কিংবদন্তী কন্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীর প্রয়াণ

উজ্জ্বল কুমার সরকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কিংবদন্তী শিল্পী সুবীর নন্দীর প্রয়াণ দিবসে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মুগ্ধ করে রেখেছিলেন বাংলা গানের শ্রোতাদের। তার কণ্ঠ ছুঁয়ে নেমেছে অসংখ্য কালজয়ী শ্রোতাপ্রিয় গান। তিনি দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। বাংলা গানের কিংবদন্তি সুবীর নন্দী ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় নন্দীপাড়া নামক গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মেই দেখেছেন পরিবারে নিয়মিতই সংগীত চর্চা চলে। তার পিতা সুধাংশু নন্দী ছিলেন তেলিয়াপাড়া চা এস্টেটের চিকিৎসক ও সংগীতপ্রেমী মানুষ। তার মা পুতুল রানী চমৎকার গান করতেন। তিনিই তার সন্তানদের গানে হাতেখড়ি দিয়েছেন। আর সব ভাইবোনের মতো সুবীর নন্দীও মায়ের কাছে প্রথম সংগীতে শিক্ষা নেন।আর একাডেমিক শিক্ষাতেও বেশ মেধাবী ছিলেন তিনি। পড়াশোনার অধিকাংশ সময়ই সুবীর নন্দীর কেটেছে হবিগঞ্জ শহরে। হবিগঞ্জ শহরে তাদের একটি বাড়ি ছিল, সেখানেই ছিলেন তিনি। পড়েছেন হবিগঞ্জ সরকারী হাইস্কুলে। তারপর হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সুবীর নন্দী সেকেন্ড ইয়ারে পড়তেন।১৯৬৩ সালে অন্য নয় ভাইবোনের সঙ্গে ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নিতেন। বাবার আগ্রহ, মা ও গুরুর কাছ থেকে পাওয়া দীক্ষা ও নিজের অজান্তে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী পঙ্কজ মল্লিক, সায়গল, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, জাগজিৎ সিং প্রমুখের ভক্তে পরিণত হয়ে সুবীর নন্দী কৈশোরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শিল্পী হবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো ১৯৭০ সালে। ওই বছর সুবীর নন্দীর রেকর্ডকৃত প্রথম গান মোহাম্মদ মুজাক্কেরের কথায় এবং ওস্তাদ মীর কাসেম সুরারোপিত ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়’ প্রকাশ পায়। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি গান করেছেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। গেয়েছেন বেতারেও অসংখ্য জনপ্রিয় গান। আর ২৪টির মতো একক অ্যালবামও প্রকাশ পেয়েছে তার। গান গাওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু গানের সুরও করেছেন। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি,’ ‘কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘পাখিরে তুই দূরে থাকলে’, ‘আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘নেশার লাটিম ঝিম ধরেছে’, ‘এক যে ছিল সোনার কন্যা’, ‘আশা ছিলো মনে মনে’, ‘তুমি সুতোয় বেঁধেছ শাপলার ফুল’ অন্যতম।সুবীর নন্দী ১৯৮৪ সালে ‘মহানায়ক’ ছবিতে, ১৯৮৬ সালে ‘শুভদা’ ছবিতে, ১৯৯৯ সালে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে এবং সর্বশেষ ‘মেঘের পরে মেঘ’ ছবিতে গান করে ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এছাড়াও দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকসহ দেশে-বিদেশে নানা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন সুবীর নন্দী। ব্যক্তি জীবনে নন্দিত এই শিল্পী দুই সন্তানের জনক। বড় মেয়ের নাম ফাল্গুনী নন্দী এবং ছোট ছেলের নাম হৃদ্যিমান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শারদীয় দুর্গোৎসবে আসছে সৌরভ ও পিংকি’র গান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: শরতের শুভ্র কাশফুল আর শিউলির সুবাসে প্রকৃতিতে এসেছে উৎসবের আমেজ। এরই সঙ্গে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন। শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দকে আরও রাঙিয়ে তুলতে আসছে সৌরভ রায় ও নবাগতা কন্ঠশিল্পী পিংকি দাশ-এর কণ্ঠে “তুমি আমি দুজন মিলে একটা গল্প হয়ে” শিরোনামে একটি মিষ্টি প্রেমের গান।

গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন জনপ্রিয় সংগীতপরিচালক তাপস চৌধুরী, গানটি ই.এল মিডিয়ার কর্ণধার অনুজিৎ বড়ুয়া লিমন এবং ভিডিওগ্রাফার হিমেল বড়ুয়া স্বপনীলের তত্বাবধানে অডিও এবং ভিডিও কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। গানটি ১৫ অক্টোবর সংগীত পরিচালক তাপস চৌধুরী ও শিল্পীদ্বয়ের নিজস্ব ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল হতে প্রকাশিত হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন প্রমিতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এক দশক আগেও যে বিষয়টিকে নেহাত শখ বা সময় অপচয় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করত সমাজ প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় তা-ই আজ দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও স্বাধীন পেশার নতুন দিগন্তে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হাত ধরে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে এক নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং। বিশেষ করে তরুণদের ভাবনা, পোশাকের রুচি ও জীবনযাত্রার নানা অনুষঙ্গ উপস্থাপনের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড। ডিজিটাল বাস্তবতার এই নতুন ধারায় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল কেন্দ্রিক কনটেন্ট তৈরি করে তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছেন তাসনিম হোসাইন প্রমিতি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যাদের উপস্থিতি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও পোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যারা এগোচ্ছেন, প্রমিতি তাদের মধ্য অন্যতম। সম্প্রতি তার এই দীর্ঘ যাত্রার চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য নিয়ে কথা হয়। দীর্ঘ আলাপে উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর নেপথ্যের গল্প।

তাসনিম হোসাইন প্রমিতির সাফল্যের গল্প

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চারটি প্রধান প্ল্যাটফর্মেই তার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, তার কন্টেন্টের মূল কেন্দ্রবিন্দু ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক, যেখানে বর্তমানে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের কাছাকাছি। এ ছাড়া ফেসবুকে আড়াই লাখের বেশি (২ লাখ ৫৪ হাজার), ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার এবং তরুণদের দীর্ঘ ভিডিওর জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবেও ৩৬ হাজারের বেশি গ্রাহক বা সাবস্ক্রাইবার রয়েছে তার।

তবে ১০ লাখেরও বেশি দর্শকের হৃদয়ে এই যে স্থান তৈরি তার পেছনের গল্পটি রাতারাতি কোনো অলৌকিক সাফল্যের নয় বলে জানান প্রমিতি। শুরুতে কোনো বিশাল দর্শকের সাড়া ছিল না, লাইক বা কমেন্টের সংখ্যাও ছিল হাতেগোনা। তবে সেই প্রাথমিক নিশ্চুপ পরিস্থিতি তাকে দমাতে পারেনি।

প্রথমদিকের কম সাড়ায় ভেঙে না পড়ে তিনি নজর দেন বিষয়বস্তুর গুণগত মান বাড়ানোর দিকে। কন্টেন্টের নান্দনিক উপস্থাপনা, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, নিখুঁত এডিটিং এবং নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের ওপর তিনি জোর দিতে শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে যা সাধারণ দর্শককে আকৃষ্ট করতে শুরু করে এবং প্রমিতির কাজকে করে তোলে আরও গোছানো। আজকের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে প্রতিনিয়ত হাজারো নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছে, সেখানে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। ফ্যাশন সচেতনতার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের নানা ইতিবাচক দিক সাবলীলভাবে তুলে ধরার ক্ষমতাই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

বহুমুখী প্ল্যাটফর্মে প্রমিতির শক্ত অবস্থান

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর কাজের ধরন ও অ্যালগরিদম ভিন্ন। ফেসবুকের অডিয়েন্স যেভাবে কন্টেন্ট গ্রহণ করে, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের তরুণ দর্শক ঠিক সেভাবে গ্রহণ করে না। চার ধরনের প্রধান প্ল্যাটফর্মেই সমান ছন্দে কাজ করা তাই বেশ চ্যালেঞ্জিং। এই বিষয়ে আলাপকালে জানা যায়, বিভিন্ন বয়সের ও মানসিকতার অডিয়েন্সের রুচি বুঝে কনটেন্ট সমন্বয় করার দক্ষতাই তাকে এক প্ল্যাটফর্মের গণ্ডি পেরিয়ে পুরো ডিজিটাল অঙ্গনে একটি শক্ত ভিত্তি এনে দিয়েছে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ