আজঃ মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামের পটিয়ার সেই কেন্দ্রের বাইরে সড়ক অবরোধ, কেন্দ্র ভোটার শূন্য

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে স্থগিত হওয়া পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুনর্ভোটের মধ্যে সড়ক অবরোধ করেছে একজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীরা।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রের কাছে পিঙ্গলার টেক এলাকায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় অবরোধকারীরা কেন্দ্রের পথে থাকা এক প্রবাসী ভোটারের মাথা ফাটিয়ে দেয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। আহত ব্যক্তি একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন৷ আবার আরেক প্রার্থীর লোকজন দাবি করেছেন, তাদের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, এখন কোনো বাধা নেই। কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হচ্ছে। স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, পুলিশের ধাওয়ায় প্রথমে অবরোধকারীরা রাস্তা ছাড়লেও পরে তারা ফিরে আসে এবং বড় বড় কাটা গাছ রাস্তায় ফেলে রাখে। তখন ছবি তোলার চেষ্টা করলে অবরোধকারীরা সাংবাদিকদের হুমকি দেয় । পরে পরিচয় পেয়ে তারা কয়েকজন সাংবাদিকদের ছেড়েও দেয়। আহত ভোটার সিদ্দিক আহমদ ফারুক বলেন, আমি ভোট দিতে যাচ্ছিলাম। লাঠি হাতে উড়োজাহাজ মার্কার ব্যাজ পরা কয়েকজন ছেলে আমার মাথায় মেরেছে। চার ধাপের উপজেলা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট চলছে ৬০ উপজেলায়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে বিরতিহীনভাবে ভোট চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সকালে এই কেন্দ্রে শতশত মানুষ লাইনে দাঁড়ান ভোট দেওয়ার জন্য। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়। ওই সময়ে পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১০টি বুথের সামনেই ভোটারের লাইন দেখা যায়। কিন্তু সড়ক অবরোধের পর সাড়ে ১০টার দিকে আটটি বুথই ফাঁকা হয়ে যায় বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস। তিনি বলেন, সকাল ১০টা পর্যন্ত ৯২৩ ভোট পড়েছে। যা মোট ভোটের ২৫ শতাংশ। কেন্দ্রে কোনো সমস্যা নেই। গত ২৯ মে তৃতীয় ধাপে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হয়। সেদিন সকালে কাশিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করে দুই শতাধিক বহিরাগত। তারা ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল ও কালিসহ ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে চলে যায়। ওই দিন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন। ওই রাতে স্থগিত কেন্দ্রটি বাদে পটিয়া উপজেলা পরিষদের ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৭টির ফল ঘোষণা করা হয়। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবু ছালেহ মোহাম্মদ শাহরিয়ার (উড়োজাহাজ) ২৩ হাজার ৮৫০ ভোট এবং নিকটতম এমদাদুল হাসান (বই) ২৩ হাজার ৭৩ ভোট পান।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাজেদা বেগম শিরু (কলস) ২৪ হাজার ৮৯৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকেন। তার নিকটতম সাজেদা বেগম (প্রজাপতি) ২৪ হাজার ৭৩১ ভোট পান। পূর্ব পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩৬১৫ জন। ফলে সেদিন দুই ভাইস চেয়ারম্যান পদেই জয়-পরাজয় ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। তািই এখানে পুনর্ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাজেদা বেগম শিরু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখে দুস্কৃতকারীরা সড়ক অবরোধ করেছে। সকাল থেকে মানুষ ভোট দিতে দেখে তারা ভয় পেয়েছে। প্রশাসন সড়কের বাধা দূর না করলে ভোটাররা ভয়ে কেন্দ্রে আসবে না। এই কেন্দ্রে ভোটারদের চলাচলের নিরাপত্তা চেয়ে ৩ জুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন মাজেদা বেগম শিরু। তখন রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ কর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন সহ সার্বিক নিরাপত্তা গ্রহণের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। সকাল থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিমরান মোহাম্মদ সায়েক ও পটিয়া থানার ওসি জসিম উদ্দিন কেন্দ্রটিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মাইন বিস্ফোরণে আহত যুবক চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়ায় মিয়ানমার সীমান্তের কাছে মাইন বিস্ফোরণে মো. শাকের (২৫) আহত এক যুবককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহত অবস্থায় তাকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়।মো. শাকের কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এলাকার আমির হোসেনের ছেলে।

হাসপাতালে আনয়নকারীর দেওয়া তথ্যমতে, মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কাজ করার সময় হঠাৎ মাইন বিস্ফোরণ হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, মাইন বিস্ফোরণে আহত যুবককে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আসা চট্টগ্রামে ১ কোটি ২১ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট জব্দ, আটক-২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, শুঁটকি ও কার্গো বোটসহ ২ জনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এসব পণ্যগুলো শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আসছিল বলে কোস্ট গার্ড জানায়। সোমবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন চায়নাঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদী দিয়ে চট্টগ্রামে প্রবেশ করবে বলে গোপন খবরের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দুপুর ২টায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন সন্দেহজনক ১টি কার্গো বোটে তল্লাশি করে অবৈধভাবে শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে আসা প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ হাজার ২৭০ প্যাকেট বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশিসিকগারেট, ১ হাজার ৫০ কেজি শুঁটকি ও পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোটসহ ২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দকরা আলামত ও আটক পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পতেঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানান কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা।

আলোচিত খবর

চরম বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধাবস্থায় দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। শনিবার নতুন করে বাতিল হয়েছে আরো ১২টি ফ্লাইট। এই টানা ৮ দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শ্রমিক। অনেক যাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধাবস্থার কারণে দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এয়ারফিল্ডগুলো খুলে দিলেই পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী তাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে তাদের মনে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা সেখানের এয়ারফিল্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা রি-শিডিউল করা নিয়ে এয়ারলাইনস অফিসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার সারাদিনে ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার।এয়ার আরাবিয়ারের ২টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। সালাম এয়ারের ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার।
পুরো সূচি বিপর্যস্ত হলেও শনিবার সীমিত কিছু ফ্লাইট সচল রয়েছে। এর মধ্যে সালাম এয়ারের মাস্কাট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি (ওভি-৪০১ ও ওভি-৪০২) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মদিনা (বিজি-১৩৮) ও মাস্কাট (বিজি-১২২) থেকে আসা দুটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ