মেরামত কাজ শেষে সেতু খুলে দেয়ার কথা রয়েছে।
    নৌ পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কালুরঘাট সেতুর পশ্চিমে হামিদচর এলাকায় একে খান ডকইয়ার্ডে জাহাজটি নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু জোয়ার এবং প্রবল বাতাসের মধ্যে জাহাজটি ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে কালুরঘাট সেতুতে আঘাত করে আটকে যায়। জাহাজের মাস্টারের অনুপস্থিতিতে কোয়ার্টার মাস্টার সেটি ডকইয়ার্ডে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে তথ্য পায় পুলিশ।
    এ ঘটনায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সেতু বিভাগের উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিমন মজুমদার বাদি হয়ে চট্টগ্রামের জিআরপি থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে সেতুর ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলায় জাহাজের মাস্টার, সুকানি, গীজারম্যানসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।
    মামলা উল্লেখ করা হয়েছে, খালি জাহাজটি বেপোরোয়া গাতিতে এসে সংস্কারাধীন কালুরঘাট সেতুর ৯ ও ১০ নম্বর স্প্যানে ধাক্কা দেয়। এতে ব্রিজের ৯ ও ১০ নম্বর স্প্যানের আন্ডার স্ল্যাং গার্ডার, ওয়াকওয়ে, রেলিং ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে। মামলা দায়েরের আগেই জাহাজটি জব্দ করে নৌ পুলিশ। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৬৬ দশমিক ৬৫ মিটার এবং ১১ মিটার প্রস্থ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে ফুসকা তৈরি, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ফুসকা তৈরির দায়ে নগরের তিন ফুসকা কারখানাকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার নগরের এনায়েত বাজারের গোয়ালপাড়া এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।

অভিযানে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ভাঙ্গা ফ্লোরে নিম্নমানের আটা ময়দার সাথে কুড়া ভুষি মিশিয়ে ফুসকা তৈরির অপরাধে সাহেদ ফুসকা কারখানাকে ২০ হাজার টাকা, নুর নবী ফুসকা কারখানাকে ১৫ হাজার টাকা ও ভাই ভাই ফুসকা কারখানাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ ভাবে মাটি উত্তোলন: ট্রাক্টর জব্দ, একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ঘটনায় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে দুইটি মাটি ভর্তি ট্রাক্টর-টলি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাত ১টা ৩০ মিনিটে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সদর মডেল থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ঝিলিম ইউনিয়নের দক্ষিণ শহর এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে মো. আশরাফুল ইসলাম (৩৭) নামে একজনকে আটক করা হয়। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহির এলাকার বাসিন্দা ও মো. রুবু মন্ডলের ছেলে।

আটক ব্যক্তিকে সদর মডেল থানায় নিয়ে গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একরামুল হক নাহিদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটার দায়ে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, আবাদি জমির সুরক্ষা এবং অবৈধ মাটি উত্তোলন রোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ